হাওড়া ময়দান থেকে সেক্টর ফাইভ পর্যন্ত ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো বর্তমানে কলকাতার পরিবহণ ব্যবস্থার মেরুদণ্ড। কিন্তু এই পরিষেবায় ‘যাত্রী-সংখ্যা’ এবং ‘মালপত্রের আয়তন’-এর মধ্যে যে অসামঞ্জস্য তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে একটি বিস্তারিত ও তুল্যমূল্য আলোচনা জরুরি। যেমন, এক জন যাত্রী মেট্রোর কামরায় যে ন্যূনতম জায়গা দখল করেন, একটি বড় ট্রলি ব্যাগ বা বস্তা তার প্রায় দ্বিগুণ জায়গা নেয়। মেট্রো রেলের টিকিট মূলত ‘যাত্রী পরিবহণ’-এর জন্য, ‘কার্গো’ বা মালপত্রের জন্য নয়। বর্তমান ভিড়ের নিরিখে দেখলে, একটি বড় সুটকেস বা বস্তা মানে অন্তত দু’জন যাত্রীকে প্ল্যাটফর্মে দাঁড় করিয়ে রাখা। এটি নৈতিক ভাবে কতটা সমর্থনযোগ্য? দ্বিতীয়ত, বিমান পরিষেবায় ওজনের ধরাবাঁধা নিয়ম থাকে, কারণ সেখানে জ্বালানি ও ভারসাম্য গুরুত্বপূর্ণ। মেট্রোর ক্ষেত্রে সমস্যাটি ওজনের চেয়েও বেশি আয়তনের। দূরপাল্লার ট্রেনে মালপত্রের জন্য আলাদা ‘ব্রেক ভ্যান’ থাকে, কিন্তু মেট্রোর সবটাই যাত্রিবাহী কামরা। তাই এখানে মালপত্র নিয়ন্ত্রণের নিয়ম বিদেশের টিউব রেল বা মেট্রোর মতো কঠোর হওয়া প্রয়োজন। তৃতীয়ত, অতিরিক্ত মালপত্রের উপর চড়া হারে শুল্ক বসানোর প্রস্তাবটি কেবল রাজস্ব আদায়ের জন্য নয়, বরং এটি একটি নিরুৎসাহ করার প্রক্রিয়া হিসেবে কাজ করা উচিত। যখন এক জন যাত্রী দেখবেন যে মালপত্রের জন্য মেট্রো টিকিটের তিন গুণ টাকা দিতে হচ্ছে, তখন তিনি পণ্য পরিবহণের জন্য বিকল্প রাস্তা খুঁজবেন। এতে মেট্রোর উপর চাপ কমবে। চতুর্থত, অনিয়ন্ত্রিত মালপত্র কেবল ভিড় বাড়ায় না, এটি নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে। মেটাল ডিটেক্টরে বড় মালপত্র পরীক্ষার সময় দীর্ঘ লাইন পড়ে যাচ্ছে, যা স্টেশনের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে মন্থর করে দিচ্ছে। এ ছাড়া অটোমেটিক দরজার সেন্সরে মালপত্রের ধাক্কা লাগলে যান্ত্রিক গোলযোগের সম্ভাবনা থাকে। কর্তৃপক্ষের উচিত প্রতিটি স্টেশনে লাগেজের আয়তন মাপার জন্য ‘সাইজ়-ফ্রেম’এর ব্যবস্থা করা। নির্দিষ্ট ফ্রেমের বাইরে গেলেই সেটিকে মালবাহী পণ্য হিসেবে আলাদা কাউন্টারে পাঠানো হোক।
আশা করি, কর্তৃপক্ষ বাণিজ্যিক পণ্য এবং ব্যক্তিগত লাগেজের মধ্যে একটি স্পষ্ট সীমারেখা টেনে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি লাঘব করবেন।
দেবাশিস চক্রবর্তী, মাহেশ, হুগলি
স্থানের নামে
সদ্যনির্বাচিত রাজ্য সরকারের কাছে সবিনয় অনুরোধ, মেট্রো রেল দফতরের সঙ্গে সমন্বয় সাধন করে কলকাতার মেট্রো রেলের অরেঞ্জ এবং ব্লু লাইনের যে স্টেশনগুলি স্থান-নামের সঙ্গে সম্পর্কবিহীন ভাবে মনীষীদের নামে রাখা হয়েছে, সেগুলোকে সংশ্লিষ্ট স্থান-নামে ফিরিয়ে দেওয়া হোক। কবি সুকান্ত, হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, নেতাজি, সূর্য সেন, গীতাঞ্জলি, কবি নজরুল, শহিদ ক্ষুদিরাম, কবি সুভাষ— এ রকম স্টেশনগুলিকে স্থান-নামে চিহ্নিত করলে অসংখ্য সাধারণ মানুষ যাতায়াতের সময় উপকৃত হবেন।
এর সঙ্গে যে মেট্রো পথের অনেকটাই এখনও শুরু হয়নি, সেই অরেঞ্জ লাইনের সব স্টেশনে কলকাতার ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোর মতো স্ক্রিন ডোর ব্যবস্থা চালু করা যায় কি না, ভেবে দেখতে অনুরোধ জানাই।
ভাস্কর রায়, কলকাতা-৭৭
বন্ধ স্টেশন
