Calcutta High-count

কলকাতার স্কুলে ইসকনের মিড-ডে মিল! সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাই কোর্টে মামলা শীর্ষণ্য - কল্যাণের

কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার দাবি করেছেন কল্যাণেরা মামলা করে প্রচারের আলো পেতে চাইছেন। তাঁর দাবি, কেন্দ্র-রাজ্যের পাশাপাশি ইসকনও এই প্রকল্পে অর্থ সংস্থান করছে। তাদের খাবারের মানও ভাল।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ০৩ জুলাই ২০২৬ ১৯:৫৭
কলকাতা হাইকোর্ট।

কলকাতা হাইকোর্ট। ছবি : ফাইল চিত্র।

কলকাতার মিড-ডে মিল নিয়ে দায়ের হল জনস্বার্থ মামলা। শুক্রবার হাই কোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করলেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুত্র আইনজীবী শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁরা প্রশ্ন তুলেছেন ইসকনের মতো একটি সংস্থার হাতে মিড-ডে মিল পরিচালনার দায়িত্ব তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে।

Advertisement

গত সপ্তাহে রাজ্য বিধানসভায় বাজেট পেশের সময় অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত ঘোষণা করেন কলকাতার পুর এলাকার স্কুলগুলিতে মিড-ডে মিলের দায়িত্ব দেওয়া হবে ইসকনকে। পাইলট প্রজেক্ট হিসাবে কলকাতা সফল হলে রাজ্যের অন্যত্রও এই দায়িত্ব তাদের দেওয়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন স্কুলশিক্ষা মন্ত্রী দীপক বর্মন। তার পর থেকেই শুরু হয়েছে বিতর্ক। স্কুলে মধ্যাহ্নভোজনে পুষ্টিবর্ধক খাদ্য হিসাবে পড়ুয়াদের ডিম দেওয়া হয়। কোনও কোনও স্কুল বিশেষ দিনে মাংসের ব্যবস্থাও করে। সেখানে ইসকনের মতো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দিলে খাদ্যতালিকায় আমিষ বাদ পড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে।

কলকাতার স্কুলগুলিতে পিএমপোষণ বা মিড ডে মিলের ডিম ও মাছের মতো আমিষ খাবারের পরিবর্তে রাজমা, পনির দেওয়ার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হল কলকাতা হাই কোর্টে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চে মামলা দায়ের হয়। কিন্তু রাজ্যের তরফে খানিক সময় চাওয়া হয়েছে। তাই আগামী মঙ্গলবার মামলাটির শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।

গত ২২ জুন বিধানসভায় বাজেট পেশের সময়ে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত জানান যে কলকাতা পুরসভার এলাকার সব স্কুলের মিড ডে মিলের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে ইস্কনকে। সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘‘পাইলট প্রজেক্ট হিসাবে কলকাতার স্কুলগুলির জন্য মিড-ডে মিলের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে ইসকনকে। তারাই খাওয়াবে। খেয়ে দেখুন গুণমানে ভাল। আপনার ইচ্ছা না হলে ‘হরেকৃষ্ণ’ বলবেন না।’’ তার পরে স্কুলশিক্ষা মন্ত্রী দীপক বর্মন ২৩ জুন জানান যে এই প্রজেক্ট সফল হলে অন্যত্রও চালু হতে পারে। পাশাপাশি তিনি বলেছিলেন “বহু মানুষ নিরামিষাশী। তাঁরাও পুষ্টি পান।” অর্থাৎ তিনিও ডিম ছাড়া পুষ্টির পক্ষেই মত দিয়েছিলেন।

বিকাশ ভবন সূত্রের খবর, স্কুলশিক্ষা দফতরের অধীনস্থ স্কুলগুলিতে প্রতি সপ্তাহেই ডিম দেওয়া হয়। দক্ষিণ কলকাতার একটি স্কুলের প্রধান দাবি করেন, পুষ্টিগুণের বিচারে মিড-ডে মিলের খাদ্যতালিকা তৈরি করা হয়। সেখানে আমিষ খাবার রাখা জরুরি। কিন্তু ইসকনকে যদি খাবারের দায়িত্ব দেওয়া হয় তা হলে শিশুরা নিরামিষ খেতে পাবে, এটা মনে করা যেতেই পারে। কিন্তু তা অনেকের পছন্দ না-ও হতে পারে।

মিড-ডে মিলের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছেন হাজার হাজার মহিলা। স্বনির্ভর গোষ্ঠীর আওতায় তাঁরা রোজগার করেন সরকারি প্রকল্পে। এই কাজের দায়িত্ব তৃতীয় পক্ষের হাতে গেলে, কাজ হারাবেন তাঁরাও। হিসাব বলছে কলকাতায় প্রায় সাড়ে তিন হাজার রাঁধুনি রয়েছেন। তাঁদের কী হবে? উঠছে সে প্রশ্নও। ইতিমধ্যেই কলকাতা-সহ রাজ্যের নানা প্রান্তে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন মিড-ডে মিল কর্মীরা।

এরই মধ্যে শুক্রবার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে শিক্ষা সংক্রান্ত এক অনুষ্ঠানের শেষে কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বলেন, “মামলা করে ওঁরা প্রচারের আলোয় আসতে চান। আমাদের সরকার কাজ করছে। আগে যে খাবার দেওয়া হত, ইসকনের খাবারের মান তার থেকে ভাল। তা ছাড়া, কলকাতায় পাইলট প্রজেক্ট হিসাবে ইসকনের খাবার দেওয়া হবে। গোটা রাজ্যে তো দেওয়া হচ্ছে না।’’ তিনি জানান, রাজ্য-কেন্দ্রের পাশাপাশি এই প্রকল্পে অর্থ সংস্থান করছে ইসকন নিজেও। তাঁর কথায়, ‘‘ভারতবর্ষের বিভিন্ন স্থানে এটা হয়, নতুন কিছু নয়।’’

Advertisement
আরও পড়ুন