ছবি: সংগৃহীত।
মুরগির কষা মাংস হোক বা ফুলকপির ডালনা অথবা স্বাস্থ্যকর স্যালাড— টম্যাটোর প্রয়োজন প্রায় সব রান্নাতেই পড়ে অল্পবিস্তর। রান্নাঘরে এই আনাজটি তাই চাল-ডাল-আলু-পেঁয়াজের মতোই অবশ্য প্রয়োজনীয়। কিন্তু রোজের রান্নায় যা ব্যবহার করছেন, তা ভাল করে ধুয়ে ব্যাবহার করছেন কি?
মনে হতেই পারে, টম্যাটো আবার আলাদা করে ধোয়ার কি আছে। মসৃন খোলস জল দিয়ে ধুলেই ঝকঝকে পরিষ্কার হয়ে যায়! সত্যিই কি তাই? পোকামাকড়ের হাত থেকে বাঁচাতে বছরের অধিকাংশ সময়েই টম্যাটো চাষীরা জোরালো কীটনাশক ব্যবহার করেন টম্যাটো গাছে। সেই সঙ্গে ভাল ফলনের জন্য ব্যবহার করা হয় নানা রকমের রাসায়নিক সারও। যেহেতু এই সব্জির খোলস পাতলা এবং ফলটিও নরম, তাই বাইরের কীটনাশক খোলসের ভিতরেও প্রবেশ করে সহজেই এবং রান্নায় মেশে। শরীরেও যায়। বিশেষ করে স্যালাডে বা ভর্তায় যেখানে কাঁচা বা আধপোড়া টম্যাটো ব্যবহার করা হয়, তাতে তো এমন হয়ই।
মুক্তি পেতে হলে কী করবেন?
শুধু জলে ধুয়ে কাজ হবে না। তাতে বড়জোর ধুলো ময়লা দূর হতে পারে। কিন্তু রাসায়নিকের অবশিষ্টাংশ সরানো যাবে না। তা হলে কী করবেন? বাড়িতেই থাকা একটি সাধারণ উপাদান এ ক্ষেত্রে ভাল কজ করতে পারে। আর সেই উপাদানটি হল নুন। সাধারণ টেবিল সল্ট। কীটনাশক ও রাসায়নিক দূর করতে নুন ভাল কাজ করতে পারে। তাই প্রতি বার টম্যাটো রান্নায় ব্যবহারের আগে অথবা বাজার থেকে কিনে আনার পরে নুন জলে ডুবিয়ে ভাল ভাবে পরিষ্কার করতে হবে।
কী ভাবে পরিষ্কার করবেন?
একটি বড় গামলায় ততটা জল দিন যাতে টম্যাটো সম্পূর্ণ ডুবে যায়। এর মধ্যে দিয়ে দিন নুন। প্রতি লিটার জলে ১ চা চামচ করে। ভাল ভাবে গুলে নিয়ে ওর মধ্যে টম্যাটোগুলি ডুবিয়ে দিন। অন্তত ১৫-২০ মিনিট রাখলে টম্যাটোর খোলায় লেগে থাকা কীটনাশক এবং রাসায়নিক আলগা হয়ে বেরিয়ে যাবে। এর পরে ওই জলটি ফেলে দিয়ে টম্যাটোগুলিকে কলের খোলা জলের নীচে হাতে করে রগড়ে ধুয়ে ফেলুন।
এ ভাবে টম্যাটো পরিষ্কার করলে অন্তত একটি বিষয় নিশ্চিত করা যাবে যে রান্নার সঙ্গে পেটে ক্ষতিকর কোনও রাসায়নিক যাচ্ছে না। যা থেকে নানা জটিল রোগ শরীরে দানা বাঁধতে পারে।