Competitive Exams Sitting Arrangements

সম্পাদক সমীপেষু: পরীক্ষার্থীর বিড়ম্বনা

দুর্ভাগ্যজনক ভাবে, এত দূরের পরীক্ষাকেন্দ্রে যাতায়াতের ক্ষেত্রেও পরীক্ষার্থীরা রেলের তরফে ভাড়ায় কোনও ছাড় পান না।

শেষ আপডেট: ১৮ মে ২০২৬ ০৭:০৯

বর্তমানে কেন্দ্রীয় সরকারি চাকরির প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাগুলির ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে— পরীক্ষার্থীদের নিজ বাসস্থান থেকে বহু দূরে, এমনকি অন্য রাজ্যে পরীক্ষাকেন্দ্র দেওয়া হচ্ছে। এক জন সদ্য স্নাতক বেকার পরীক্ষার্থী সারা বছর ধরে কঠোর পরিশ্রম করে কাঙ্ক্ষিত পরীক্ষাগুলির জন্য প্রস্তুতি নেন। অথচ, বহু ক্ষেত্রে শুধুমাত্র দূরবর্তী পরীক্ষা কেন্দ্রের কারণে সেই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা তাঁর পক্ষে সম্ভব হয়ে ওঠে না। আর্থিক অসঙ্গতির কারণে অনেকেই এত দূরে যাতায়াত ও থাকার খরচ বহন করতে পারেন না।

গত বছর কেন্দ্রীয় স্টাফ সিলেকশন কমিশন এবং রেলের এনটিপিসি পরীক্ষায় পশ্চিমবঙ্গের বহু পরীক্ষার্থীর পরীক্ষাকেন্দ্র পড়েছিল ভুবনেশ্বর, রাঁচী, ধানবাদ, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে আরও অনেক দূরে। পরীক্ষার মাত্র কয়েক দিন আগে কেন্দ্রের স্থান জানা যাওয়ায় ট্রেনের টিকিট পাওয়াও অত্যন্ত দুষ্কর হয়ে পড়ে। দুর্ভাগ্যজনক ভাবে, এত দূরের পরীক্ষাকেন্দ্রে যাতায়াতের ক্ষেত্রেও পরীক্ষার্থীরা রেলের তরফে ভাড়ায় কোনও ছাড় পান না।

পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘ দিন ধরে রাজ্য সরকারি চাকরির পরীক্ষা ও নিয়োগ প্রক্রিয়া অত্যন্ত মন্থর হয়ে পড়ায় কেন্দ্রীয় সরকারি চাকরির পরীক্ষাগুলিই বহু শিক্ষিত তরুণ-তরুণীর কাছে প্রধান হয়ে উঠেছে। সেই পরীক্ষাগুলিতেও এ ধরনের অবাস্তব ও অসংবেদনশীল ব্যবস্থা কোনও ভাবেই কাম্য নয়। এমন ঘটনাও ঘটেছে যে, পরীক্ষার্থী কেন্দ্রে পৌঁছে জানতে পেরেছেন পরীক্ষাকেন্দ্র পরিবর্তিত হয়েছে।

এক জন সাধারণ চাকরিপ্রার্থীর জীবনে নানা মানসিক চাপ, পারিবারিক প্রত্যাশা এবং আর্থিক সঙ্কট এমনিতেই থাকে। তার উপরে এই ধরনের প্রশাসনিক অব্যবস্থা তাঁদের কাছে এক গভীর সামাজিক বিড়ম্বনার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিতে বিবেচনা করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ করা প্রয়োজন।

