ICSE & ISC toppers 2026

দশম-দ্বাদশে পূর্ণমান! কলকাতার পড়ুয়ারা কে কেমন ফল করলেন সিআইএসসিই পরীক্ষায়?

দশম শ্রেণির আইসিএসই এবং দ্বাদশ শ্রেণির আইএসসি পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা করল কাউন্সিল ফর দ্য ইন্ডিয়ান স্কুল সার্টিফিকেট এগজ়ামিনেশন (সিআইএসসিই)। কৃতীরা কে কোন দিকে এগোতে চায়?

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ৩০ এপ্রিল ২০২৬ ১৫:০৮
বাঁ দিকে ইলিনা উদানি, ডান পাশে অনুষ্কা ঘোষ আর মাঝে অর্কদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়।

বাঁ দিকে ইলিনা উদানি, ডান পাশে অনুষ্কা ঘোষ আর মাঝে অর্কদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: সংগৃহীত।

মায়ের ইচ্ছা পূরণ করল মেয়ে। সেই কোন কালে মা স্বপ্ন দেখেছিলেন, তাঁর মেয়ে দেশের মধ্যে সেরা হবে। সেই লক্ষ্যেই মেয়েকে পড়াশোনা করাতেন নিজে। একটু বড় হতেই মেয়েকে ইচ্ছার কথা জানান। কিন্তু মেয়ের উপরে যেন বাড়তি চাপ না পড়ে সেই উপায়ও বলে দেন মা, ‘সব বিষয়ে পূর্ণমান পাওয়ার মতো করে পড়াশোনা করতে হবে। বাকি কিছু ভাবতে হবে না।’

Advertisement

শুধু এই মন্ত্রেই মায়ের পরামর্শ আর স্কুলের শিক্ষকদের দেখানো পথে হেঁটে বাজিমাত করল পানিহাটি, সেন্ট জেভিয়ার্স স্কুলের অনুষ্কা ঘোষ। আইএসসি পরীক্ষায় সব বিষয়ে পূর্ণমান পেয়ে মায়ের ইচ্ছা পূরণ করল সে। ইংরেজি, গণিত, পদার্থবিদ্যা, রসায়ন ও কম্পিউটার সায়েন্স-এর প্রতিটিতেই ১০০-এ ১০০ পেয়েছে সে। ভবিষ্যতে এরোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশোনা করতে চাইলেও তার প্রধান শখ কবিতা ও গল্প লেখা।

ফলপ্রকাশের পরই ৫০০-এ ৫০০ পাওয়া অনুষ্কার দাবি, ‘‘কবিতা ও গল্প লেখাই তো আমার পরিচিতি। আমি যাই করি লেখালেখিই আমরা প্রাণ।’’ মা অবিষী ঘোষের বক্তব্য, ‘‘মেয়ে ইচ্ছা পূরণ করলে কতটা আনন্দ হয় সেটা আজ উপলব্ধি করতে পারছি। ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না।’’

ছোট থেকেই গল্প ও কবিতা লেখার নেশা ইলিনা রাজকুমার উদানিরও। ইংরেজি সাহিত্যের প্রতি ভালবাসা। সেই ভাষাকেই আরও বেশি করে জানতে-শিখতে চায় কলকাতা থেকে আইএসসি পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বর প্রাপকদের মধ্যে অন্যতম নিউ গড়িয়ার বাসিন্দা ইলিনা। ভবিষ্যতে শিক্ষক হতে চায় আনন্দপুরের দি হেরিটেজ স্কুলের ছাত্রীটি। দ্বাদশের পরীক্ষায় ৪০০-র মধ্যে ৪০০ পেয়েছে সে। রাজকুমার উদানি ও দেবলীনা রায়ের একমাত্র মেয়ে ইলিনা ইংরেজি, ঐচ্ছিক ইংরেজি, সমাজবিজ্ঞান এবং গণজ্ঞাপন বিষয়ে পূর্ণমান ১০০ পেয়েছে। ইংরেজি-সহ সেরা তিন বিষয় ধরে হিসাব করলে ৪০০-এ ৪০০ পেয়েছে।

ইলিনা সাহিত্যে আগ্রহী। ইতিমধ্যেই তার লেখা একটি কবিতার বই প্রকাশ পেয়েছে। কলকাতার নামী তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থার উচ্চপদস্থ কর্মীদম্পতির সন্তান ইলিনা আগ্রহী সাহিত্যে। ছোট থেকেই কি এমনই আগ্রহ তার? মা দেবলীনা জানান, ছোটবেলা থেকেই ইংরেজি ভাষার প্রতি মেয়ের আগ্রহ। ইংরেজি বই পড়া, লেখা নিয়েই ব্যস্ত থাকতে ভালবাসে ইলিনা। ভবিষ্যতে এ বিষয়ে গবেষণা করতে চায় সে। সৃজনশীল লেখালিখিতেই তার আগ্রহ।

ইতিমধ্যে দিল্লির একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকে ভর্তি হয়েছে ইলিনা। হেরিটেজ স্কুলের তরফে অধ্যক্ষা সীমা সাপ্রু বলেন, “বরাবরই মেধাবী এই ছাত্রীর ইংরেজিতে বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। ও ৪০০-তে ৪০০ পাওয়ায় স্কুলের প্রত্যেকে খুব খুশি।”

অন্য দিকে দশমে রামমোহন মিশন হাইস্কুলের অর্কদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ৫০০-র মধ্যে ৪৯৯ পেয়েছে। অর্কদীপ বিজ্ঞান, গণিত, কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশন, ইতিহাস-সিভিকস-ভূগোল বিভাগে ১০০-এ ১০০ পেয়েছে। ইংরেজিতে পেয়েছে ৯৯। অর্কদীপের ভাললাগার বিষয় পদার্থবিদ্যা, গণিত। তবে ভবিষ্যতে কম্পিউটার নিয়েই পড়াশোনা করতে চায় সে। কম্পিউটার সায়েন্স, বিশেষত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়েই পড়তে ইচ্ছুক অর্কদীপ।

সব সময় বই নিয়ে বসে থাকার ছেলে সে নয়। ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত মা অর্পিতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছেই পড়াশোনা করত। পরে কোনও কোনও বিষয়ে গৃহশিক্ষক ছিলেন। কিন্তু সারাদিন বই নয়, বরং অবসরে পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতেই বেশি পছন্দ করে অর্কদীপ।

ওই একই স্কুলের আর এক ছাত্র, বাঘাযতীনের বাসিন্দা অভিনব দাসও কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশন এবং গণিতে ১০০-এ ১০০ পেয়েছে। ইংরেজিতে তার প্রাপ্ত নম্বর ৯৯ এবং বিজ্ঞানেও পেয়েছে ৯৮। অর্কদীপের মতো অভিনবেরও ইচ্ছা ভবিষ্যতে কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশন নিয়েই পড়ার। রামমোহন মিশন হাইস্কুলের অধ্যক্ষ সুজয় বিশ্বাস বলেন, ‘‘এই ভাল ফল ওদের ভবিষ্যৎ আরও উজ্জ্বল করবে। সকলকে শুভেচ্ছা।’’

Advertisement
আরও পড়ুন