Loreto College Solar Panel Installation 2026

সৌরশক্তিতে স্বনির্ভর কলকাতার কলেজ, পরিবেশে রক্ষার পাশাপাশি সুরাহা তহবিলেও

লরেটো কলেজ বৈদ্যুতিক শক্তির বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করবে সৌরশক্তি। এ জন্য কলেজের ছাদেই বসছে সৌর প্যানেল।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ০২ মার্চ ২০২৬ ১৯:২৯
নিজস্ব চিত্র।

নিজস্ব চিত্র।

জলবায়ু পরিবর্তন, বিশ্ব উষ্ণায়ন নিয়ে কপালে চিন্তার ভাঁজ সকলেরই। চলছে বিকল্প শক্তির সন্ধান। বিজ্ঞানীদের পরামর্শে সরকারি স্তরেও করা হচ্ছে নানা পদক্ষেপ। এমনকি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও উদ্যোগী এ বিষয়ে। সোমবার তারই দৃষ্টান্ত রাখল কলকাতার লরেটো কলেজ।

Advertisement

লরেটো কলেজ বৈদ্যুতিক শক্তির বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করবে সৌরশক্তি। এ জন্য কলেজের ছাদেই বসছে সৌর প্যানেল। কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, মোট ৭০টি প্যানেল বসানো হয়েছে। যা ৫৫ কিলোওয়াট শক্তি উৎপাদন করবে। প্যানেলগুলি শুধু পরিবেশবান্ধব সবুজশক্তি উৎপাদন করবে, এমন নয়। এর ফলে কলেজের বিদ্যুৎখরচও বিপুল পরিমাণে হ্রাস পাবে।

জানা গিয়েছে, কলেজে ২০১৬ সাল থেকেই সৌরশক্তিকে বিকল্প শক্তি হিসাবে ব্যবহার করার জন্য পদক্ষেপ করা হয়েছে। তৎকালীন অধ্যক্ষের তত্ত্বাবধানে ৪০ কিলোওয়াটের ১১৭টি সৌরপ্যানেল বসানো হয়। সে বারও কলেজের ছাদেই বসানো হয়েছিল সৌরপ্যানেলগুলি। ১০ বছর দ্বিতীয় পর্বে বসল নতুন প্যানেলগুলি। কলেজের তরফে দ্বিতীয় পর্যায়ের এই উদ্যোগের মূল ভাবনা অধ্যক্ষ সিস্টার নির্মলার। প্রকল্প রূপায়ণে জড়িত ছিলেন কলেজের শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী, ক্লাব এবং পড়ুয়ারাও।

কলেজের মনোবিদ্যা বিভাগের শিক্ষিকা নয়নিকা সাহা বলেন, “কলেজের এই প্যানেলগুলি আগের বারের মতোই একটি বেসরকারি সংস্থার সহযোগিতায় স্থাপন করা হয়েছে।” তাঁর দাবি, নতুন এই প্যানেলগুলি লাগানোর পর কলেজের প্রায় ৯৫ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদনই করা যাবে সৌরশক্তির মাধ্যমে। বৈদ্যুতিক শক্তির চাহিদা কমবে। তাঁর কথায়, “কলেজের ১০০ শতাংশই যাতে সৌরশক্তির মাধ্যমে উৎপাদন করা যায়, সেই লক্ষ্যে কাজ করছি।”

কলেজের অধ্যক্ষা, সিস্টার এ. নির্মলা জানান, কলেজের অধিকাংশ বিদ্যুৎ প্রয়োজন এখন সৌরশক্তির মাধ্যমে পূরণ করা সম্ভব হবে। তিনি আরও জানান, মে মাস থেকে অতিরিক্ত সোলার প্যানেল সংযোজনের মাধ্যমে কলেজের চতুর্থ তলা সম্পর্ণূভর্ণ ভাবে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত করার পরি কল্পনা রয়েছে । এই উদ্যোগ লরেটো কলেজের পরিবেশ সচেতনতা ও টেকসই উন্নয়নের প্রতি অঙ্গীকারের এক উজ্জ্বল দষ্টৃান্ত হিসাবে বিবেচিত হচ্ছে ।

পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৩ সালেও দেশে কার্বন নিঃসরণের মাত্রা ২,৯৯৫ মিলিয়ন মেট্রিক টন ছুঁয়েছিল। তাই কার্বন নিঃসরণ কমাতে বিশ্বজুড়ে সুস্থায়ী উন্নয়ন, স্মার্ট সিটি, গ্রিন শক্তি উৎপাদনের লক্ষ্যে নিরন্তর আলোচনা এবং পরিকল্পনা চলছে। সেই পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেরও কিছু ভূমিকা এবং দায়বদ্ধতা রয়েছে বলে মনে করেন নয়নিকা। আর তাই এমন উদ্যোগ বলে জানিয়েছেন তিনি।

Advertisement
আরও পড়ুন