NCERT Class 8 Textbook

অষ্টম শ্রেণির বই বিতর্ক! প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা এনসিইআরটি-র, সরানো হলো দুই সদস্যকে

এনসিইআরটি জানিয়েছে, পাঠ্যক্রম নির্মাণের ক্ষেত্রে আগামী দিনে তারা দায়িত্বশীল ও সংবেদনশীল ভাবে নির্ভুল বিষয়বস্তু গ্রন্থনের চেষ্টা করবে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১০ মার্চ ২০২৬ ১১:০০

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

আদালত অবমাননার অভিযোগে উঠেছিল এনসিইআরটি-র বিরুদ্ধে। অষ্টম শ্রেণির সমাজবিজ্ঞান বইয়ে বিতর্কিত অধ্যায়ের জন্য এ বার নিঃশর্ত ক্ষমা চাইলেন কর্তৃপক্ষ।

Advertisement

মঙ্গলবার এক বিবৃতি জারি করে এনসিইআরটি বলেছে, “সম্প্রতি ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং-এর (এনসিইআরটি) তরফে সমাজ বিজ্ঞানের অষ্টম শ্রেণির পাঠ্যবই ‘এক্সপ্লোরিং সোসাইটি: ইন্ডিয়া অ্যান্ড বিয়ন্ড’ বইটি প্রকাশ করা হয়েছিল। তাতে ‘সমাজে বিচারব্যবস্থার ভূমিকা’ শীর্ষক চতুর্থ অধ্যায়টি প্রকাশের জন্য এনসিইআরটি-র অধিকর্তা এবং সদস্যরা নিঃশর্ত ভাবে ক্ষমা চাইছেন। ওই বইটি আর কোথাও পাওয়া যাবে না।”

‘এক্সপ্লোরিং সোসাইটি: ইন্ডিয়া অ্যান্ড বিয়ন্ড’ বইটি গত ২৪ ফ্রেব্রুয়ারি প্রকাশিত হয়। ২০২৬ শিক্ষাবর্ষ থেকেই এই বইটি অষ্টম শ্রেণির পাঠ্যে যুক্ত হওয়ার কথা ছিল। এরই মধ্যে অভিযোগ ওঠে সমাজবিজ্ঞান বইয়ের বিষয়বস্তু বিচারবিভাগের প্রতি অনাস্থা তৈরি করছে। বইয়ের ওই নির্দিষ্ট অধ্যায়ে পর্যাপ্ত বিচারকের অভাব, জটিল আইনি প্রক্রিয়া এবং আদালতের উপযুক্ত পরিকাঠামোর অভাবে অনেক মামলা অমীমাংসিত থাকে বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। এমনকি বিচারকদের একাংশ দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত হলেও উল্লেখ করা হয়েছিল ওই বইয়ের।

বিষয়টি নজরে আসতেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। সুপ্রিম কোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করে বইটি নিষিদ্ধ করার নির্দেশ দেয়। পাশাপাশি, কেন আদালত অবমাননার মামলা দায়ের করা হবে না তা জানতে চেয়ে কারণ দর্শানোর নোটিস জারি করে কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রক এবং এনসিইআরটি-র বিরুদ্ধে। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, “উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবেই বিচারব্যবস্থাকে অবমাননা করা হয়েছে এবং এ ধরনের ঘটনা কোনও ভাবে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়।”

২৬ ফেব্রুয়ারি ওই বইয়ের তৈরির জন্য নির্ধারিত সিলেবাস কমিটিতে কারা ছিলেন তা-ও জানতে চায় শীর্ষ আদালত। সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতে জানিয়েছেন, সিলেবাস কমিটিতে থাকা ২ বিশেষজ্ঞকে ইতিমধ্যেই সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তারা আর কোনও ভাবেই শিক্ষা দফতরের সঙ্গে জড়িত নন। প্রধান বিচারপতি অবশ্য এই পদক্ষেপকে ‘লঘুদণ্ড’ হিসেবেই চিহ্নিত করেছেন।

ক্ষমা প্রার্থনার পর এনসিইআরটি জানিয়েছে, পাঠ্যক্রম নির্মাণের ক্ষেত্রে আগামী দিনে তারা দায়িত্বশীল ও সংবেদনশীল ভাবে নির্ভুল বিষয়বস্তু গ্রন্থনের চেষ্টা করবে। ইতিমধ্যেই ওই বইগুলি বাজার থেকে তুলে নেওয়া নির্দেশ দিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। কোনও ভাবে ডিজিটাল মাধ্যমেও যেন ওই বই আর না দেখা যায়, সে বিষয়েও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Advertisement
আরও পড়ুন