Mobile

সম্পাদক সমীপেষু: সর্বনাশা মুঠোফোন

আর পাঁচটা নেশার মতো মোবাইলও মানব মস্তিষ্কে খুশির হরমোন ‘ডোপামিন’-এর নিঃসরণ ঘটায়। তাই কিছু সময় অন্তর মোবাইলে চোখ না রাখলে শরীর ও মনে ‘উইথড্রয়াল সিম্পটম’ দেখা যায়।

শেষ আপডেট: ১৩ মার্চ ২০২৬ ০৭:৫৮

‘হাতের মুঠোয় নেশা’ (১৫-২) শীর্ষক সম্পাদকীয় প্রসঙ্গে কিছু কথা। সম্পাদকীয়তে লেখা হয়েছে সবার আগে, শিশুর হাতে মোবাইল তুলে দেওয়ার কু-অভ্যাসটি পরিত্যাজ্য। কিন্তু কোনও অভিভাবকই স্বেচ্ছায় সন্তানের হাতে মোবাইল ফোন তুলে দেন না। বরং, বাধ্য হন দিতে। মোবাইল ফোনের আসক্তি যে কতটা তীব্র, তা বোঝা যায় শিশু-কিশোরদের কাছ থেকে জোর করে ফোন কাড়ার মারাত্মক পরিণাম দেখলে। অনেকে আত্মহত্যার মতো চরম সিদ্ধান্তও নিয়ে বসে। তবে ছোটদের মোবাইল আসক্তির জন্য অভিভাবকদেরও দায় আছে। শিশুরা বাড়ির বড়দেরই অনুকরণ করে। তারা যদি দেখে সকালে ঘুম ভাঙা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত বাবা-মা’কে মোবাইলে মগ্ন থাকতে, তা হলে তাদের মধ্যেও আকর্ষণ তৈরি হওয়াটা স্বাভাবিক। স্নায়ুবিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, আর পাঁচটা নেশার মতো মোবাইলও মানব মস্তিষ্কে খুশির হরমোন ‘ডোপামিন’-এর নিঃসরণ ঘটায়। তাই কিছু সময় অন্তর মোবাইলে চোখ না রাখলে শরীর ও মনে ‘উইথড্রয়াল সিম্পটম’ দেখা যায়। ফলে, নেশা তৈরির আগে সতর্ক হতে হবে অভিভাবকদের।

শোনা যায়, রঙিন স্ক্রিন পরিবর্তন করে কালো-সাদা স্ক্রিন করে নিলে মোবাইলে চোখ রাখার ইচ্ছা উল্লেখযোগ্য ভাবে কমে যায়। আর স্কুল বা টিউশন পড়ার সময়টুকুর বাইরে শিশুদের মধ্যে ভাল নেশা অভিভাবকরাই তৈরি করে দিতে পারেন। সমবয়সি বন্ধুদের সঙ্গে ফুটবল-ক্রিকেটের মতো বিভিন্ন ‘আউটডোর’ খেলায় তাদের উৎসাহিত করা যায়। বন্ধুদের সঙ্গে দাবা, চাইনিজ় চেকার্স-এর মতো বুদ্ধি প্রয়োগ করে ‘ইনডোর গেমস’-এও তারা সময় দিলে মনের বিকাশ ঘটবে। ফোন ছাড়া সমবয়সিদের সঙ্গে নির্ভেজাল সময় কাটাতে পারলেও নিঃসঙ্গতা এড়ানো যায়। তা ছাড়া, বাড়িতে ফুল, ফল, ক্যাকটাস, অর্কিডের বাগান তৈরির জন্যও শিশুদের উৎসাহিত করলে ভাল হয়। শিশুর মধ্যে গান বা নাচ, কোনও বাদ্যযন্ত্র বাজানো বা ছবি আঁকায় আগ্রহ থাকলে সে-সবেও উৎসাহ দেওয়া যেতে পারে। আর বাংলা ভাষায় তো শিশুসাহিত্যের রত্নখনি আছেই— বিভিন্ন লেখকের নানান স্বাদের গল্পের বই। এক বার যদি দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার, বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, সুকুমার রায়, সত্যজিৎ রায় বা লীলা মজুমদারের তৈরি কল্পনার জগতে অনুপ্রবেশ ঘটে, তখন তাদের মধ্যে মোবাইলের আকর্ষণ কমতে বাধ্য। তবে কেবল ছোটদের বারণ করে বড়রা মোবাইলে চোখ গুঁজে রাখলে কার্যকর ফল মিলবে বলে মনে হয় না। অভিভাবকদেরও সময় দিতে হবে ছোটদের। সন্তানদের মুখ চেয়ে তাঁদেরও মুখ ফেরাতে হবে নেশার বস্তুটি থেকে। বড়রাও খারাপ নেশা থেকে ভাল কাজে মন দিলে তবেই মিলবে সার্বিক নেশা-মুক্তির দিশা। রক্ষা পাবে ছোটরাও।

