ওয়াশিংটন জুড়ে নানান সরকারি ভবনের গায়ে ঝুলছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছবি দেওয়া বিশাল ব্যানার। সরকারি, আধা-সরকারি বহু প্রকল্প ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নাম জুড়ে দেওয়া হচ্ছে। ট্রাম্পের দ্বিতীয় দফা যেন আগাগোড়া তাঁর নাম আর মুখচ্ছবিরই প্রচার। প্রেসিডেন্ট হোয়াইট হাউসে বিশাল বলরুম তৈরি করাচ্ছেন, রাজধানীতে বিজয়তোরণ তৈরির ভাবনা চলছে— সবই আনখশির ট্রাম্প-ময়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, রিয়াল এস্টেট ব্যবসায়ী হিসাবে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্র্যান্ড’ তো বহু পুরনো, সেই ‘ব্র্যান্ডিং’ এ বার তিনি সর্বোচ্চ প্রশাসক হিসাবেও করছেন, এই যা তফাত। আর সমালোচকদের দাবি, ও-সব বাজে কথা, এই মানুষটি আগাগোড়া আত্মপূজায় বিশ্বাসী। এবং, গোটা দুনিয়ায় ট্রাম্পই তো একমাত্র উদাহরণ নন— যে দিকেই তাকানো যাক, চোখে পড়বেন এমনই কোনও সর্বাধিপত্যকামী নেতা। কেউ সরাসরি নিজের নাম চাপিয়ে দেন রাষ্ট্রীয় প্রকল্পে, কেউ আবার স্বনামমাহাত্ম্য প্রচারে ভরসা করেন কষ্টকল্পিত সংক্ষিপ্তকরণের উপরে। দক্ষিণপন্থী রাজনীতির এই রূপটি শুধু আমেরিকায় নয়, গোটা দুনিয়াতেই নতুন— সেখানে নেতা আর রাষ্ট্রের মধ্যে ব্যবধান বিলীয়মান।
বার্তা: সরকারি ভবনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যানার, সামনে প্রতিবাদী নাগরিক। ছবি: রয়টার্স।
ডিজিটাল মুক্তি
আমেরিকা ও ইজ়রায়েল যুদ্ধ শুরু করার পর নজরদারি, গুপ্তচরবৃত্তি ও সাইবার হামলা প্রতিরোধের জন্য ইরান সরকার দেশে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে। ৮৮ দিন পর আন্তর্জাল ফিরল ইরানে, তবে পরিষেবা মিলছে ‘নিয়ন্ত্রিত’। তবুও তা ইরানের মানুষের কাছে কারামুক্তির সমান। প্রায় তিন মাস স্বজন-বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগহীন, বহির্বিশ্ব থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন ছিলেন তাঁরা, অনলাইন ব্যবসা-বাণিজ্য ছিল থেমে। তবে স্বস্তি ফিরলেও উদ্বেগ পুরোপুরি কাটেনি: নানান বিধিনিষেধ, নজরদারির অভিযোগ অব্যাহত এখনও। ইন্টারনেট এখন মৌলিক পরিষেবা বলে বহু দেশেই স্বীকৃত, সেখানে দেশের নিরাপত্তার নামে গোটা দেশকে মাসাধিক কাল ডিজিটাল আঁধারে ঠেলে দেওয়া রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের চরম নিদর্শন। ইন্টারনেট সংযোগ ফিরলেও স্বাধীনতা কি আদৌ ফিরেছে— এ প্রশ্ন জেগে রয়েছে তাই।
যুদ্ধের মাঝে ইবোলা
গোষ্ঠী সংঘর্ষের জেরে ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো-য় ব্যাহত হচ্ছে ইবোলা মোকাবিলার কাজ। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, এ হল ইবোলার একটি বিরল ‘স্ট্রেন’, যার টিকা বা ওষুধ নেই। ইতিমধ্যেই সহস্রাধিক মানুষের মধ্যে উপসর্গ স্পষ্ট। আক্রান্তদের ঠিকমতো রোগনির্ণয় ও চিকিৎসাও করা যাচ্ছে না, কারণ রাস্তাঘাট বেহাল, সাহায্যকর্মীরা আক্রান্ত-এলাকায় পৌঁছতে পারছেন না। ও দিকে গোষ্ঠী সংঘর্ষের জেরে ঘটছে ব্যাপক পরিযাণ, আক্রান্তদের অনেকেই আশ্রয় নিচ্ছেন জনাকীর্ণ উদ্বাস্তু শিবিরে। সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায়, ঠিক সময়ে চিকিৎসা না মেলায় দুর্বল হচ্ছে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা রোগের প্রাদুর্ভাব কমাতে অবিলম্বে সংঘর্ষ-বিরতির ডাক দিয়েছে।
বিক্ষোভের আগুন
আন্দোলনে উত্তাল বলিভিয়া। প্রায় মাসাধিক কাল ধরে প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাজ়-এর পদত্যাগের দাবিতে দেশের নানা প্রান্তে অবরোধ বিক্ষোভ করছেন খনিশ্রমিক, কৃষক, জনজাতি গোষ্ঠীর মানুষ। বিক্ষোভের শুরু পাজ়-এর প্রস্তাবিত এক ভূমি সংস্কারের সূত্রে, যদিও তাঁর অভিযোগ, এর পিছনে প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেস-এর হাত আছে। রাষ্ট্রপ্রধানের উপরে চাপও বাড়ছে, কারণ আন্দোলনের জেরে দেশের নানা এলাকায় জল, জ্বালানি, ওষুধের সঙ্কট দেখা দিয়েছে। এর মাঝে বলিভিয়ার কংগ্রেস এমন এক বিল পাশ করেছে, যাতে প্রেসিডেন্টের পক্ষে জরুরি অবস্থা ঘোষণা ও বিক্ষোভ দমনে সেনা মোতায়েন সহজ হয়। পাজ় মন্ত্রিসভা পুনর্গঠন করে, সমাজের নানা অংশের সঙ্গে আলোচনার জন্য একটি পরিষদ গঠনের মাধ্যমে পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা করেছেন বটে, কিন্তু কাজ হয়নি।
বিক্ষুব্ধ: বলিভিয়ার প্রতিবাদীরা। ছবি: রয়টার্স।
ফুটছে বিশ্ব
পশ্চিম ইউরোপে নজিরবিহীন তাপপ্রবাহ। ব্রিটেন, ফ্রান্স, ইটালি, জার্মানি, স্পেন, আয়ারল্যান্ড এমনকি সুইৎজ়ারল্যান্ডে ‘বসন্ত’ অস্বাভাবিক গরম, প্রত্যক্ষ কারণ ‘হিট ডোম’ বা তাপ-গম্বুজ। ইউরোপের উপরে উচ্চচাপের বলয়, তার মধ্যে উত্তপ্ত বায়ু আটকে পড়েছে। আমেরিকায় অবস্থা তথৈবচ। রাষ্ট্রগুলি জলবায়ু-নীতি না পাল্টালে শতাব্দী-শেষে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা তিন ডিগ্রি বাড়তে পারে। বহু দেশেরই আবাসন ও সার্বিক পরিকাঠামো যা, এত গরম সইবে না। সুতরাং, জীবন ও জগতের ঘোর দুর্দিন সামনে!