আর ইঁদুরের উপর নির্যাতন হবে না, নকল হৃদয় তৈরি করেছেন বিজ্ঞানীরা। ছবি: ফ্রিপিক।
দেখতে হবে অবিকল আসল হৃদ্যন্ত্রের মতো। তা ধুকপুকও করবে। শিরায় উপশিরায় বইবে রক্ত। এমন হার্টের উপরেই ওষুধপত্রের যাবতীয় পরীক্ষা নিরীক্ষা করবেন গবেষকেরা। এর জন্য ইঁদুরের উপর নির্যাতন করার প্রয়োজন হবে না। মানুষের উপর পরীক্ষার ঝুঁকিও থাকবে না। বিশ্বে প্রথম বার কোষ-কলা সমন্বিত ত্রিমাত্রিক হৃদয় তৈরি করে ফেলেছেন কানাডার বিজ্ঞানীরা।
কানাডার মন্ট্রিয়েল ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা কৃত্রিম হার্ট তৈরির প্রক্রিয়া নিয়ে গবেষণা করছিলেন। তাঁরা জানিয়েছেন, ইঁদুরের কোষ, কলা ও স্নায়ু নিয়ে এমন হার্ট তৈরি করা হয়েছে, যা দেখতে অবিকল আসল হৃদ্পিণ্ডের মতোই। সেই হৃদয়ের গঠন ত্রিমাত্রিক, তাতে কোষ ও শিরা-উপশিরাও রয়েছে। আসল হার্টের মতো রয়েছে হৃদ্পেশিও। কাজেই ওই হৃদ্যন্ত্র ধুকপুকও করছে একদম আসলের মতোই। তার পেশির সঙ্কোচন প্রসারণও হচ্ছে। এমন হার্টের উপর সহজেই নানা ওষুধপত্রের পরীক্ষা করা সম্ভব। অস্ত্রোপচারের নিত্যনতুন পদ্ধতির পরীক্ষামূলক প্রয়োগও সম্ভব।
কৃত্রিম হার্ট তৈরির জন্য এত দিন নানা রকম ধাতুর মিশ্রণ ব্যবহার করা হত। ধাতব হার্ট প্রতিস্থাপনের যোগ্য ঠিকই, কিন্তু পরীক্ষানিরীক্ষা করার মতো নয়। কারণ ওষুধ ঠিকমতো হার্টের কোষে কোষে পৌঁছোচ্ছে কি না বা ওষুধের প্রভাবে হৃৎস্পন্দনের উন্নতি হচ্ছে কি না, তা জানতে আসল হৃদয়েরই প্রয়োজন। সে জন্য ইঁদুর বা ওই জাতীয় প্রাণীর উপরেই পরীক্ষা হত। সে পরীক্ষায় আশানুরূপ ফল এলে তবে ঝুঁকি নিয়ে মানুষের উপরেও পরীক্ষা হত। কিন্তু বিজ্ঞানীরা বলছেন, রক্তমাংস দিয়েই যদি নকল হার্ট তৈরি করা যায়, তা হলে এত ঝুঁকি নেওয়ার প্রয়োজন হবে না।
‘ন্যানো মাইক্রো স্মল’ জার্নালে এই গবেষণার খবর প্রকাশিত হয়েছে। গবেষকেরা জানিয়েছেন, নকল হার্টে চিপ বসানো হয়েছে, যা এর সঙ্কোচন ও প্রসারণকে নিয়ন্ত্রণ করবে। হার্টের পেশি যাতে ঠিকমতো কাজ করে, সে জন্য এতে বসানো হয়েছে সিলিকন চিপ ও জেল। তা ছাড়া রয়েছে দু’রকমের সেন্সর, যা হার্টের ভিতরের বদলগুলি জানাবে। নকল হৃদয়ে ইতিমধ্যেই ওষুধের প্রয়োগ শুরু হয়েছে। সেই হার্ট নাকি ঠিকমতো জবাবও দিচ্ছে। আপাতত আচমকা হৃদ্রোগ ঠেকানোর উপায় ও অনিয়মিত হৃৎস্পন্দনকে নিয়মিত করে তোলার উপায় নিয়ে গবেষণা করছেন বিজ্ঞানীরা।