WBCHSE Question Bank

একাদশে কেমন হচ্ছে মূল্যায়ন! সব স্কুলের কাছে প্রশ্নপত্র চেয়েছে সংসদ, চিন্তার ভাঁজ প্রধানশিক্ষকদের কপালে

সংসদের তরফে দাবি করা হয়েছে, সর্বভারতীয় বিভিন্ন পরীক্ষার পাশাপাশি ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে আগ্রহীদের বাড়তি সুবিধা দিতেই এই প্রশ্নের সংকলন তৈরির পরিকল্পনা । তবে সংসদ সভাপতি জানিয়েছেন পরোক্ষে স্কুলগুলির মূল্যায়ন ব্যবস্থা খতিয়ে দেখাও তাঁদের উদ্দেশ্য।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ১৮ মার্চ ২০২৬ ১৮:০৮

— প্রতীকী চিত্র।

একাদশ শ্রেণিতে কেমন চলছে পঠনপাঠন, কেমন হচ্ছে মূল্যায়ন, তা-ই এ বার খতিয়ে দেখতে চাইছে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ। সম্প্রতি রাজ্যের সব উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলের কাছে একাদশ শ্রেণির প্রশ্নপত্র চেয়ে পাঠিয়েছে সংসদ। সেখান থেকে বাছাই করে বিভিন্ন স্কুলের সেরা প্রশ্নগুলি নিয়ে পড়ুয়াদের জন্য একটি ‘প্রশ্ন সংকলন’ তৈরির পরিকল্পনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংসদের সভাপতি পার্থ কর্মকার। আর তাতেই কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষের।

Advertisement

সংসদের তরফে দাবি করা হয়েছে, সর্বভারতীয় বিভিন্ন পরীক্ষার পাশাপাশি ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে আগ্রহীদের বাড়তি সুবিধা দিতেই এই প্রশ্নের সংকলন তৈরির পরিকল্পনা তবে সংসদ সভাপতি জানিয়েছেন পরোক্ষে স্কুলগুলির মূল্যায়ন ব্যবস্থা খতিয়ে দেখাও তাঁদের উদ্দেশ্য। পার্থ বলেন, “একাদশ শ্রেণিতে সব স্কুলে নিজের মতো করে প্রশ্নপত্র তৈরি করে। তাই সংসদের তরফ থেকে প্রশ্নপত্র চাওয়া হয়েছে। পাঠ্যক্রম মেনেই সব প্রশ্ন করা হয়েছে কিনা, তা দেখে নেওয়ার পাশাপশি সেরা প্রশ্নগুলি বাছাই করে একটি পৃথক প্রশ্ন সংকলন তৈরি করা হবে।”

এর ফলে যারা এ বছর মাধ্যমিক দিয়েছে তারাও যেমন একাদশ শ্রেণিতে এই সংকলন পাবে, তেমনই যারা দ্বাদশ শ্রেণির পাশ করে সর্বভারতীয় যে কোনও পরীক্ষায় বসতে চাইছে তারাও এই বইয়ের সাহায্য নিতে পারবে। পাশাপাশি রাজ্যের প্রায় সাত হাজার স্কুলের প্রশ্নপত্র থেকে যে সব প্রশ্ন বেছে নেওয়া হবে, সেগুলোর মান অনেক উন্নত হবে এবং পড়ুয়াদের আগামী দিনে সহায়ক হবে বলেই মনে করছেন সভাপতি।

কিন্তু এ খানেই বিপাকে পড়ছে রাজ্যের সরকারপোষিত স্কুলগুলি। অধিকাংশ স্কুলেই যথেষ্ট পরিকাঠামো নেই বলে অভিযোগ। সেখানে প্রশ্নপত্র তৈরি করা এবং তা সংসদে পাঠানো নিয়ে তৈরি হয়েছে দুর্ভাবনা।

দক্ষিণ ২৪ পরগনার কৃষ্ণচন্দ্রপুর হাই স্কুলের প্রধানশিক্ষক চন্দন মাইতি বলেন, “আমাদের একাদশ-দ্বাদশ স্তরের অনেক বিষয়েই শিক্ষক নেই। প্রশ্নপত্র তৈরি করবে কে? আমরা চাই একাদশের প্রশ্ন সংসদই তৈরি করে পাঠাক।” দক্ষিণ দিনাজপুরের একটি স্কুলের প্রধানশিক্ষক আবার বলেন, “শিক্ষকের অভাব। তাই বাধ্য হয়েই প্রশ্নপত্র বাইরের সংস্থা থেকে কিনতে হয়।” পূর্ব মেদিনীপুরের এক স্কুলের প্রধানশিক্ষক বলেন, “আমরা কয়েকটি স্কুল একসঙ্গে মিলে প্রশ্নপত্র তৈরি করি। যেখানে পদার্থবিদ্যার শিক্ষক নেই সেখানে অন্য স্কুলের পদার্থবিদ্যার শিক্ষক প্রশ্ন করে দেন। এ ভাবেই চলে।” কোনও কোনও স্কুল কর্তৃপক্ষ দাবি করেছেন, প্রশ্নপত্র ছাপানোর মতো আর্থিক সঙ্গতি তাঁদের নেই।

বিকাশ ভবন সূত্রের খবর, নবম দশম স্তরের শিক্ষকদের দিয়ে প্রশ্ন করানো যায়। কিন্তু তার জন্য শিক্ষকের নির্দিষ্ট যোগ্যতা প্রয়োজন। কিন্তু বাইরের কোনও সংস্থা কোনও ভাবেই প্রশ্নপত্র তৈরি করে দিতে পারে না। অথচ, তেমন ঘটনাই ঘটছে।

এ দিকে সংসদ চাইছে একাদশ শ্রেণির পরীক্ষা যেন কোনও ভাবেই গুরুত্বহীন না হয়ে যায়, সে দিকে নজর দিতে। নিয়ামক সংস্থা হিসাবে সর্বস্তরে পাঠ্যক্রম মেনে ঠিক ভাবে পরীক্ষা হচ্ছে কি না সেটাও দেখা সংসদের কর্তব্য।

তবে এই প্রশ্ন সংকলন করার পরিকল্পনাকে সাধুবাদ জানিয়েছে অনেক স্কুলই। যেমন যাদবপুর বিদ্যাপীঠের প্রধানশিক্ষক পার্থপ্রতিম বৈদ্য বলেন, “সংসদ সভাপতির এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই। এর ফলে পড়ুয়ারা একই পাঠ্যক্রমের বিভিন্ন ধরনের প্রশ্ন সম্পর্কে অবহিত হতে পারবে। খুব ভাল উদ্যোগ।” কল্যাণীর পান্নালাল ইনস্টিটিউশনের প্রধানশিক্ষক রমেন চন্দ্র ভাওয়াল বলেন, এই প্রশ্ন সংকলন পড়ুয়াদের কাছে খুবই গ্রহণযোগ্য হবে। ওরা অনেক বাড়তি সুবিধা পাবে।"

Advertisement
আরও পড়ুন