সৌম্যদীপ্ত পাল, শেওড়াফুলি, হুগলি

খোঁজ নেই

আমার আঠারো বছরের কন্যা গত ১৭ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ। এই বিষয়ে আমি জীবনতলা পুলিশ স্টেশনে লিখিত অভিযোগ দায়ের করি। পাশাপাশি বারুইপুর পুলিশ কমিশনারেট এবং পুলিশ সুপারের কাছেও আবেদন জানাই। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনও কার্যকর পদক্ষেপ করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট থানায় একাধিক বার যোগাযোগ করা সত্ত্বেও নির্বাচন সংক্রান্ত দায়িত্বের অজুহাতে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হয়। একটি নিখোঁজ ঘটনার ক্ষেত্রে দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু প্রশাসনের এই উদাসীনতা আমাদের গভীর দুশ্চিন্তার মধ্যে ফেলেছে। কার কাছে গেলে উপযুক্ত বিচার মিলবে?

মোনাব্বার মোল্লা, জীবনতলা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা

খরচের চাপে

‘চিকিৎসার খরচে’ (২৫-৪) শীর্ষক খবরের পরিপ্রেক্ষিতে এই চিঠি। খবরে প্রকাশ, বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসার আকাশছোঁয়া খরচ নিয়ে দীর্ঘ দিনের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উদ্যোগী হচ্ছে কেন্দ্র। নিরুপায় হয়ে অনেক সময়েই মানুষকে বেসরকারি হাসপাতালের শরণাপন্ন হতে হয়। কিন্তু চিকিৎসা চলাকালীন সেখানে বিলের পরিমাণ উত্তরোত্তর এতটাই বেড়ে যায় যে, তা নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত মানুষের আয়ত্তের বাইরে চলে যায়। অথচ, রোগীর চিকিৎসা চলাকালীন অবস্থায় তাঁর পরিজনদের অন্য কোথাও নিয়ে যাওয়ার উপায়ও থাকে না। এমতাবস্থায় এত বিপুল খরচ তাঁরা কী ভাবে মেটাবেন— সেটাই হয়ে ওঠে বড় প্রশ্ন।

কয়েক মাস আগে আমি মা-কে হারাই। বেসরকারি হাসপাতালে ১৮ দিনের চিকিৎসাকালীন বিলের পরিমাণে আমার পরিবারের নাজেহাল অবস্থা হয়েছে। তার উপর, মা-কেও ফিরিয়ে আনতে পারিনি। সবিনয় নিবেদন, এই বিষয়ে অবশ্যই কেন্দ্রের দ্রুত হস্তক্ষেপ কাম্য।

আইভি লাহিড়ী, কলকাতা-৩০

ট্রেনের অনিয়ম

বাংলা নববর্ষের প্রাক্কালে কলকাতার একটি সমাজসেবী সংস্থার উদ্যোগে ঘাটশিলার প্রত্যন্ত গ্রাম বাসাডেরায় অতি দরিদ্র শিশুদের নতুন জামাকাপড় দেওয়ার একটি পরিকল্পনা করা হয়। সেই উদ্দেশ্যে অগ্রিম ট্রেন টিকিট কাটা হয় ইস্পাত এক্সপ্রেসে। পরিকল্পনা ছিল সকাল সাড়ে ছ’টার ট্রেন ধরে, সাড়ে ন’টার মধ্যে গন্তব্যে পৌঁছে, বিকেলে অনুষ্ঠান সেরে, পর দিন সকালের ইস্পাত ধরে হাওড়া ফেরা। কিন্তু, গত দু’-তিন মাস ধরে ইস্পাত এক্সপ্রেস ও একই রুটের অপর ট্রেন বারবিল জনশতাব্দী এক্সপ্রেসের ছাড়ার সময়ের খামখেয়ালিপনা ও অস্বাভাবিক বিলম্ব দেখে আমরা বাধ্য হই সকলের টিকিট বাতিল করতে। কারণ আলোচ্য ট্রেন দু’টি কোনও দিন ন’ঘণ্টা দেরিতে যাত্রা শুরু করে, আবার কোনও দিন সম্পূর্ণ বাতিল হয়ে যায়। আর রেলের তরফে এই পরিবর্তিত সূচি জানানো হয় নির্ধারিত সূচির মাত্র চার-পাঁচ ঘণ্টা আগে। এমন পরিস্থিতিতে, ওই সব ট্রেনের উপর আস্থা রেখে কোনও গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়।