কবি সুভাষ মেট্রো স্টেশন (ব্লু লাইন) আজ প্রায় সাত-আট মাস ধরে কার্যত বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে। এই দীর্ঘ সময় ধরে নিউ গড়িয়া থেকে দমদম বা দক্ষিণেশ্বরের দিকে মেট্রো পরিষেবা বন্ধ থাকায় সাধারণ যাত্রীদের চরম দুর্ভোগের মুখে পড়তে হচ্ছে। নিউ গড়িয়া স্টেশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি জংশন। এক দিকে যেমন এই স্টেশনের মাধ্যমে শিয়ালদহ সাউথ সেকশনের বিপুল সংখ্যক যাত্রী প্রতি দিন যাতায়াত করেন, তেমনই এখান থেকে মেট্রো পরিষেবা ইএম বাইপাস ধরে রুবির দিকেও সংযোগ স্থাপন করে (অরেঞ্জ লাইন)। কিন্তু ব্লু লাইনের দিকটি বন্ধ থাকায় শুধু আশপাশের বাসিন্দারাই নন, দক্ষিণ শাখা থেকে আগত হাজার হাজার যাত্রীও মারাত্মক সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হল, এখনও পর্যন্ত সাধারণ মানুষ জানতে পারছেন না কবে আবার কবি সুভাষ থেকে স্বাভাবিক নিয়মে মেট্রো পরিষেবা চালু হবে। মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষের তরফেও এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনও তথ্য বা সময়সীমা জানানো হচ্ছে না। নতুন সরকারের কাছে আমাদের আন্তরিক আবেদন, যে-হেতু এটি একটি কেন্দ্রীয় প্রকল্পের অন্তর্গত, তাই বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হোক।
অজয় দাশগুপ্ত, কলকাতা-৯৯
বিপজ্জনক
বর্তমানে রাস্তাঘাটে চলাচলকারী অনেক বড় ট্রাক ও পণ্যবাহী গাড়ির ইন্ডিকেটর ও পিছনের লাইট ঠিক ভাবে কাজ করে না। এর ফলে দিনে ও রাতে বা খারাপ আবহাওয়ায় অন্য গাড়িচালকদের বড় সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়, দুর্ঘটনার আশঙ্কা বেড়ে যায়।
অনেক সময় দেখা যায়, ট্রাক হঠাৎ দিক পরিবর্তন করছে বা রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে রয়েছে, কিন্তু ইন্ডিকেটর বা সতর্কতামূলক আলো জ্বলছে না। ফলে পিছনের গাড়িচালকরা সঠিক ভাবে বুঝতে না পেরে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে বাইক আরোহীদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠছে।
এই বিষয়ে ট্রাক মালিক ও চালকদের আরও দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন। নিয়মিত গাড়ির লাইট ও ইন্ডিকেটর পরীক্ষা করা উচিত। পাশাপাশি ট্র্যাফিক পুলিশের পক্ষ থেকেও নিয়মিত কঠোর নজরদারি ও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা করা দরকার, যাতে খারাপ লাইট বা ইন্ডিকেটরযুক্ত গাড়ি রাস্তায় না চলতে পারে। সামগ্রিক ভাবে সড়ক নিরাপত্তার স্বার্থে এই ধরনের সমস্যার দ্রুত সমাধান অত্যন্ত জরুরি।
সুরজ ঘোষ, মেমারি ১, পূর্ব বর্ধমান
টাই কেন
ইংরেজি মাধ্যম স্কুলগুলির দেখাদেখি এখন বহু বাংলা মাধ্যম স্কুলেও ইউনিফর্ম হিসেবে দেখা যাচ্ছে টাই পরার বাধ্যবাধকতা। অথচ আমাদের মতো গ্রীষ্মপ্রধান অঞ্চলে যেখানে বছরে আট-ন’মাসই কমবেশি প্রবল গরম অনুভূত হয়, সেখানে স্কুলের ভিতর গলার বোতাম আটকে রেখে টাই পরা অবস্থায় থাকা— এক জন শিক্ষার্থীর পক্ষে কষ্টকর শুধু নয়, স্বাস্থ্যের পক্ষেও ভাল নয়। এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট স্কুল কর্তৃপক্ষ বা প্রশাসনের চিন্তাভাবনা করার অনুরোধ রইল।
আকাশ বিশ্বাস, মগরা, হুগলি
ভাতা বৃদ্ধি
রাজ্যে নতুন সরকার গঠিত হতেই ঘোষণা করা হয়েছে, মহিলারা আগে যে মাসিক ১৫০০-১৭০০ টাকা পেতেন, সেটি এখন থেকে ৩০০০ টাকা হবে। অন্য দিকে বয়স্ক, বিধবা, বিশেষ ভাবে সক্ষম মানুষেরা পেতেন মাসে ১০০০, সেটি হতে চলেছে ২০০০ টাকা। কিন্তু এই পরিমাণও পর্যাপ্ত নয়। বিগত তৃণমূল সরকারের আমল থেকেই বয়স্ক, বিধবা, বিশেষ ভাবে সক্ষমরা যে পরিমাণ ভাতা পান, তা একেবারেই যথেষ্ট নয়।
এক জন বয়স্ক বা বিশেষ ভাবে সক্ষম মানুষের পক্ষে পরিশ্রম করে রোজগার করা সম্ভব নয়। অন্য দিকে, শারীরিক অক্ষমতার কারণে তাঁদের ওষুধপত্র এবং চিকিৎসার খরচও বিপুল। সুতরাং, ভাতার অঙ্ক সেই অনুযায়ী স্থির করা দরকার ছিল। কেন্দ্রীয় সরকার সত্তরোর্ধ্বদের প্রাধান্য দিয়ে তাঁদের আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করেছে। রাজ্যের নতুন সরকারের কাছে অনুরোধ, বয়স্ক, বিধবা বা বিশেষ ভাবে সক্ষমদের ভাতার পরিমাণ আরও কিছুটা বাড়ানো হোক।
শৌভিক বন্দ্যোপাধ্যায়, নবদ্বীপ, নদিয়া