Admission decrease in Kolkata

উচ্চশিক্ষায় কি কমছে কলকাতার গ্রহণযোগ্যতা? স্নাতকে ভর্তির নিরিখে শহরকে টেক্কা মফস্সলের

উচ্চশিক্ষা দফতর জানিয়েছে, এই চিত্র একেবারে প্রাথমিক। এখনও ভর্তি প্রক্রিয়া চলছে। ২৯ জুলাইয়ের আগে সম্পূর্ণ চিত্র পাওয়া যাবে না। তা না হলে প্রবণতার বিষয়েও নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছোনো যাবে না। উচ্চশিক্ষা মন্ত্রীও সম্প্রতি জানিয়েছেন বর্তমানে ভর্তির চিত্র একেবারেই আংশিক।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬ ১৮:৪৯

— প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

কলকাতার কলেজে ভর্তি হতে আগ্রহী নন দ্বাদশ উত্তীর্ণেরা?

Advertisement

উচ্চশিক্ষা দফতরের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যের কলেজগুলিতে স্নাতকে ভর্তির নিরিখে খানিকটা হলেও এগিয়ে মফস্‌সলের কলেজগুলি। বিকাশ ভবন সূত্রের খবর, ২০২৬-এ স্নাতকে ভর্তির জন্য অনলাইন পোর্টাল চালু হয়েছে ১৯ মে থেকে। গোটা রাজ্যের ৪০০-র বেশি কলেজে ভর্তির জন্য প্রায় ৩ লক্ষের বেশি ছাত্রছাত্রী আবেদন করেছিলেন। কলকাতার কলেজগুলির তুলনায় শহরতলি ও জেলার কলেজগুলিতে ভর্তির সংখ্যা বেশি। এমনকি এই ভর্তির নিরিখে প্রথম ১৫টি কলেজের তালিকায় কলকাতার একটি কলেজও নেই।

সূত্রের খবর, ‘আপগ্রেড রাউন্ড’ শুরু হওয়ার আগে ভর্তির দিক থেকে সর্বপ্রথম উত্তর ২৪ পরগনার গোবরডাঙা হিন্দু কলেজ। বারাসতের রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধীনস্থ ওই কলেজে প্রায় ২,৮০০ ছাত্রছাত্রী ভর্তি হয়েছেন। এর পরেই রয়েছে কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ মুর্শিদাবাদের বহরমপুর কলেজ। সেখানে ভর্তি হয়েছেন ২,৭০০ পড়ুয়া। তৃতীয় স্থানে রয়েছে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ হাওড়া জেলার উলুবেড়িয়া কলেজ। সেখানে ভর্তির সংখ্যা ২,৫০০।

সূত্রের খবর, এই পরিসংখ্যানের উপর ভিত্তি করে কলেজগুলিকে পর্যায়ক্রমে সাজানো হয়েছে। যেখানে কলকাতার কোনও কলেজ নেই। দফতর সূত্রের খবর, কলকাতার কলেজগুলির জন্য মোট অনুমোদিত আসনের সংখ্যা ৯৩ হাজার। অথচ, মাত্র ৩৩ হাজার ভর্তি হয়েছে। কলকাতার সুপ্রাচীন, খ্যাতনামা কলেজগুলিকে কী ভাবে টেক্কা দিচ্ছে জেলার কলেজগুলি?

শিক্ষামহলের দাবি, এর নেপথ্যে রয়েছে কলকাতার আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপট। শিক্ষকদের একাংশের দাবি, শহর কলকাতায় পড়াশোনার সুযোগসুবিধা অনেক বেশি। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সংগঠন ওয়েবকুটা-র রাজ্য সম্পাদক নিলয়কুমার সাহা জানান, ভৌগোলিক কারণও বড় বিষয়। পাশাপাশি কলকাতায় বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আধিক্যেও সরকারি ও সরকারপোষিত কলেজগুলিতে ভর্তির আবেদন কমছে। তাঁর কথায়, “জে‌লার দিকে এক একটি কলেজের মধ্যে অনেক দূরত্ব। ফলে আশপাশ এলাকার ছাত্রছাত্রীরা সেখানেই ভর্তি হতে চাইছেন। আবেদনের সংখ্যা বাড়ছে।”

