দিল্লিতে নবনিযুক্ত আমেরিকার রাষ্ট্রদূত সের্গিয়ো গোর সোমবার প্রথম এলেন দূতাবাসে। সে দিন প্রথামাফিক আমেরিকার দূতাবাসের সব কর্মী হাজির তো ছিলেনই, অভিনব ভাবে ডাকা হল সংবাদমাধ্যমকেও। অর্থাৎ সে দিনই প্রথম জনসমক্ষে দেখা গেল তাঁকে। রাষ্ট্রদূত বুলেটপ্রুফ গাড়ির কনভয় নিয়ে এলেন, মঞ্চে উঠে দাঁড়ালেন, তার পর বাজানো হল দু’টি জনপ্রিয় গান। ষাটের দশকের গান ‘হোল্ড অন আয়্যাম কামিং’ মঞ্চে ওঠার সময় বাজানোর জন্য তিনি নিজে নির্বাচিত করেছিলেন। সঙ্গে লাউডস্পিকারে বাজানো হল ‘ওয়াইএমসিএ’। প্রসঙ্গত বিখ্যাত এই গান ডোনাল্ড ট্রাম্পের খুব প্রিয়। প্রচারের সময় তিনি মঞ্চে উঠলে এ গান বাজে, তিনি গানের সঙ্গে নাচেন। নতুন রাষ্ট্রদূত না নাচলেও করতালির ঝড় উঠল। তাঁর পূর্বসূরি এরিক গারসেটি ২০২৩-এ যখন প্রথম আমেরিকার দূতাবাসে এসেছিলেন, তখনও হইচই পড়েছিল কারণ তিনি রঙিন সুসজ্জিত অটোরিকশায় চেপে এসেছিলেন।
নতুন: ভারতে আমেরিকার রাষ্ট্রদূত নিযুক্ত হলেন সের্গিয়ো গোর। ছবি: পিটিআই।
সাইকেল-বিদ্বেষ?
দিল্লিতে বায়ুদূষণ এ যাত্রায় চরম মাত্রায়। সরকারের পরামর্শ, তিন-চার জন মিলে একটি গাড়িতে আসুন। অথবা জোর দেওয়া হচ্ছে সাইকেল চালিয়ে অফিসে আসায়। সেই সাইকেল চালিয়ে অফিসে আসতে গিয়েই রোজ সমস্যায় পড়ছেন বিএসএফ-এর এক আধিকারিক। ওই অফিসারের নিজের বাড়ি থেকে সিজিও কমপ্লেক্সের দূরত্ব প্রায় পাঁচ কিলোমিটার। স্যুট, টাই, জুতো, মাথায় সাইকেলের হেলমেট পরে সিজিও ভবনে প্রবেশের সময়ে কার্যত ফি-দিনই আটকে দিচ্ছেন দরজায় মোতায়েন নিরাপত্তারক্ষীরা। তিনি সিজিও-তে কাজ করেন শুনেও রেহাই নেই। পরিচয়পত্র দেখিয়ে তবেই প্রবেশের ছাড়পত্র পাচ্ছেন। অথচ, চার চাকার গাড়ি থাকলে তাঁদের আটকানোর কোনও প্রশ্নই নেই। অফিসারের আক্ষেপ, “সবই মানসিকতার খেলা।” ভবিষ্যতে অনায়াসে যাতায়াতে গাড়ির মতো সাইকেলেও ‘পার্কিং স্টিকার’ লাগাবেন কি না, ভাবছেন ওই অফিসার।
পাল্টানোর পালা?
ভোজপুরি গায়ক নায়ক রীতেশ পান্ডে ‘পাল্টুরাম’ হলেন কি না, তাই নিয়ে গুঞ্জন রাজধানীতে। বিহারে প্রশান্ত কিশোরের দল জনসুরাজ পার্টি ভোটে হোঁচট খেয়ে পড়ার পর তিনি দলত্যাগী হয়েছিলেন। সম্প্রতি দিল্লিতে একটি সেলেব্রিটি ক্রিকেট ম্যাচে ভোজপুরি নায়ককে কাঁধ ঘষতে দেখা গিয়েছে বিজেপির নেতাদের সঙ্গে। তার পরই গুঞ্জন বেড়েছে। উত্তর-পূর্ব দিল্লির সাংসদ মনোজ তিওয়ারি এবং দিল্লি বিজেপির প্রধান বীরেন্দ্র সচদেবের সঙ্গে মাঠের কোণে তাঁকে দীর্ঘ সময় ফিসফিস করতে দেখেছেন বাকি ফিল্ডার বোলাররা! বিহারের করগহর আসনে হেরে যাওয়া এই রীতেশই কিন্তু ম্যাচের আগের দিনই এক্স হ্যান্ডলে জনসুরাজ পার্টির সদস্যপদ ছাড়ার কথা ঘোষণা করে লিখেছিলেন, “কোনও রাজনৈতিক দলের সক্রিয় সদস্য হয়ে মানুষের সেবা করা খুবই কঠিন।”
নতুন খেলা
আমেরিকায় আবিষ্কৃত পিকলবল টেনিস ও ব্যাডমিন্টনের সংমিশ্রণ, এই খেলা অপেক্ষাকৃত সহজ, বলও প্লাস্টিকের, তুলনামূলক ভাবে হালকা। সে দেশে সকলের প্রিয়। খেলেন প্রবাসী ভারতীয়েরাও। এ বার এ দেশেও ক্রমশ জনপ্রিয় হচ্ছে, রয়েছে অল ইন্ডিয়া পিকলবল অ্যাসোসিয়েশনও। রাজনীতিবিদদের মধ্যে এই খেলার ধুম পড়েছে, অগ্রগণ্য কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া। বহু দিন ধরে এই খেলায় যোগ দিতে দেখা যাচ্ছে জ্যোতিরাদিত্যকে, দিল্লিতে খেলেছেন, গুনা-য় তাঁদের পূর্বপুরুষের প্রাসাদেও পিকলবল প্রবর্তন করেছেন। এ বার তিনি গোয়ালিয়রের শিবপুরীতে পিকলবল ক্লাব উদ্বোধন করলেন, সে দিন অনেক ক্ষণ খেলতেও দেখা গিয়েছে তাঁকে।
আগ্রহী: জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া।
ঝকঝকে সূচনা
আগামী সপ্তাহেই দায়িত্ব নিতে চলেছেন নতুন বিজেপি সভাপতি। বর্তমান কার্যনির্বাহী সভাপতি নিতিন নবীনের হাতেই দলের ভার ন্যস্ত হওয়া প্রায় ঠিক। বুধবার মকর সংক্রান্তি উপলক্ষে বিজেপির পণ্ডিত দীনদয়াল মার্গের সদর দফতর ছুটি থাকলেও, কর্মব্যস্ততা ছিল প্রবল। সকালে বর্তমান সভাপতি জে পি নড্ডা ও কার্যকনির্বাহী সভাপতি নিতিন মকর সংক্রান্তি উপলক্ষে দই-চিঁড়ে খান, খাওয়ান উপস্থিত সকলকে। তার পরেই শুরু গোটা ভবনের সাফাই অভিযান। নতুন সভাপতি দায়িত্ব নিতে চলেছেন, তার আগে দলীয় দফতরে সাফ-সাফাই করে, টাইলস-মার্বেল ঘষে-মেজে ঝকঝকে তকতকে করে রাখতে চাইছে দল।