কী ভাবে ডিম খেলে ভিটামিন ডি ভাল ভাবে শোষিত হবে? ছবি: সংগৃহীত।
শরীর থেকে মন, চুল থেকে ত্বক— সবের স্বাস্থ্যরক্ষাতেই ভিটামিন ডি-র অবদান রয়েছে। এটি হাড় মজবুত রাখে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং শরীরের নানা গুরুত্বপূর্ণ কাজ সুষ্ঠু ভাবে চলতে সাহায্য করে। কিন্তু সেই ভিটামিনের ঘাটতি এখন ঘরে ঘরে। নতুন ধরনের যাপন, ঘরের ভিতরে সময় বেশি কাটানো, খাওয়াদাওয়ার অনিয়ম, অতিরিক্ত সানস্ক্রিন ব্যবহার ইত্যাদির কারণে এই সমস্যা বেড়েছে খুবই।
ভিটামিন ডি পেতে কী ভাবে ডিম খাবেন? ছবি: সংগৃহীত
খাবারের মাধ্যমে এই ভিটামিনের ঘাটতি পূরণের চেষ্টা করেন অনেকে। যেমন ধরা যাক, ডিম। কিন্তু শুধু ডিম খেলেই হবে না, কী ভাবে ডিম খাচ্ছেন তা-ও গুরুত্বপূর্ণ। কিছু সহজ অভ্যাস মেনে চললে ডিম থেকে শরীর আরও ভাল ভাবে ভিটামিন ডি গ্রহণ করতে পারে। রান্নার সঠিক পদ্ধতি জানাচ্ছেন পুষ্টিবিদ অনন্যা ভৌমিক।
ডিমের কুসুমে সবচেয়ে বেশি ভিটামিন ডি থাকে। একটি সাধারণ মাপের ডিমের (মুরগির ডিম) কুসুমে ১৮-২০ আইইউ (ইন্টারন্যাশনাল ইউনিট অফ ভিটামিন ডি) থাকে। তাই পুরো ডিম না খেলে ভিটামিন ডি শরীরে শোষিত হবে না। ডিমের সঙ্গে উচ্চ-ফ্যাটযুক্ত বা স্বাস্থ্যকর ফ্যাটযুক্ত খাবার খেলে এই ভিটামিন শরীরে বেশি ভাল ভাবে প্রবেশ করতে পারে। পুষ্টিবিদের কথায়, ‘‘ভারতে যে যে ভাবে ডিম রান্না হয়, তার পরিপ্রেক্ষিতে বললে গোটা ডিম সেদ্ধ করে খেলে ভাল। পোচও ভাল বিকল্প। বা তারই ঝোল করে নেওয়া যেতে পারে। অথবা সর্ষের তেল বা ঘি দিয়ে অল্প ডিমভুর্জিও বানানো যায়। কিন্তু মাথায় রাখবেন, অমলেট বানিয়ে খেলে ভিটামিন ডি-র শোষণ ভাল হবে না। কুসুম যখন অল্প সেদ্ধ করা হয় অথবা বেক করা হয়, তখনই সবচেয়ে বেশি পরিমাণে ভিটামিন থাকে তাতে। প্রচুর ভেজে নিলে তাতে লাভ হবে না।’’
পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী, কী কী ভাবে ডিম খাবেন?
১. একটি অল্প সেদ্ধ ডিমের সঙ্গে আটার রুটি বা মাল্টিগ্রেন পাউরুটি খাওয়া যেতে পারে। অথবা মাখন ও ঘি দিয়েও ডিম খেলেও একই রকম উপকার পাওয়া যাবে। শরীরে ভিটামিন ডি শোষণের জন্য প্রয়োজনীয় ফ্যাট পেতে হলে খাবারের এই যুগলবন্দি বেশ উপকারী।
২. ডিমভুর্জি খেয়েও ভিটামিন ডি-র পরিমাণ বাড়ানো যায়। তার জন্য বিশেষ নিয়ম মানতে হবে। প্রথমত ঢিমে আঁচে রান্না করতে হবে। সর্ষের তেল বা ঘি ব্যবহার করা যেতে পারে। অনেক ক্ষণ ধরে ভাজলে উপকার মিলবে না। ভুর্জিতে টম্যাটো, পেঁয়াজ, পালংশাক এবং মাশরুমের মতো সব্জি যোগ করলে আরও উপকার পাওয়া যাবে।
৩. নিউক্যাসল-এর একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে, রান্না করার পর ঘরের তাপমাত্রায় রাখা ডিমে ফ্রিজে রাখা ডিমের চেয়ে সামান্য বেশি ভিটামিন ডি থাকে। তবে, ভারতের জলবায়ুতে খাবারের সুরক্ষার জন্য ফ্রিজে রাখাই ভাল।