কৌশিক চিনা, মুন্সিরহাট, হাওড়া

নেশার কবলে

‘হাতের মুঠোয় নেশা’ শীর্ষক সম্পাদকীয় প্রসঙ্গে কিছু কথা। ‘নেশা’ এমন একটি বিষয়, যা মানব মস্তিষ্কের দখল নিয়ে সাময়িক ভাল-লাগা বা আনন্দানুভূতির জন্ম দেয়। সেই আনন্দ উপভোগ করার বা ভাল লাগার টান উপেক্ষা করতে না পেরে মানুষ নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই হারিয়ে ফেলে। এর ফলে নেশাগ্রস্তরা শুধু যে নিজের জীবনেই সমস্যা তৈরি করে তা নয়, এরা সমাজ ও পরিবারেরও নানাবিধ সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে, দেশে সরকার-সমর্থিত নেশামুক্তি কেন্দ্রগুলিতে মাদকাসক্তির চিকিৎসার জন্য আবেদনকারী মানুষের সংখ্যা ২৯৫% বৃদ্ধি পেয়েছে।

এর উপর ‘মোবাইল ফোনের নেশা’ গোটা সমাজের দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ এই নেশায় আক্রান্তরা সকলের সামনে প্রকাশ্যেই এটি নির্দ্বিধায় ব্যবহার করতে পারেন। ব্যক্তিগত মোবাইলে ইন্টারনেট সংযোগ অব্যাহত রাখলেই নেশার উপকরণের জোগান অব্যাহত থাকে। স্বভাবতই উপভোক্তাদের চাহিদা মেটাতে নিত্যনতুন ‘কনটেন্ট’ তৈরি চলতেই থাকে। আবার, অনলাইন গেম বা সর্বনাশা জুয়ার ফাঁদে জড়িয়ে পড়ে অনেকেই। সম্পর্কের বাঁধনগুলি ক্রমাগত আলগা হতে থাকে। মনোযোগ নষ্ট হওয়া, বিরক্তি ও জেদ বৃদ্ধি, খিটখিটে মেজাজ, ঘুমের ব্যাঘাত, চিন্তাশক্তি ও স্মৃতিশক্তি হ্রাস পাওয়া, একগুঁয়ে মনোভাব, অভব্য আচরণ, দৃষ্টিশক্তি ও শ্রবণশক্তি কমে আসা ইত্যাদি নানা ধরনের লক্ষণ নেশাড়ুদের মধ্যে প্রকট হয়ে ওঠে। অঙ্কুরেই নষ্ট হয়ে যায় বহু সম্ভাবনাময় জীবন।

বিশ্ববাসী সম্ভবত এই ধরনের জটিল পরিস্থিতির মুখোমুখি ইতিপূর্বে কখনও হয়নি। তবে হাল ছাড়লে চলবে না। অস্ট্রেলিয়া-সহ বিভিন্ন দেশে অনূর্ধ্ব ষোলো বছর বয়সিদের সমাজমাধ্যম ব্যবহারে কড়াকড়ি শুরু হয়েছে। ফোন ব্যবহারের ক্ষেত্রে এ দেশেও এই বয়সিদের জন্য তেমন নিয়ন্ত্রণ আনা উচিত। যা খারাপ, তাকে বর্জন করাই ভাল।