নিলয়ের বক্তব্যের যথার্থতা প্রমাণ হয় জেলার দিকে তাকালেই। উত্তর ২৪ পরগনার গোবরডাঙা ও সংলগ্ন এলাকার ছাত্রছাত্রীদের জন্য সব থেকে সহজগম্য কলেজ হল গোবরডাঙা হিন্দু কলেজ। না হলে তাঁদের যেতে হবে হাবরা ও বনগাঁ কলেজে। আবার হাওড়ার উলুবেড়িয়া এলাকার পড়ুয়ারা উলুবেড়িয়া কলেজেই পড়তে চান। না হলে সব থেকে কাছে বাগনান কলেজ। কিন্তু তার দূরত্বও অনেক। অথচ, সেখানে না পড়লে পড়ুয়াদের আসতে হবে ফুলেশ্বর, চেঙ্গাইল, বাউড়িয়া, নলপুর, আবাদা সাঁকরাইল পেরিয়ে আন্দুল কলেজে। ফলে এলাকার বাসিন্দারা ওই সব কলেজেই ভর্তি হতে চান। কিন্তু কলকাতার ক্ষেত্রে ছবিটা আলাদা। কলকাতায় সরকারি ও বেসরকারি কলেজের বিকল্প অনেক বেশি। কলকাতায় যত সংখ্যক বেসরকারি কলেজ–বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে শহরতলি বা গ্রামে তা নেই।

তবে, শুধু এটুকুই নয়। শিক্ষকদের অনেকেই মনে করেন, গত এক দশকের বেশি সময় ধরে শিক্ষাব্যবস্থার অবনতি ঘটেছে। কলেজগুলিতে শুধু নাম নথিভুক্ত করেন পড়ুয়ারা। পড়াশোনা ভাল হয় না বলে অভিযোগ ওঠে বার বার। ক্রমাগত এ সব অভিযোগ ওঠায় নতুন প্রজন্মের ছাত্রছাত্রীরা বিমুখ হচ্ছেন বলে দাবি।

কলকাতার একটি কলেজের অধ্যক্ষ অবশ্য জানান, এই প্রবণতা খুবই ইতিবাচক। তিনি বলেন, ‘‘জেলা-মফস্সলে নিশ্চয়ই ভাল কলেজ তৈরি হয়েছে। সে কারণেই পড়ুয়াদের আর কলকাতামুখী হতে হচ্ছে না। এটা তো ইতিবাচক বিষয়।’’ নিউ আলিপুর কলেজের অধ্যক্ষ জয়দীপ ষড়ঙ্গী অবশ্য দাবি করেন, তাঁর কলেজে ভর্তির হার বৃদ্ধি পেয়েছে এ বার। তিনি বলেন, “গোটা কলকাতার অন্য কলেজের ক্ষেত্রে কী হয়েছে জানি না, তবে আমার কলেজে গত বছরের তুলনা এ বার ৪০ শতাংশ বেশি ভর্তি হয়েছে।’’

তবে উচ্চশিক্ষা দফতর সূত্রের খবর, শুধু কলকাতা নয়, গোটা রাজ্যেই বহু জেলাতেই আসন ফাঁকা থেকে যাবে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার কলেজগুলিতে অনুমোদিত আসনসংখ্যা ৭২ হাজার। কিন্তু ভর্তি হয়েছে মাত্র ২৬ হাজার। সম্প্রতি অবশ্য কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পশ্চিমবঙ্গ দিবসের উদ্‌যাপনের অনুষ্ঠানে এসে উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হলে তাঁরা এই নিয়ে বিশ্লেষণ করবেন। গত ১০ বছরে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির চিত্র নিয়ে আলোচনা করা হবে। পরের বছর ভর্তির আগে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

Advertisement
আরও পড়ুন