Student Politics

সম্পাদক সমীপেষু: ছাত্রদের অধিকার

আজকাল ছাত্র-রাজনীতিও লেজুড়বৃত্তিকারী ছাত্র-রাজনীতিতে পরিণত হয়েছে। নিজস্ব চিন্তাধারা, আদর্শ, শিক্ষার্থীদের স্বার্থের পরিবর্তে দেশের মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলির নির্দেশ মেনে তাদের স্বার্থরক্ষায় কাজ করে।

শেষ আপডেট: ৩০ এপ্রিল ২০২৬ ০৭:০৮

মধুমিতা দত্তের ‘যে নির্বাচন হওয়ার কথা, হয়নি’ (৩০-৩) শীর্ষক প্রবন্ধটিতে তিনি যথার্থই লিখেছেন ছাত্র-নির্বাচনকে আইনি বাধ্যবাধকতা হিসাবে অবশ্যই দেখা উচিত। শিক্ষা এমন একটা জ্ঞান, যা শুধুমাত্র পুঁথিগত বিদ্যা শেখায় না, বরং জীবনের জটিল সত্যের পথও দেখায়। এক জন ছাত্র বা ছাত্রী শূন্য থেকে শুরু করে। কষ্ট, দারিদ্র, হতাশা, সমন্বয়, প্রতিযোগিতা পেরিয়ে তারা সাফল্যের রাস্তা খুঁজে পায়। তাই তারা শিক্ষা ও দর্শনকে একসূত্রে বাঁধতে পারে। ছাত্রজীবন থেকে রাজনীতিবিদ হয়ে উঠলে তাদের সর্বাঙ্গীণ বিকাশ হয়। দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সঙ্কল্প তারা তৈরি করতে পারে। দলীয় পতাকাবিহীন রাজনীতিতে শুধু গণতান্ত্রিক অধিকার নয়, গণতান্ত্রিক সুবিচার করার অধিকার প্রয়োগ করতে পারে। কলেজের পতাকাবিহীন রাজনীতি শিখে পরবর্তী জীবনে দলীয় পতাকা হাতে নিলেও জনস্বার্থের কথাই তারা বেশি ভাববে, বিবেক এবং ন্যায়ের পথে হাঁটবে। যেটা দেশ ও দশের পক্ষে ভাল।

কিন্তু আজকাল ছাত্র-রাজনীতিও লেজুড়বৃত্তিকারী ছাত্র-রাজনীতিতে পরিণত হয়েছে। নিজস্ব চিন্তাধারা, আদর্শ, শিক্ষার্থীদের স্বার্থের পরিবর্তে দেশের মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলির নির্দেশ মেনে তাদের স্বার্থরক্ষায় কাজ করে। ফলত, গণতান্ত্রিক অধিকারকে দাবিয়ে পেশিশক্তির জোর দেখানো, ক্যাম্পাসে সংঘাতমূলক কার্যক্রম, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজির মতো কাজে বেশি আগ্রহ দেখা যায়। বাড়তে থাকে জুলুম, হিংসা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মেয়েদের যৌন হেনস্থা।

এই সামাজিক অস্থিরতা শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করে, বাকি শিক্ষার্থীদের মেধা ও ব্যক্তিত্ব বিকাশের বদলে নিজেকে বাঁচানোর প্রবণতা তৈরি হয়। ছাত্রদের যৌক্তিক চিন্তাধারার প্রসার, সংস্কৃতি ও সম্মান প্রদর্শন, সৃজনশীলতার বিকাশ, সচেতন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার ক্ষমতা, এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার জন্য ছাত্রদের গণতান্ত্রিক অধিকার থাকা অত্যন্ত জরুরি।

