Government College

ভিন্‌রাজ্যে কোনও সম্মেলনে যোগ দিলেও নিতে হবে অনুমতি! রাজ্য সরকারি কলেজশিক্ষকদের নির্দেশ

নতুন নির্দেশিকায় বলা হয়েছে দেশে বা বিদেশে কোনও সম্মেলনে যোগ দিতে হলে আগাম সরকারি অনুমতি প্রয়োজন। শিক্ষকদের দাবি, বিদেশে কোনও কর্মশালায় যোগ দিতে হলে মুখ্যমন্ত্রীর অনুমোদন নিতে হয় উচ্চশিক্ষা দফতরের মাধ্যমে। সে নিয়ম বরাবরই প্রচলিত। তাই নতুন করে বিদেশ ভ্রমণের জন্য আগাম অনুমতির কথা অর্থহীন।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ০৯ মার্চ ২০২৬ ১৫:১৫

ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।

দেশের ভিতরে কোনও সম্মেলনে যোগ দিতে গেলেও আগাম অনুমতি নিতে হবে সরকারের। উচ্চশিক্ষা দফতরের তরফে রাজ্যের সরকারি কলেজ শিক্ষকদের জন্য নতুন নির্দেশিকা নিয়ে শুরু হল বিতর্ক।

Advertisement

সম্প্রতি রাজ্যের উচ্চশিক্ষা দফতরের তরফে রাজ্যের সব সরকারি কলেজের অধ্যক্ষদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কোনও শিক্ষক দেশের যে কোনও প্রান্তে কোনও সম্মেলন, কর্মশালা বা বৈঠকে যেতে চাইলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিতে হবে আগাম অনুমতি এবং ফিরে এসে ১৫ দিনের মধ্যে তার রিপোর্ট জমা দিতে হবে।

এই নির্দেশিকা নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। যদিও শিক্ষকদের দাবি, এই নির্দেশ ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল সার্ভিস রুল’-এর পরিপন্থী। পশ্চিমবঙ্গ সরকারি কলেজ শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক দেবাশিস সরকার জানান, তাঁদের চাকরির নিয়মে (সার্ভিস রুল) কোথাও এই আগাম অনুমতি নেওয়ার কথা উল্লেখ করা নেই।

নতুন নির্দেশিকায় বলা হয়েছে দেশে বা বিদেশে কোনও সম্মেলনে যোগ দিতে হলে আগাম সরকারি অনুমতি প্রয়োজন। শিক্ষকদের দাবি, বিদেশে কোনও কর্মশালায় যোগ দিতে হলে মুখ্যমন্ত্রীর অনুমোদন নিতে হয় উচ্চশিক্ষা দফতরের মাধ্যমে। সে নিয়ম বরাবরই প্রচলিত। তাই নতুন করে বিদেশ ভ্রমণের জন্য আগাম অনুমতির কথা অর্থহীন। কিন্তু দেশের ভিতরে কোথাও যেতে হলেও অনুমতি নেওয়ার বিষয়টি অনভিপ্রেত ও অনাবশ্যকব বলেই দাবি দেবাশিসের।

শিক্ষকেরা জানান, সাধারণত এ ধরনের কোনও কর্মশালা যেতে হলে তাঁরা ‘অন ডিউটি’ ছুটি নিয়ে যেতেন। পরে ফিরে এসে সেই রিপোর্ট উচ্চশিক্ষা দফতরের পাঠাতে হয়। তার ভিত্তিতে ছুটির অনুমোদন মেলে। তাঁদের দাবি, এই ছুটি পেতে প্রায় বছর দেড়েক সময় লেগে যায়। ফলে আগাম অনুমতি নিতে হলে অনেক কর্মশালা বা সম্মেলনে যোগ দেওয়াই সম্ভব হবে না হয়তো।

তবে উচ্চশিক্ষা দফতর থেকে সাফ জানানো হয়েছে, মুখ্যসচিবের দফতর থেকে এই নির্দেশিকা এসেছে। তা পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে কলেজগুলিকে। শিক্ষকদের দাবি মতো এই নির্দেশিকা সার্ভিস রুলের পরিপন্থী কি না, তা নিয়ে অবশ্য কিছু জানায়নি দফতর।

দেবাশিস সরকার বলেন, “যদি পুরনো সার্ভিস রুলের বাইরে কোনও নির্দেশিকা দিতে হয়, তা হলে বিধানসভায় এই চাকরির নিয়ম পরিবর্তন করতে হবে। তার আগে এ ভাবে কোনও নির্দেশিকা দেওয়া যায় না।”

Advertisement
আরও পড়ুন