যে-হেতু, শিশুদের মুখে হাসি ফোটানোই ছিল আমাদের মূল উদ্দেশ্য, তাই মাত্র পাঁচ জন সদস্য মিলে, জামাকাপড়ের বস্তা নিয়ে অত্যন্ত কষ্ট করে ভারতীয় রেলের বদান্যতায় লোকাল ও মেমুতে চেপে ঘাটশিলা পৌঁছে কোনও ক্রমে অনুষ্ঠান সম্পন্ন করে পর দিন ঠিক একই ভাবে হাওড়া ফিরতে সকালের বদলে সন্ধে গড়িয়ে যায়। ওখানে গিয়ে জানতে পারি, দক্ষিণ-পূর্ব রেলের এ-রূপ বিশৃঙ্খলায়, ঘাটশিলার মতো পর্যটন কেন্দ্র আজ পর্যটকের অভাবে বিপন্ন। ট্রেনের সূচির এই বিলম্বের কারণ জানতে চাইলে, দক্ষিণ-পূর্ব রেল কর্তৃপক্ষ সর্বদাই ওই লাইনে মেরামতির অজুহাত দেন। অথচ, লাইন খারাপ থাকলে, ওই রুটে স্টিল এক্সপ্রেস বা বন্দে ভারত কী ভাবে নির্ধারিত সময়ে চলাচল করে, তার কোনও যুক্তিগ্রাহ্য উত্তর দিতে পারেন না।

প্রশ্ন হল, ভারতীয় রেলের যখন এমনই দুরবস্থা, তা হলে আর বুলেট ট্রেন না চালিয়ে পুরনো এক্সপ্রেস ট্রেনগুলিকে নির্ধারিত সময়ে চালানোর ব্যাপারে মনোযোগী হওয়া বেশি জরুরি নয় কি?

শান্তনু ঘোষ, শিবপুর, হাওড়া

ব্যাঙ্কের হয়রানি

আমি দক্ষিণ ২৪ পরগনার পিয়ালী এলাকার এক জন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। গত তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে সেখানকার একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের চম্পাহাটি শাখায় গৃহঋণের জন্য আবেদন করে চরম হয়রানির শিকার হচ্ছি। ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ নিয়ম অনুযায়ী কোনও ‘অ্যাপ্লিকেশন নম্বর’ পর্যন্ত আমাকে দেননি। ঋণ দেওয়ার নাম করে দিনের পর দিন আমাকে স্রেফ ঘোরানো হচ্ছে। ব্যাঙ্কের এই গাফিলতির কারণে আমার বাড়ির নির্মাণ কাজ মাঝপথে বন্ধ হয়ে আছে। এই বিষয়ে ব্যাঙ্কিং ওম্বুডসমানের কাছেও অভিযোগ জানিয়েছি, কিন্তু এখনও কোনও সুরাহা হয়নি।

অরিজিৎ মণ্ডল, পিয়ালী, দক্ষিণ ২৪ পরগনা

বালিশ-চাদর

আমরা যারা সাধারণ স্লিপার শ্রেণিতে দূরে ভ্রমণ করি, তাদের জন্য একটি চাদর ও একটি বালিশের মতো ন্যূনতম সুবিধা প্রদান করা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। বর্তমানে এসি কামরায় এই সুবিধা থাকলেও নন-এসি স্লিপার শ্রেণির যাত্রীরা তা থেকে বঞ্চিত। তাই যাত্রীদের ন্যূনতম আরাম ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা বিবেচনা করে একটি সাধারণ চাদর ও বালিশ সরবরাহ করা মানবিক পদক্ষেপ হবে বলে মনে করি।

অয়ন সরকার, কলকাতা-৫৭

আরও পড়ুন