RG Kar Lift Death

আরজি করে লিফ্‌টে মৃত্যু: কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণ, মামলা দায়েরের অনুমতি

গত শুক্রবার ভোরে আরজি করের ট্রমা কেয়ার ভবনের লিফ্‌টে আটকে মৃত্যু হয়েছে দমদমের বাসিন্দা অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের। পুত্রের চিকিৎসা করানোর জন্য আরজি করে গিয়েছিলেন তিনি।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২৩ মার্চ ২০২৬ ১৪:১৮
PIL in Calcutta High Court over death in elevator at RG Kar Medical College and Hospital

আরজি করে লিফ্‌টে মৃত্যুর ঘটনায় কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের দৃষ্টি আকর্ষণ। — ফাইল চিত্র।

আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ এবং হাসপাতালের লিফ্‌টে আটকে দমদমের বাসিন্দার মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হল। সোমবার প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের গোচরে আনা হয় বিষয়টি। মামলাকারীর আবেদন শুনে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করার অনুমতি দেন তিনি। মামলা দায়েরের পরই শুনানির দিন ধার্য করা হবে।

Advertisement

গত শুক্রবার ভোরে আরজি করের ট্রমা কেয়ার ভবনের লিফ্‌টে আটকে মৃত্যু হয়েছে দমদমের বাসিন্দা অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের। পুত্রের চিকিৎসা করানোর জন্য আরজি করে গিয়েছিলেন তিনি। চিকিৎসার মাঝেই পুত্র শৌচালয়ে যেতে চায়। যেখানে তাকে রাখা হয়েছিল, তার আশপাশে কোথাও শৌচালয় ছিল না। সেই কারণে সন্তানকে নিয়ে অরূপ এবং তাঁর স্ত্রী লিফ্‌টে ওঠেন। অভিযোগ, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে সেই লিফ্‌ট চলে গিয়েছিল নিয়ন্ত্রণের বাইরে। বেসমেন্টে দীর্ঘ ক্ষণ আটকে থাকেন অরূপেরা। মনে করা হচ্ছে, লিফ্‌টের দরজায় আটকে সিমেন্টের দেওয়ালের সঙ্গে ঘষটে মৃত্যু হয় অরূপের।

আরজি করের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। আবার হাসপাতালের পরিকাঠামো নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। কার গাফিলতিতে এই ধরনের ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে আলোচনা, তর্ক-বিতর্ক চলছে। ২০২৪ সালের অগস্টে এই আরজি করেই রাতের ডিউটিতে কর্তব্যরত মহিলা চিকিৎসককে ধর্ষণ করে খুন করা হয়। সে সময় হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। পরে প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকে পরিকাঠামো উন্নয়ন, নজরদারি ইত্যাদি নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় আন্দোলনরত জুনিয়র ডাক্তারদের। সেই বৈঠকে আশ্বাসও মেলে।

আরজি করের ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে কলকাতা পুলিশ। অনিচ্ছাকৃত হত্যার মামলা রুজু হয়েছে। লালবাজারের হোমিসাইড বিভাগ তদন্ত করছে। তিন লিফ্‌টম্যান এবং দুই নিরাপত্তারক্ষীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আপাতত তাঁরা পুলিশি হেফাজতে। সেই আবহে আরজি করের ঘটনা গড়াল আদালতে।

এর মধ্যে সোমবার আরজি কর হাসপাতালের ট্রমা কেয়ারে ফের অব্যবস্থার অভিযোগ ওঠে। চিকিৎসা করাতে এসে হাসপাতালের অব্যবস্থার কারণে এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছে পরিবার। অভিযোগ, শৌচালয়ে যাওয়ার জন্য স্ট্রেচারটুকুও মেলেনি। হাঁটতে গিয়ে অচৈতন্য হয়ে পড়েন বিশ্বজিৎ সামন্ত নামের ওই প্রৌঢ়। তার পরেই তাঁর মৃত্যু হয়। সব মিলিয়ে, পরিকাঠামো প্রশ্নে বিদ্ধ হচ্ছেন আরজি কর কর্তৃপক্ষ।

Advertisement
আরও পড়ুন