US-Iran Tension

ইরানের প্রত্যাঘাত সামলাতে কতটা তৈরি আমেরিকা! তিন জওয়ানের মৃত্যুর পরে উঠছে প্রশ্ন

পশ্চিম এশিয়ার যে সব দেশে আমেরিকার সেনাঘাঁটি রয়েছে, সেখানে ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন হামলা চালাচ্ছে ইরান। তাতে ইতিমধ্যে তিন জন মার্কিন জওয়ান প্রাণ হারিয়েছেন। সে কথা স্বীকার করে নিয়েছে আমেরিকা। তার পরেই দেশবাসীর একাংশের মনে প্রশ্ন উঠছে, নিজের বাহিনীকে রক্ষা করতে কতটা সমর্থ পেন্টাগন?

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ০২ মার্চ ২০২৬ ২১:১৬
US troops killed amid Iranian counter attack, raise question about air defence ability

ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।

ইরানের হামলার মোকাবিলা করার ক্ষমতা কতটা রয়েছে আমেরিকার? তিন সেনার মৃত্যুর পরে পেন্টাগনের মনে কি একটু হলেও ভয় ধরেছে!

Advertisement

ইরানে শনিবার থেকে ইজ়রায়েলের সঙ্গে মিলে হামলা চালাচ্ছে আমেরিকা। পাল্টা হামলা চালাচ্ছে তেহরানও। পশ্চিম এশিয়ার যে সব দেশে আমেরিকার সেনাঘাঁটি রয়েছে, সেখানে ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন হামলা চালাচ্ছে তারা। তাতে ইতিমধ্যে তিন জন মার্কিন জওয়ান প্রাণ হারিয়েছেন। সে কথা স্বীকার করে নিয়েছে আমেরিকা। তার পরেই দেশবাসীর একাংশের মনে প্রশ্ন উঠছে, নিজের বাহিনীকে রক্ষা করতে কতটা সমর্থ পেন্টাগন।

‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’-এর প্রতিবেদন বলছে, এই নিয়ে পেন্টাগন বা সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র কোনও মন্তব্য করতে চাননি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিহত তিন জওয়ানের পরিবারকে সমবেদনা জানিয়ে বলেছেন, আগামী দিনে প্রাণ হারাতে পারেন আরও জওয়ান। তবে এ-ও জানিয়েছে, তিন থেকে চার সপ্তাহ চলতে পারে এই অভিযান।

সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, আমেরিকা ইতিমধ্যে ইরান এবং তার সহযোগী দেশে ১০০০-এর বেশি লক্ষ্যবস্ততে হামলা চালিয়েছে। যুদ্ধজাহাজ, ডুবোজাহাজ, ক্ষেপণাস্ত্র সাইট, যোগাযোগের মাধ্যম, ইরানিয়ার রেভলিউশনারি গার্ডের কমান্ড এবং কন্ট্রোল সেন্টার ধ্বংস করা হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন সামরিক কর্তা ‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’-এর কাছে এই পদক্ষেপকে ‘আগ্রাসী’ বলেই বর্ণনা করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, দু’দিনের অভিযানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হানার ক্ষমতা অনেকটাই নির্মূল করা হয়েছে। ওই সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে, সামরিক কর্তার সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার এক্তিয়ার নেই বলেই নাম প্রকাশ করেননি।

কিন্তু মার্কিন প্রশাসনেরই এক আধিকারিক জানিয়েছেন, আমেরিকা শুধু যে মেরেছে, তা নয়। মারও খেয়েছে। শনিবার সারা রাত ধরে ডজন ডজন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ করেছে আমেরিকার বাহিনী। তাঁর কথায়, ‘‘ইরান পূর্ণাঙ্গ ভাবে ঝাঁপিয়ে পড়েছে।’’ তারা শুধু সামরিক ঘাঁটি নয়, পশ্চিম এশিয়ার অসামরিক এলাকায়ও হামলা করছে। সেই ক্ষেপণাস্ত্রের নিয়ন্ত্রণ, নির্দেশ এখন ভাবাচ্ছে আমেরিকাকে। ওই আধিকারিক জানিয়েছেন, রবিবার আমেরিকার প্রতিরক্ষা বিভাগের সদর দফতর পেন্টাগনে একাংশ উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠেন। তাঁদের আশঙ্কা তৈরি হয়, পরিস্থিতি হয়তো হাতের বাইরে চলে যেতে পারে। তাঁর কথায়, ‘‘মেজাজ ছিল তীব্র এবং সন্ত্রস্ত।’’

ওই আধিকারিক ‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’-কে জানান, মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতরের কর্তাদের একাংশ মনে করেন, এই সংঘাত এখনই শেষ হওয়ার নয়। সে ক্ষেত্রে আমেরিকার আকাশ প্রতিরক্ষা সামগ্রিতে টান পড়তে পারে। তাঁর মতে, এখন পুরো সেনাশক্তি প্রয়োগ করেনি আমেরিকা। তবে আকাশ প্রতিরক্ষা সামগ্রী যত মজুত ছিল, তা জড়ো করে ফেলেছে। সূত্রের খবর, ইরানের ছোড়া এক-একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ করতে দু’ থেকে তিনটি ইন্টারসেপ্টর বা প্রতিরোধী প্রযুক্তি খরচ হয়ে যাচ্ছে।

হাউস আর্মড সার্ভিস কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি অ্যাডাম স্মিথ জানান, এই অভিযান আমেরিকাকে ভবিষ্যতে যুদ্ধাস্ত্রের রসদ বাড়াতে বাধ্য করবে। স্মিথের কথায়, ‘‘তা বলে ভাববেন না, আমেরিকা ইরানকে বলবে, আর যুদ্ধ টানতে পারছি না। আমাদের যথেষ্ট রসদ নেই। তবে ভবিষ্যতে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বিস্তৃত করতে হবে।’’

প্রসঙ্গত, প্রেসিডেন্টের শীর্ষ সামরিক উপদেষ্টা জেনারেল ড্যান কেন হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছিলেন, যুদ্ধাস্ত্র মজুতে ঘাটতি দেখা দিতে পারে। আমেরিকার সহযোগী দেশগুলির থেকে সেনা সাহায্য তেমন না-ও মিলতে পারে। সে ক্ষেত্রে ইরানে অভিযান চালালে তা সেনার জন্য ঝুঁকির হতে পারে।

সূত্র বলছে, পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকার বিস্তীর্ণ গোলা, বারুদ, ক্ষেপণাস্ত্র মজুত রয়েছে। ন’টি ধ্বংসকারী প্রযুক্তি রয়েছে, যা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ করতে পারে। কিন্তু ইরানের শাহেদ ড্রোন অনেক নিচু দিয়ে চলে। ফলে আমেরিকার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তাকে আটকাতে পারে না। তাতেই সমস্যায় পড়ছে মার্কিন সেনা। মার্কিন প্রশাসনের একাংশ মনে করছে, সে কারণেই ট্রাম্প আগেভাগে জানিয়ে দিয়েছেন, আগামী দিনে প্রাণহানি হতে পারে আরও মার্কিন জওয়ানের। যুদ্ধে যা হয়ে থাকে।

Advertisement
আরও পড়ুন