তৃতীয় ভাষার ৭ নিয়ম। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
জুলাইয়ের প্রথম দিন থেকেই শুরু হচ্ছে সিবিএসই বোর্ডের ছাত্রছাত্রীদের আরও একটি করে নতুন ভাষার পঠনপাঠন। জাতীয় শিক্ষানীতির তিন-ভাষার নিয়ম মেনে ষষ্ঠ থেকে নবম পর্যন্ত চার শ্রেণির পড়ুয়াদের বিদেশি ভাষার পাশাপাশি অন্তত একটি আঞ্চলিক ভাষা শিখতেই হবে। ষষ্ঠ শ্রেণির পড়ুয়াদের পড়তে হবে দু’টি আঞ্চলিক এবং একটি বিদেশি ভাষা। ফলে পড়াশোনার নিয়ম বদলাবে কিছু কিছু। সেই পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগে ছাত্রছাত্রী এবং তাদের অভিভাবকদের জন্য কিছু নিয়ম স্পষ্ট করল সিবিএসই। সেই সঙ্গে তৃতীয় ভাষা শিক্ষা নিয়ে তৈরি হওয়া ধোঁয়াশাও কাটাল তারা।
বছরের শুরুতেই সিবিএসই জানিয়েছিল, জাতীয় শিক্ষানীতিকে মান্যতা দিতে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকেই ষষ্ঠ শ্রেণির পড়ুয়াদের তিনটি ভাষা শেখানোর ব্যবস্থা করবে তারা। পরে অন্যান্য শ্রেণির জন্যও আলাদা আলাদা নিয়ম হয়। নতুন নিয়ম নিয়ে পড়ুয়া এবং অভিভাবকদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হলে সেই নিয়মে ছোটখাটো বদলও আনা হয়। বুধবার, ১ জুলাই থেকে সেই সব নিয়ম বলবৎ হওয়ার আগে তাই সোমবার রাতে সিবিএসই-র তরফে একটি নতুন নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। তাতে বুঝিয়ে বলা হয়েছে তিন-ভাষা শিক্ষানীতি নিয়ে নতুন সব নিয়মকানুন।
১। দশম শ্রেণির পড়ুয়াদের ছাড়: যে সব পড়ুয়া ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে দশম শ্রেণিতে পড়াশোনা করছেন এবং দু’টি ভাষা পড়ছেন, তাদের তৃতীয় ভাষার শিক্ষা করতে হবে না।
২। সপ্তম, অষ্টম, নবমের এক বারের ছাড়: যদি সপ্তম-অষ্টম-নবম শ্রেণির পড়ুয়াদের পাঠ্যক্রমে দু’টি বিদেশি ভাষা (ইংরেজি-জার্মান বা ইংরেজি-ফরাসি) থেকে থাকে, তবে তাদের একটি বিদেশি ভাষা বাদ দিতে হবে না। তবে একটি করে ভারতীয় ভাষা জুড়তে হবে।
৩। তৃতীয় ভাষার বোর্ডের পরীক্ষার নিয়ম: তৃতীয় ভাষা পাঠ্যক্রমে জুড়লে তার পরীক্ষা কী ভাবে হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন ছিল ছাত্রছাত্রীদের। যারা নবম শ্রেণিতে নতুন করে একটি ভাষা শিখতে শুরু করল, তাদের দশম শ্রেণির বোর্ডের পরীক্ষায় কি ওই ভাষারও পরীক্ষা দিতে হবে? প্রশ্ন ছিল, তা নিয়েই। মে মাসে সিবিএসই বলেছিল, আপাতত যারা তৃতীয় ভাষা শেখা শুরু করছে, তাদের দশম শ্রেণির পরীক্ষা এবং নম্বর দেওয়ার বিষয়টি আপাতত স্কুল দেখবে। সোমবারের নির্দেশিকায় সিবিএসই স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ওই নিয়মটি কেবলমাত্র ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে সপ্তম, অষ্টম এবং নবম শ্রেণিতে থাকা পড়ুয়াদের জন্য প্রযোজ্য। যারা একই শিক্ষাবর্ষে ষষ্ঠ শ্রেণিতে নতুন ভাষা শিখতে শুরু করছে, তাদের ওই ভাষার বোর্ডের পরীক্ষাও দিতে হবে দশম শ্রেণিতে।
৪। পাঠ্যবইয়ের নতুন নিয়ম: আাগের নির্দেশিকায় সিবিএসই জানিয়েছিল, নবম শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের নতুন ভাষার জন্য আলাদা বই দেওয়া হবে না। ষষ্ঠ শ্রেণির আঞ্চলিক ভাষাশিক্ষার যে বই রয়েছে, তা-ই পড়তে হবে। নতুন নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, শ্রেণিভেদে আলাদা আলাদা পাঠ্যবইয়ের ব্যবস্থা করা হবে।
৫। ষষ্ঠশ্রেণির তৃতীয় ভাষার পাঠ্যবই: ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে যাঁদের একটি বিদেশি ভাষার পাশাপাশি দু’টি আঞ্চলিক ভাষা শিখতে হবে, তাদের জন্য ২২টি ভাষার পাঠ্যবই প্রস্তুত। পড়ুয়াদের পছন্দের ভাষা জেনে সেই বই দেওয়া হবে।
৬। ভবিষ্যতে সবার জন্য এক নিয়ম: যেকোনও বদলই নানারকম প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়। তাই তিন-ভাষা শিক্ষানীতির কিছু নিয়ম অবস্থা বুঝে শিথিল করা হয়েছে। কিন্তু সিবিএসই জানিয়েছে, ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে ষষ্ঠশ্রেণির পড়ুয়া এবং তার পরের ব্যাচের পড়ুয়াদের তিন-ভাষা শিক্ষানীতির প্রয়োজনীয় সব বিধি মেনেই পড়াশোনা করতে হবে।
৭। কী কী ছাড় থাকছে: বিশেষ ভাবে সক্ষম পড়ুয়া, বিদেশ থেকে আসা পড়ুয়া এবং যে সব সিবিএসই স্কুল ভারতের বাইরে, তাদের ক্ষেত্রে ওই নিয়মে ছাড় থাকবে। ভাষা শিক্ষক নিয়োগ এবং ভাষা শেখানোর বইয়ের জোগানের ব্যাপারেও নিয়ম নমনীয় করা হবে বলে জানিয়েছে বোর্ড।