প্রতীকী চিত্র।
উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা একেবারে শেষের মুখে। চতুর্থ সেমেস্টারে দর্শন বিষয়ের পরীক্ষা আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি, মঙ্গলবার। যে হেতু উচ্চ মাধ্যমিক স্তরেই প্রথম এই বিষয়ের সঙ্গে পরিচিতি, তা-ই এর নানা অধ্যায় নিয়ে প্রস্তুতির ক্ষেত্রে অনেক সময়ই দুশ্চিন্তা দেখা যায় পরীক্ষার্থীদের মধ্যে। তার মধ্যে তৃতীয় সেমেস্টারে এমসিকিউধর্মী প্রশ্নের পর চতুর্থ সেমেস্টারে ব্যাখ্যামূলক উত্তর লেখা নিয়েও রয়েছে চিন্তা। তাই শেষ মুহূর্তে কোন পদ্ধতি অবলম্বন করলে পরীক্ষার ফল ভাল হবে, তা নিয়ে পরামর্শ দিয়েছেন নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যালয়ের শিক্ষক কৃষ্ণ মণ্ডল।
কৃষ্ণ বলেছেন, “মাথা ঠান্ডা রেখে প্রস্তুতি চালিয়ে গেলে এবং পরীক্ষার দিন সঠিক কৌশল মেনে চললে দর্শনে পূর্ণ নম্বর পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।” জানিয়েছেন, চতুর্থ সেমেস্টারে মোট ৪০ নম্বরের প্রশ্নে পরীক্ষা দিতে হবে পড়ুয়াদের। প্রশ্নপত্রের প্রথম ইউনিট-এ পাশ্চাত্য যুক্তিবিজ্ঞান থেকে ২২ নম্বরের প্রশ্ন আসবে। দ্বিতীয় ইউনিট-এ ১৮ নম্বর থাকবে সমসাময়িক ভারতীয় দর্শন থেকে।
তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন, উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের নির্দেশিকার কথা। নির্দেশিকা অনুযায়ী এ বার প্রতি প্রশ্নে দ্বিগুণ বিকল্প থাকবে, যা পড়ুয়াদের ভাল নম্বর পাওয়ার ক্ষেত্রে ব়ড় সুবিধা দিতে পারে। তবে একই সঙ্গে সতর্কবার্তাও দিয়েছেন তিনি। বলেছেন, “মনে রাখতে হবে, বিকল্প বেশি থাকলে বিভ্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনাও বাড়ে। তাই চেনা প্রশ্ন পেলেই তাড়াহুড়ো করে উত্তর লেখা শুরু করা যাবে না। কোন প্রশ্ন লিখলে সবচেয়ে কম সময়ে পুরো নম্বর পাওয়া যাবে— সেই সিদ্ধান্ত নেওয়াই হবে আসল বুদ্ধিমত্তার পরিচয়।”
তিনি জানিয়েছেন, পাশ্চাত্য যুক্তিবিজ্ঞান অংশে ২ বা ৩ নম্বরের প্রশ্নের ক্ষেত্রে ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নের চেয়ে সত্যসারণী, সত্যাপেক্ষক, ভেনচিত্র বা আরোহ অনুমানের মতো অধ্যায়ের লজিকাল প্রশ্ন বেছে নেওয়া উচিত। এতে অঙ্কের মতো পূর্ণমান পাওয়া যায় এবং অনেক সময়ও বাঁচে। তাই শেষ মুহূর্তে লজিকের বিভিন্ন নিয়ম এবং মিলের পরীক্ষামূলক পদ্ধতিগুলি ভাল করে লিখে চর্চা করতে হবে। অন্যদিকে, সমসাময়িক ভারতীয় দর্শন (রবীন্দ্রনাথ, বিবেকানন্দ, গান্ধীজি) থেকে আসবে ৬ নম্বরের বড় প্রশ্ন। এ ক্ষেত্রে এমন প্রশ্ন নির্বাচন করতে হবে, যেখানে পয়েন্ট বা পয়েন্টের ভিত্তিতে উত্তর দেওয়া যায়।
কৃষ্ণর মতে, সংসদ প্রকাশিত মডেল প্রশ্নপত্রে দু’টি মডেল প্রশ্নপত্র এবং অধ্যায়ভিত্তিক প্রশ্ন দেওয়া হয়েছে। শেষ মুহূর্তে সেগুলি সমাধান করা ভীষণ জরুরি। কারণ, কাউন্সিলের এই মডেল প্রশ্ন থেকেই মূল পরীক্ষার প্রশ্নের ধরন সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়। তাই বাইরের সাজেশন বইয়ের থেকেও সংসদের মডেল প্রশ্নপত্রের বইটিকেও বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।