ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।
উচ্চ মাধ্যমিকে বিজ্ঞান শাখার পড়ুয়াদের জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জীববিদ্যা। তৃতীয় সেমেস্টারে এমসিকিউধর্মী প্রশ্নের পর চতুর্থ সেমেস্টারে ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে পরীক্ষায়। এতদিন স্কুলে এবং বাড়িতে নানা ভাবে চলেছে প্রস্তুতি। ২০ ফেব্রুয়ারি, শুক্রবার জীববিদ্যার পরীক্ষা। তাই তার আগে প্রশ্নের ধরন থেকে সময় বিভাজন— নানা জরুরি বিষয়ে মতামত দিয়েছেন যোধপুর পার্ক গার্লস উচ্চ বিদ্যালয়ের বিষয় শিক্ষিকা তথা সহ-প্রধাশিক্ষিকা অজন্তা চৌধুরী।
চলতি বছর থেকে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষাকে দু’টি সেমিস্টারে ভাগ হয়েছে। তৃতীয় এবং চতুর্থ সেমেস্টারে পড়ুয়াদের মোট প্রাপ্ত নম্বরের উপর ভিত্তি করেই উচ্চ মাধ্যমিকের চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করা হবে।
প্রথমেই চতুর্থ সেমেস্টারে প্রশ্নের ধরন কেমন হবে, তা জানিয়েছেন অজন্তা। প্রশ্নপত্রে চারটি বিভাগ থাকবে। প্রশ্ন হবে বর্ণনামূলক। এ বিভাগ থেকে ২ নম্বরের চারটি, বি বিভাগ থেকে ৩ নম্বরের ছ’টি, সি বিভাগ থেকে ৪ নম্বরের একটি এবং ডি বিভাগ থেকে ৫ নম্বরের একটি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। মোট ৩৫ নম্বরের পরীক্ষা। প্রতি প্রশ্নের ক্ষেত্রে থাকবে একটি বিকল্প প্রশ্ন। নম্বর বিভাজনের উপর নির্ভর করে উত্তর সংক্ষিপ্ত বা দীর্ঘ হবে। তবে সব ক্ষেত্রেই উত্তর স্পষ্ট হওয়া বা পয়েন্ট অনুযায়ী লেখা জরুরি।
সেমেস্টার পদ্ধতিতে এ বছরই প্রথম পরীক্ষা তবে পাঠ্যক্রম রয়েছে একই। তাই সংসদের মডেল প্রশ্নপত্র দেখার পাশাপাশি বিগত বছরগুলির প্রশ্নপত্রও এক বার দেখে নিতে হবে বলে মনে করেন শিক্ষিকা। বলেন, “গত বছর যে অধ্যায় থেকে যে প্রশ্ন আসেনি, এ বছর তা আসতেও পারে।”
অজন্তা জানিয়েছেন, জীববিদ্যার ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক চিত্রাঙ্কন খুব জরুরি। আঁকার প্রশ্ন আলাদা ভাবে না এলেও প্রয়োজনে চিত্রাঙ্কন করতে হবে পরীক্ষার্থীদের। উদাহরণস্বরূপ তিনি জৈবপ্রযুক্তিবিদ্যার অধ্যায়ের উল্লেখ করেছেন। বলেছেন, “এখান থেকে প্রশ্ন এলে পরীক্ষার্থীদের ছবি এঁকে বোঝাতে হবে। উপযুক্ত চিহ্নিতকরণের মাধ্যমে ধাপে ধাপে শুধু ছবি এঁকেও উত্তর দেওয়া যায়। সে ক্ষেত্রে আলাদা ভাবে লেখার প্রয়োজন পড়ে না।”
অজন্তার মতে, সঠিক কৌশল মেনে পড়াশোনা করলে এই বিষয়ে ৯০ শতাংশের বেশি নম্বর পাওয়া যেতে পারে। এ জন্য পাঠ্যবই ভাল করে পড়তে হবে। পরীক্ষায় কোন শব্দের সংক্ষিপ্ত রূপের সম্পূর্ণ নাম লিখতে বলা হলে তা ইংরেজিতে লিখলে ভাল। বিজ্ঞানসম্মত নামগুলিও ইংরেজিতে লিখে নীচে দাগ দিতে হবে। উত্তর লিখতে হবে ক্রমানুসারে। পরীক্ষার খাতা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখাও জরুরি। এ ছাড়া, প্রতি বিভাগের প্রতি প্রশ্নের উত্তরের শেষ পংক্তিটি (এন্ডিং লাইন) আকর্ষক হলে ভাল হয়।