গীতিকা কোলে, কলকাতা-৫২

কেন নির্বাচন

মধুমিতা দত্তের ‘যে নির্বাচন হওয়ার কথা, হয়নি’ অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। দীর্ঘ ন’বছর রাজ্যের অধিকাংশ কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্রাত্য থেকেছে ছাত্র সংসদের নির্বাচন। কিন্তু কেন? রাজ্যের সব নির্বাচন যদি সময়মতো হয়ে থাকে, তবে রাজ্যের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে ছাত্র সংসদের নির্বাচনে বাধা কেন? ছাত্র সংসদের এই নির্বাচনের গুরুত্ব বোঝা দরকার। এই নির্বাচন ছাত্রছাত্রীদের শুধুমাত্র ক্ষমতা প্রদর্শনের জন্য নয়, এর মাধ্যমে ভবিষ্যৎ সমাজ গঠনে নিজেকে তৈরি করা যায়। নির্বাচিত সদস্যদের অনেক দায়িত্ব থাকে। শিক্ষক নিয়মিত ক্লাস নিচ্ছেন কি না, পরীক্ষা সময়মতো হচ্ছে কি না দেখার প্রয়োজন যেমন আছে, ঠিক তেমনই পরীক্ষা সময়মতো না হওয়ার কারণ জানারও প্রয়োজন আছে। ঠিক সময়ে ফলাফল প্রকাশ করার দায়িত্ব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলির। উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে গ্রন্থাগারের গুরুত্ব অসীম। বিভিন্ন সময়ে রেফারেন্স বইয়ের প্রয়োজন হয় ছাত্রছাত্রীদের। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বার্ষিক বাজেটে নির্ধারণ করা হয় এই গ্রন্থাগারের জন্য নতুন বই ক্রয় ও পুরাতন বইয়ের সংরক্ষণের ব্যয়। শিক্ষা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মান বাড়াতে বার বার প্রয়োজন পড়ে কতৃর্পক্ষের সঙ্গে বিভিন্ন আলাপ-আলোচনার। এই সমস্ত কাজের সঠিক মূল্যায়নের জন্য ছাত্র সংসদের নির্বাচিত সদস্যদের প্রয়োজন। শিক্ষাঙ্গনে নির্বাচনের অধিকার শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কেড়ে নিলে তার অভিঘাত শুধুমাত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিসরেই সীমাবদ্ধ থাকে না, বৃহত্তর সমাজেও এই অগণতান্ত্রিকতার প্রভাব পড়ে।‌

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিতে সমাজের বিভিন্ন স্তরের ছাত্রছাত্রী ভর্তি হয়। অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী থাকে, যারা অর্থনৈতিক ভাবে দুর্বল। সেই সমস্ত ছাত্রছাত্রীর পড়াশোনার ক্ষেত্রে সাহায্য করা ছাত্র সংসদের এক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিভিন্ন তহবিল থেকে তাদের সাহায্য করা হয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শরীরচর্চা বা খেলাধুলার মান বৃদ্ধিতেও এই ছাত্র সংসদের ভূমিকা থাকে। নেতিবাচক দিকও অবশ্যই আছে। সব দিক বিবেচনা করেই শাসক দলের কাছে অনুরোধ, পেশিশক্তির উপর নির্ভরশীল না হয়ে গণতন্ত্র রক্ষার জন্য এই নির্বাচন অতি দ্রুত সম্পন্ন করা হোক।

তমাল মুখোপাধ্যায়, ডানকুনি, হুগলি

শিশুর শিক্ষা

‘লটারি’ (২২-৩) শীর্ষক সম্পাদকীয়তে অভিভাবকদের দায়িত্ব নিয়ে ছোটদের সুশিক্ষার পাঠ ও মূল্যবোধ জাগরণের কথা যথার্থ বলা হয়েছে। বর্তমান প্রজন্মের শিশুদের বেশি কিছু বলার দরকার নেই। কারণ তারা দূরদর্শনের পর্দায় প্রতিনিয়ত কী ভাবে নিরীহ মানুষ ও হাসপাতালে অসুস্থরা যুদ্ধের শিকার হচ্ছেন, তা দেখতেই পাচ্ছে। কিছুটা হলেও তাদের মনে এ বিষয়ে এক বিরূপ প্রতিক্রিয়া কাজ করে। আমরা বেশ কয়েক প্রজন্ম ধরে দেখে আসছি, পুত্রসন্তানকে তার বায়না মেটাতে খেলনা বন্দুক আর কন্যাসন্তানকে পুতুল কিনে দেওয়ার চল। এই সময় দাঁড়িয়ে এই ধরনের ভাবনা অভিভাবকদের পরিত্যাগ করা দরকার। আজকাল মোবাইলে নানা আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে প্রতিপক্ষকে মারা এবং জিতে যাওয়ার গেমগুলি বেশি করে শিশুদের আকৃষ্ট করছে। সে বিষয়ে সচেতন থাকা দরকার।

