US-Iran Conflict

জ্বালানি, সারের জোগান নিয়ে চিন্তার কারণ নেই! সংসদে বার্তা মোদীর, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে চাইলেন বিরোধীদের সাহায্যও

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি যে উদ্বেগজনক, বক্তৃতার শুরুতেই তা স্বীকার করে নেন প্রধানমন্ত্রী। ভারতে জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে হরমুজ় প্রণালীর গুরুত্ব যে অপরিসীম সে কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৩ মার্চ ২০২৬ ১৪:৫৯
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সোমবার সংসদে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সোমবার সংসদে। ছবি: সংগৃহীত।

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে লোকসভায় বক্তৃতা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেখানে তিনি দেশে জ্বালানি, সারের জোগান নিয়ে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেন। তিনি জানান, ভারতে যাতে জ্বালানি সঙ্কট দেখা না যায়, সে দিকে নজর দেওয়া হয়েছে। এলপিজি (রান্নার গ্যাস)-র উৎপাদন বৃদ্ধি করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। যুদ্ধের সঙ্কট দীর্ঘমেয়াদি হবে, এ কথা জানিয়ে বিরোধীদেরও সাহায্য চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর কথায়, “সঙ্কটের মুখে সংসদ একজোট হোক, এটাই কাম্য।”

Advertisement

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি যে উদ্বেগজনক, বক্তৃতার শুরুতেই তা স্বীকার করে নেন প্রধানমন্ত্রী। ভারতে জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে হরমুজ় প্রণালীর গুরুত্ব যে অপরিসীম সে কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তিনি বলেন, “হরমুজ় প্রণালী অবরুদ্ধ করে রাখা কিংবা পণ্যবাহী জাহাজে হামলা চালানো গ্রহণযোগ্য নয়। এই সূত্রেই তিনি আশ্বাসের সুরে জানান, দেশে পেট্রল, ডিজ়েল এবং গ্যাসের জোগান সুনিশ্চিত রাখতে সব ধরনের চেষ্টা করছে কেন্দ্র।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের সরকার চেষ্টা করছে যাতে পেট্রল, ডিজ়েল এবং গ্যাসের জন্য কোনও পরিবারকে ভুগতে না হয়।।” একই সঙ্গে তাঁর সংযোজন, “ভারত তার প্রয়োজনের ৬০ শতাংশ গ্যাস অন্য দেশ থেকে কিনে থাকে। আমরা আমাদের দেশেও এলপিজি উৎপাদনের পরিমাণ বাড়িয়েছি।”

প্রধানমন্ত্রী জানান যে, গত ১১ বছরে তেল আমদানির ক্ষেত্রে বৈচিত্র্য বাড়িয়েছে ভারত। আগে ২৭টি দেশ থেকে জ্বালানি আমদানি করত নয়াদিল্লি। মোদী জানিয়েছেন, এখন ৪১টি দেশ থেকে জ্বালানি আমদানি কথায়। মোদী এ-ও জানান যে, ভারতে ৫৩ লক্ষ মেট্রিক টন জ্বালানি রয়েছে। তবে জ্বালানির জোগান অব্যাহত রাখতে ভারতের দিকে আসা তেলবাহী, গ্যাসবাহী জাহাজগুলির উপর নজর রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

তেল, গ্যাসের পাশাপাশি দেশে যথেষ্ট পরিমাণ কয়লা, সার মজুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আমদানি করা সারের পরিমাণ কমলেও তাতে অসুবিধা হবে না। সারের দাম বাড়লেও কৃষকেরা আগেই দামেই সার পাচ্ছেন।” কৃষকদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, “সরকার তাঁদের সাহায্য করতে সব ধরনের উদ্যোগ নিচ্ছে।” দেশে যথেষ্ট পরিমাণ কয়লার জোগান রয়েছে বলেও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

পরিশেষে আরও এক বার শান্তি এবং কূটনীতির পথে সমস্যা সমাধানের কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আমরা আগেই বলেছি পারস্পরিক আলোচনা এবং কূটনীতিই একমাত্র সমাধান। যুদ্ধ মানবতার উপকারে লাগে না। এটি (যুদ্ধ) শান্তিপূর্ণ উপায়ে বন্ধ করার জন্য ভারত সব পক্ষকে অনুরোধ করছে।”

Advertisement
আরও পড়ুন