WB College Attendance Rate

কলেজে পড়ুয়াদের উপস্থিতির হার কমছে! প্রমাণ নেই খাতায় কলমে, কী বলছে শিক্ষামহল?

হিসাব বলছে, প্রতিটি বিষয়ে ৭৫ শতাংশ উপস্থিতি না থাকলে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষায় বসার অনুমতি দেয় না পড়ুয়াদের। তা হলে প্রতি বছর কম উপস্থিতি নিয়েও কী ভাবে পরীক্ষা বসছেন স্নাতক পড়ুয়ারা?

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ১৪ মার্চ ২০২৬ ১৮:২৭

ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।

খাতায়কলমে মিলে যায় উপস্থিতির হার। কিন্তু বাস্তবচিত্র একেবারে ভিন্ন। ক্লাস থাকে ফাঁকা, পড়াতে এসেও ফিরে যেতে হয় কলেজ শিক্ষকদের।

Advertisement

রাজ্যের প্রায় ৪০০টি সরকারপোষিত কলেজের অধিকাংশই নাকি ভুগছে এই উপস্থিতির সঙ্কটে। কোনও কোনও কলেজে পড়ুয়াদের উপস্থিতির হার ৪০ শতাংশেরও নীচে, অভিযোগ এমনই। কলকাতার পাশাপাশি শহরতলি ও গ্রামের কলেজগুলিতেও একই ছবি। তবে শিক্ষামহলের একাংশের দাবি, ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীদের উপস্থিতির হার বেশি।

হিসাব বলছে, প্রতিটি বিষয়ে ৭৫ শতাংশ উপস্থিতি না থাকলে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষায় বসার অনুমতি দেয় না পড়ুয়াদের। তা হলে প্রতি বছর কম উপস্থিতি নিয়েও কী ভাবে পরীক্ষা বসছেন স্নাতক পড়ুয়ারা?

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানেন সব কিছু। কিন্তু খাতায়কলমে হিসাব ঠিক থাকায় তা বোঝার উপায় নেই। এই পরিস্থিতি শুধু কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের নয়। বর্ধমান, কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয় এবং বারাসত রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধীনস্থ যে সব কলেজ রয়েছে, সেখানেও উপস্থিতির হার সন্তোষজনক নয় বলেই দাবি শিক্ষকদের একাংশের।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক আধিকারিক বলেন, “উপস্থিতির বিষয়টি দেখভাল করার দায়িত্ব কলেজের। ৭৫ শতাংশ উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। তার থেকে কম হলে জরিমানা দিয়ে পরীক্ষায় বসতে হয়। কিন্তু সেই জরিমানা প্রায় কাউকেই দিতে হয় না। কারণ কলেজ থেকে প্রায় সকলেই উপস্থিতি ৭৫ শতাংশ দেখিয়েই তালিকা পাঠানো হয় আমাদের কাছে।”

প্রযুক্তিগত ভাবেও পড়ুয়াদের যথার্থ উপস্থিতির বিচার করা সম্ভব নয় বলে মনে করেন শিক্ষকদের একাংশ। বারাসত রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধীনস্থ এক কলেজের শিক্ষক বলেন, “অভ্যন্তরীণ মুল্যায়নে পড়ুয়াদের উপস্থিতির জন্য ৫ নম্বর ধার্য করা থাকে। ওয়েবসাইটে কিন্তু শূন্য দেওয়ার কোনও জায়গাই নেই। কোনও নম্বর না দিলে পোর্টালে কিছু আপলোড করাই যাবে না। অর্থাৎ কারও উপস্থিতির হার শূন্য হলেও তাঁকে কিছু না কিছু নম্বর দিতে হয়।”

কিন্তু কেন উপস্থিতির দিকে নজর নেই পড়ুয়াদের?

শিক্ষকদের দাবি, কোনও কোনও পড়ুয়া সচেতন নন। কিন্তু সকলের ক্ষেত্রেই বিষয়টা তেমন নয়। অনেক পড়ুয়াকেই পরিবারের কথা মাথায় রেখে কোনও কোনও ভাবে রোজগারের পথ দেখতে হয়। গ্রামের দিকের কলেজগুলিতে বহু পড়ুয়াই পারিবারিক ব্যবসা বা চাষাবাদের সঙ্গে যুক্ত। মফস্সলের পড়ুয়ারা অনেকেই আংশিক সময়ের কোনও কাজ জুটিয়ে নিয়ে রোজগারের চেষ্টা করেন।

ছাত্রীদের মধ্যে অবশ্য পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ বেড়েছে গত কয়েক বছরে। হিসাব বলছে শহরতলি ও গ্রামের দিকে ছাত্রীদের উপস্থিতির হার ছাত্রদের থেকে অনেক ভাল। মোটামুটি ৭০ শতাংশের কাছাকাছি উপস্থিতি থাকে ছাত্রীদের।

পশ্চিমবঙ্গ কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির ( ওয়েবকুটা) সাধারণ সম্পাদক নিলয়কুমার সাহা বলেন, “আমাদের রাজ্যে প্রায় ৪০০ কলেজ রয়েছে। অধিকাংশই ‘এনরোলমেন্ট সেন্টারে’ পরিণত হয়েছে। অর্থাৎ, নাম তোলাটুকুই দায়। সকলেই জানেন, একবার ভর্তি হয়ে গেলে ক্লাস না করলেও সকলেই পরীক্ষায় বসতে পারবেন।” তাঁর দাবি, এ ভাবে সরকারপোষিত কলেজগুলির পঠনপাঠনের মান তলানিতে ঠেকেছে।

পলতার পিএন দাস কলেজের অধ্যক্ষ শর্মিলা দে বলেন, “ক্লাসে উপস্থিতির হার সর্বত্র কম থাকে। আমরা এ জন্য বিশেষ ক্লাস করিয়ে বা প্র্যাকটিকাল করিয়ে থাকি। তবে এটা বলতেই হয় ছেলেদের থেকে মেয়েরা অনেক বেশি সচেতন। যারা নিয়মিত ক্লাস করে তাদের মধ্যে অধিকাংশই ছাত্রী। উপস্থিত পড়ুয়াদের মধ্যে ৬০ শতাংশের বেশি থাকে তাঁরাই।”

Advertisement
আরও পড়ুন