রতন রায়চৌধুরী, পানিহাটি, উত্তর ২৪ পরগনা

বেহুঁশ

‘হাতের মুঠোয় নেশা’ শীর্ষক সম্পাদকীয় বিষয়ে কিছু সংযোজন। সময়ের সঙ্গে বিজ্ঞানের অগ্রগতির হাত ধরে মানুষের হাতের মুঠোয় এসেছে দৈনন্দিন জীবনের বহু কিছু জোগান, যার অন্যতম মুঠোফোন। ভুললে চলবে না, এই মুঠোফোনের উপর মানুষের নির্ভরতা সবচেয়ে বেশি দেখা গিয়েছিল অতিমারির সময়ে। বিশেষ করে স্কুলের পড়ুয়াদের গোটা পড়াশোনাটাই তখন ছিল অনলাইন। ফলে বাধ্য হয়েই বাবা-মায়েদের পড়ুয়াদের হাতে তুলে দিতে হয়েছিল মোবাইল। সমস্যা হল, এই অনলাইন ক্লাসের ফলে মোবাইল ব্যবহার ক্রমশ নেশায় পরিণত হয়েছে। বস্তুত আমার বাড়ির ছয় বছরের নাতনির জন্যও ওই সময়ে বরাদ্দ হয়েছিল একটি অ্যানড্রয়েড ফোন। যদিও তার মা-র হাতে ছিল নিয়ন্ত্রণ। এখন সে উঁচু ক্লাসে পড়ে। তা সত্ত্বেও তার কিন্তু ঘন ঘন মোবাইল দেখার অভ্যাস এখনও থেকে গিয়েছে। বহু বার দেখেছি, মা-বাবা সন্তানের হাতে ফোন তুলে দিচ্ছেন তার দুষ্টুমি থেকে রেহাই পেতে। কিন্তু এই পদক্ষেপ যে কতখানি আত্মঘাতী, তা মালুম হয় পরবর্তী কালে।

এখন বাসে, ট্রামে, ট্রেনে চোখ ঘোরালেই দেখা যায় অধিকাংশ মানুষই মগ্ন মোবাইল স্ক্রিনে। এতে হয়তো বা ক্ষণিকের একঘেয়েমি দূর হয়, কিন্তু নেতিবাচক প্রভাব পড়ে শরীর, মন এমনকি সম্পর্কেও। দুঃখের বিষয় এটাই যে, এত লেখালিখি, সতর্কতার পরেও হুঁশ ফেরে না মানুষের। নিজেদের ধ্বংস কি আমরা নিজেরাই ডেকে আনছি?

বীরেন্দ্র নাথ মাইতি, বুলবুলচটি, পশ্চিম মেদিনীপুর

ট্রেনে দেরি

বিবাদী বাগ স্টেশন থেকে দমদমের স্টেশনের দিকে আপ ট্রেন সন্ধ্যা পাঁচটা ছাপ্পান্ন-র পর আবার ছ’টা বিয়াল্লিশে পাওয়া যায়। এই দীর্ঘ সময়ের মাঝে যদি আর একটি আপ ট্রেন পাওয়া যেত, তা হলে বহু নিত্যযাত্রী উপকৃত হতেন। এই বিষয় রেল কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

ইন্দ্রনীল ঘোষ, কলকাতা-৩৭

ব্যতিক্রমী

‘অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে পাটুলি ঝিল, দীর্ঘসূত্রতা কাটিয়ে কাজ শুরু’ (১- ৩) শীর্ষক খবরের সূত্রে এই চিঠি। আমরা সাধারণত ঝিল, পুকুর ভরাটের খবরেই অভ্যস্ত। এটা ব্যতিক্রমী প্রতিবেদন। দীর্ঘসূত্রতার কারণ পরিচিত— এই কাজের বরাত কে পকেটস্থ করবে। জলাশয়ে আবর্জনা ফেলা মানেই তা ভরাটের প্রাথমিক লক্ষণ। কিন্তু এ ক্ষেত্রে কোনও প্রভাবশালী প্রোমোটারের পরিকল্পনা ভেস্তে গেল। এই রকম অভিজাত এলাকায় বাঁধানো ঝিলের উপস্থিতি গোটা জায়গাটাকে দৃষ্টিনন্দন করে তোলে। কিছু অসৎ মানুষের লোভ লালসার বিরুদ্ধে এমন পদক্ষেপই সর্বত্র করা উচিত।

অঞ্জন কুমার শেঠ, কলকাতা-১৩৬

আরও পড়ুন