সঠিক শিক্ষার পাঠ না দিলে সমাজের ক্ষতিকারক দিকগুলি শিশুদের আকৃষ্ট করে ফেলবে। মারামারি, হিংসা, খুন বা যুদ্ধ আজকাল নিত্য শিরোনামে উঠে আসে। বড়দের সঙ্গে ছোটরাও তা দেখে। তার পরিণতি হিসাবে বেশ কিছু অপ্রীতিকর ঘটনার কথাও শোনা যায়। এর পরিবর্তে সামাজিক মূল্যবোধ, যুদ্ধের অপূরণীয় ক্ষতির কথা তাদের সঙ্গে আলোচনা করলে তাদের মনে সুস্থ ভাবনা তৈরি হবে। তা ছাড়া, শিশুর কোন বিষয় আগ্রহ বেশি, সেটাও খুঁজে সে দিকে শিশুর নজর ঘোরাতে হবে। প্রকৃতি ও অবোলা প্রাণীদের ভালবাসতে শেখাতে হবে তাদের। ডিজিটাল যুগে নানা প্রলোভনের হাতছানি চার পাশে। তা থেকে শিশুদের বাঁচিয়ে রাখা জরুরি। বিদ্যালয়, অভিভাবক— উভয়কেই এ কাজ করতে হবে।

স্বরাজ সাহা, কলকাতা-১৫০

ছেঁড়া পোস্টার

পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন সদ্য শেষ হল। এই নির্বাচনের ঠিক আগে প্রতি বারের মতোই রাজনৈতিক নেতাদের ব্যস্ততা তুঙ্গে উঠতে দেখা গিয়েছে। কে কী কাজ করেছেন, আগামী দিনে কী কী করবেন, সেই সব নিয়ে সত্য-মিথ্যা ভরা সংলাপে ভোটের হাওয়া গরম হয়েছে। পাঁচিলে পাঁচিলে আঁকা হয়েছে হরেক দেওয়াল লিখন, রাস্তার ধারে জমে উঠেছে রাজনৈতিক দলগুলির পতাকা, গাছের গুঁড়িতে পেরেক ফুটিয়ে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে হোর্ডিং। এ সব প্রতি নির্বাচনের পরিচিত সাজ।

কিন্তু ভোট মিটে গেলে প্রতি বার দেখা যায়— কালবৈশাখীর ঝোড়ো হাওয়ায় পতাকাগুলি লুটিয়ে পড়ে আছে রাস্তার মাঝে, তার উপর দিয়ে ছুটে যাবে টোটো বাইক ইত্যাদি যানবাহন। গাছের শাখায়, কাণ্ডের গায়ে ঝুলে থাকবে রোদ জল হাওয়ায় ক্ষত-বিক্ষত হোর্ডিংয়ে নেতা-নেত্রীর মুখের আধ ছেঁড়া ছবি। কোনও রাজনৈতিক দলের একনিষ্ঠ কর্মীর কাছে এগুলি দেখা এক প্রকার বিড়ম্বনা। এগুলি আমাদের শহরের দৃশ্যদূষণের কারণও বটে।

সম্প্রতি দু’বার বিশাখাপত্তনম ভ্রমণের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, ওই শহর ও তার আশপাশের এলাকায় কোনও রাজনৈতিক দেওয়াল লিখন, পোস্টার চোখে পড়েনি। শহরের বেশির ভাগ দেওয়াল হয় সাদা, অথবা সেখানে নানা রকম শিল্পকর্ম অঙ্কিত রয়েছে সরকারি উদ্যোগে, যা শহরের মানুষের চোখের আরাম। অন্ধ্রপ্রদেশ পারলে আমরাও কি পারি না আমাদের দেওয়ালগুলিকে দৃষ্টিনন্দন করে রাখতে?

অনির্বিত মণ্ডল, ইছাপুর, উত্তর ২৪ পরগনা

আরও পড়ুন