আমেরিকা-ইরান সংঘর্ষ বেশি দিন চললে প্রভাব পড়তে পারে আমদানি-রফতানিতে, আশঙ্কা বণিক মহলে। —প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।
আমেরিকা-ইরান সংঘর্ষ দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকলে প্রভাব পড়তে পারে ভারতের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে। ধাক্কা খেতে পারে সার তৈরির প্রয়োজনীয় সামগ্রী এবং ভোজ্য তেলের আমদানি। ভারত থেকে কিছু পণ্য ইউরোপ এবং পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলিতে রফতানিও ধাক্কা খাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এমনটাই আশঙ্কা করছে বণিকমহল।
পশ্চিম এশিয়ার সংঘর্ষ এখনও পর্যন্ত ভারতের আমদানি-রফতানিতে সেই অর্থে প্রভাব ফেলেনি। তবে সংঘাত দীর্ঘ দিন ধরে চললে পরিস্থিতি খারাপ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পশ্চিম এশিয়া হয়ে আমদানি-রফতানির জন্য ইতিমধ্যে অতিরিক্ত অর্থ (সারচার্জ) নেওয়া শুরু করে দিয়েছে বেশ কিছু পণ্য পরিবহণ সংস্থা। ফ্রান্সের পণ্য পরিবহণ সংস্থা ‘সিএমএ সিজিএম’ প্রায় দ্বিগুণ অর্থ নিচ্ছে এই পথে সামগ্রী পরিবহণের জন্য। কন্টেনারপিছু ২০০০ ডলার থেকে ৪০০০ ডলার বাড়তি অর্থ নিচ্ছে তারা। এর ফলে আমদানিকারক সংস্থাগুলি অনেক বেশি অর্থ গুনতে হচ্ছে।
আগামী জুন মাস থেকে ভারতে খরিফ শস্যের মরসুম শুরু হবে। পরিস্থিতি এমন চলতে থাকলে দেশের সার উৎপাদনেও প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে। ডিএপি এবং এসএসপি সার তৈরির জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হল সালফার এবং সালফিউরিক অ্যাসিড। ঘটনাচক্রে ভারত যে পরিমাণ সালফার আমদানি করে, তার সিংহ ভাগই আসে পশ্চিম এশিয়া থেকে। মোট সালফার আমদানির প্রায় ৭৬ শতাংশই আসে কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং ওমান থেকে।
ভারতের সার প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলির সংগঠন ‘সল্যুবল ফার্টিলাইজ়ার ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন’-এর সভাপতি রাজীব চক্রবর্তীর কথায়, “সংঘর্ষ চলতে থাকায় ঝুঁকিও বৃদ্ধি পাচ্ছে। পণ্য পরিবহণ সংস্থাগুলি বিমার উপরে অতিরিক্ত অর্থ নিচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে আমদানির খরচ আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে।”
দেশে প্রতি বছর গড়ে প্রায় ১ কোটি ৬০ লক্ষ টন ভোজ্যতেল আমদানি হয়। তার মধ্যে সূর্যমুখী তেলই রয়েছে প্রায় ২০ শতাংশ। এই সূর্যমুখী তেল মূলত রাশিয়া, ইউক্রেন এবং আর্জেন্টিনা হয়েই ভারতে আসে। সংঘর্ষ দীর্ঘ দিন চললে সূর্যমুখী তেল আমদানির উপরেও প্রভাব পড়তে পারে। বর্তমানের উত্তেজনার পরিস্থিতিতে পশ্চিম এশিয়ার জলপথ নিরাপদ নয়। ওই অঞ্চলে বিভিন্ন বন্দর বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে সমুদ্রপথে জাহাজগুলি আটকে পড়বে। কন্টেনারেরও অভাব দেখা দেবে। জাহাজগুলিকে লোহিত সাগর ছেড়ে অন্য বিকল্প পথ ধরতে হলে পণ্য পৌঁছোতে দেরি হতে পারে।
সলভেন্ট এক্সট্র্যাক্টর্স অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়ার অন্যতম ডিরেক্টর বিভি মেহতার মতে, এখনও পর্যন্ত সেই ভাবে কোনও প্রভাব পড়েনি। তবে এই পরিস্থিতি বেশি দিন চললে সূর্যমুখী তেলের আমদানি বিঘ্নিত হতে পারে। কারণ, বিকল্প পথ দিয়ে পণ্য আনতে হবে। পাশাপাশি রফতানি ক্ষেত্রেও প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বীজ থেকে তেল নিষ্কাশনের পরে পাওয়া উপজাত পণ্যের প্রায় ২০ শতাংশ ভারত রফতানি করে পশ্চিম এশিয়ায়। প্রায় ১৫ শতাংশ রফতানি হয় ইউরোপে। পিটিআই জানাচ্ছে, এই পরিস্থিতি বেশি দিন চললে এই ক্ষেত্রগুলির পাশাপাশি কৃষিজ এবং ফুল চাষের পণ্যের রফতানিও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।