প্রতীকী ছবি।
নিট ইউজি উত্তীর্ণ হয়ে এমবিবিএস ডিগ্রি কোর্স পড়া— চিকিৎসক হওয়ার প্রথম ধাপ। এর পর অনেকেই নিজের পছন্দ অনুযায়ী স্নাতকোত্তর কোর্স পড়েন, অনেকে আবার এক বছরের পিজি ডিপ্লোমা কোর্স করে সরাসরি চিকিৎসা করতে শুরু করেন। তবে এ বার থেকে খানিক বদলে যাচ্ছে চিকিৎসাবিদ্যায় উচ্চ শিক্ষার পঠনপাঠন। এমবিবিএস করার পর পড়ুয়ারা আর পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা করার সুযোগ পাবেন না। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষেই শেষ ওই কোর্সে ভর্তি নেওয়া হবে। জানিয়ে দিয়েছে ন্যাশনাল মেডিক্যাল কমিশনের (এনএমসি)।
কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, স্নাতকোত্তর স্তরে পঠনপাঠনের মানোন্নয়ন, বিশেষজ্ঞ হয়ে ওঠার জন্য উপযুক্ত প্রশিক্ষণ, সমসাময়িক শিক্ষাগত মানের সঙ্গে স্নাতকোত্তরের সমন্বয় সাধন করার জন্য এই সিদ্ধান্ত হয়েছে। কোনও প্রতিষ্ঠান এ বছর থেকে পিজি ডিপ্লোমার আসন বৃদ্ধির আবেদনও জানাতে পারবে না। অ্যাসোসিয়েশন অফ হেল্থ সার্ভিস ডক্টর্সের তরফে চিকিৎসক মানস গুমটা বলেন, ‘‘যে ভাবে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর এর আসন বৃদ্ধি হয়েছে, তাতে এখন ডিপ্লোমার মূল্য কমেছে। এক সময় ইউজি, পিজি-র আসনসংখ্যা খুবই কম ছিল। তখন বেশ কয়েকটি বিষয়ে ডিপ্লোমা করলে সুবিধেই হত।” তাঁর দাবি, চিত্রটি বদলেছে গত কয়েক বছরে। তবে বিজ্ঞান-প্রযুক্তির উন্নতি হয়েছে সব ক্ষেত্রেই। অনেকেই বিশেষ কয়েকটি ক্ষেত্রে, যেমন— ল্যাপ্রোস্কপি ট্রেনিং, রোবট ট্রেনিং, লেজ়ার সার্জারির ট্রেনিং নিয়ে থাকেন। এগুলি ডিগ্রি কোর্সে সাহায্য করে। তাই এই প্রশিক্ষণগুলি বা এই ধরনের ছোট ছোট সার্টিফিকেট কোর্সগুলি চালু রাখলেই ভাল বলে মত মানস গুমটার।
দেশের নানা মেডিক্যাল কলেজে স্নাতকোত্তর স্তরে পিজি ডিপ্লোমা পড়ানো হয়। যদিও অভিযোগ উঠেছিল স্নাতকোত্তর বা এমডি বা এমএস ডিগ্রি কোর্স পড়ানোর মতো উপযুক্ত ব্যবস্থা অনেকে প্রতিষ্ঠানেই নেই। এনএমসি অবশ্য জানিয়েছে, বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজে এমডি বা এমএস ডিগ্রি কোর্সের পর্যাপ্ত পরিকাঠামো রয়েছে।
কমিশনের মতে, এ ক্ষেত্রে ডিপ্লোমার বদলে বিশেষ বিষয়ের ডিগ্রি কোর্স চালু করতে কোনও সমস্যাই হবে না। পোস্ট গ্র্যাজুয়েট মেডিক্যাল এডুকেশন রেগুলেশনস, ২০২৩ অনুযায়ী, এই পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে। এ ছাড়াও সম্প্রতি কমিশনের তরফে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সব মেডিক্যাল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়কে এমডি কিংবা এমএস কোর্স চালু করতে হবে পরবর্তী শিক্ষাবর্ষ শুরু হওয়ার আগেই। এ ক্ষেত্রে কলেজ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়কে মেডিক্যাল অ্যাসেসমেন্ট অ্যান্ড রেটিং বোর্ড-এর কাছে আবেদন জমা দিতে হবে।
আরজি করের ইমার্জেন্সি মেডিসিন বিভাগে কর্মরত চিকিৎসক তাপস প্রামাণিক বলেন, ‘‘ভারতের পোস্ট গ্র্যাজুয়েট চিকিৎসাবিদ্যার ক্ষেত্রে এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। ব্রিটেন, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজ়িল্যান্ডের মতো ভাগ দেশেই চিকিৎসাবিদ্যায় পিজি ডিপ্লোমা নেই। সেখানে একটাই পথ— ডিগ্রি কোর্স বা ফেলোশিপ। তবে পিজি ডিপ্লোমা এক বছরের কোর্স হত, কিন্তু ডিগ্রি কোর্সের ক্ষেত্রেই সেটা হয়ে যায় দু’বছরের। তাই পর্যাপ্ত চিকিৎসক, ব্যবস্থাপনা নিয়েই এগোনো ভাল।”
দেশের মেডিক্যাল পড়ুয়াদের বিশেষজ্ঞ হয়ে ওঠার পঠনপাঠনে জোর দেওয়া প্রয়োজন। তাই পিজি ডিপ্লোমা সম্পূর্ণ ভাবে বন্ধ করার সিদ্ধান্তকে স্বাগতই জানিয়েছেন চিকিৎসকমহলের একাংশ। তবে, এর সঙ্গে উপযুক্ত চিকিৎসক নিয়োগ থেকে উন্নত মানের ব্যবস্থাপনা রাখলে ভাল হয় বলেই মত তাঁদের।