ছবি: সংগৃহীত।
ডিজিটাল মূল্যায়নের প্ল্যাটফর্ম ততটাও সুরক্ষিত ছিল না। তাই কৃত্রিম মেধাকে হাতিয়ার করে সহজেই সেখানে প্রবেশ করা সম্ভব হয়েছিল। অন স্ক্রিন মার্কিং (ওএসএম) প্ল্যাটফর্মটিতে সাইবার হানার নেপথ্যের কারণ খুঁজতে গিয়ে এমন তথ্যই পেলেন আইআইটি প্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞেরা।
আইআইটি কানপুর এবং আইআইটি মাদ্রাজের বিশেষজ্ঞেরা সিবিএসই-র ওই পোর্টালটির পর্যবেক্ষণ করছেন। খুঁজে দেখছেন, কী ভাবে ওই পোর্টালটি ‘হ্যাক’ করা হয়েছিল। তাতেই এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে আসে। আইআইটি প্যানেল জানিয়েছে, একাধিক এআই মডেল এবং টুল ব্যবহার করে প্রথমে পোর্টালটির নিরাপত্তার গলদ খুঁজে বার করা হয়েছে। তার পরে পোর্টালে প্রবেশ করে তা সাময়িক ভাবে অকেজো করে তোলা হয়েছে।
এ ছাড়াও ওএসএম প্ল্যাটফর্মটি পরিচালনার দায়িত্বে থাকা কোএম্পট এডুটেক সংস্থার বিরুদ্ধেও একাধিক অভিযোগ রয়েছে আইআইটি প্যানেলের। পোর্টালটি সুরক্ষিত রাখার জন্য যথাযথ ব্যবস্থাপনা ওই সংস্থা করেনি বলে অভিযোগ। পাশাপাশি, এত সংখ্যক নথি এবং তথ্য নিরাপদে রাখার জন্য যে ধরনের পরিকাঠামো থাকা দরকার, তা-ও নাকি ছিল না সংশ্লিষ্ট পোর্টালে। বর্তমানে সংশ্লিষ্ট পোর্টালটির প্রযুক্তি এবং পরিকাঠামোগত বিষয়টি কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের সঙ্গে যৌথ ভাবে আমাজ়ন ওয়েব সার্ভিসেস-এর ভারতীয় দফতর তত্ত্ববধান করছে।
ঘটনার জেরে পরীক্ষার্থীদের লক্ষাধিক তথ্য রয়েছে, এমন তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাগুলি নতুন করে নিরাপত্তার বলয় গড়ে তোলার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, ইন্ডিয়ান কম্পিউটার এমার্জেন্সি রেসপন্স টিম সিবিএসই-র এই পোর্টালের অডিট প্রক্রিয়া শুরু করতে চলেছে। বিষয়টি সাধারণ সাইবার হানার মতো ঘটনা না হওয়ায় আলাদা করে এথিক্যাল হ্যাকারদের সাহায্যও নিচ্ছে কেন্দ্র।
উল্লেখ্য, সেন্ট্রাল বোর্ড অফ সেকেন্ডারি এগ্জ়ামিনেশন-এর (সিবিএসই) ওএসএম পদ্ধতিতে মূল্যায়নের পর ফলাফল নিয়ে বিস্তর অভিযোগ করেন দ্বাদশের পড়ুয়ারা। উত্তরপত্রের প্রতিলিপি হাতে পাওয়ার পর তাঁরা দেখেন কোথাও সঠিক উত্তরে নম্বর দেওয়া হয়নি, আবার কোথাও ঝাপসা প্রতিটা পাতাই। ঘটনার জেরে পুনর্মূল্যায়নের ব্যবস্থা করে বোর্ড। তাতেও আবেদন করতে গিয়ে বেগ পেতে হয়েছে পড়ুয়াদের, এমনটাই তাঁরা সমাজমাধ্যমে দাবি করেছিলেন।