নিজস্ব চিত্র।
নির্দেশ ছিল, জুতো পরেও আসা যাবে না পরীক্ষা দিতে। গায়ে থাকবে না কোনও ধাতব গহনা। তবু, শেষ রক্ষা হল কই? এসএসসি গ্রুপ-সি নিয়োগ পরীক্ষায় ধরা পড়ল ৪০-৫০টি মোবাইল।
সোমবার, স্কুল সার্ভিস কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে নকল রুখতে সব রকম ব্যবস্থা করা হলেও ফাঁকি দিতে সফল হয়েছেন পরীক্ষার্থীদের অনেকেই। যদিও সকলকেই হাতেনাতে ধরা হয়েছে বলে দাবি কর্তৃপক্ষের। পরীক্ষা বাতিল হবে সকলের। তাঁরা বসতে পারবেন না গ্রুপ-ডি পরীক্ষাতেও।
রবিবার, ১ মার্চ রাজ্যজুড়ে আয়োজিত হয়েছে গ্রুপ-সি শিক্ষাকর্মী নিয়োগের পরীক্ষা। যাতে কোনও পরীক্ষার্থী অসাধু উপায় অবলম্বন করতে না পারেন সে জন্য কড়াকড়ি ছিল। ঢাকা জুতোর বদলে সাধারণ চপ্পল বা হাওয়াই চটি পরে পরীক্ষাকেন্দ্রে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল এসএসসি-র তরফে। পরীক্ষাকেন্দ্রে ঢোকার আগে খুলে ফেলতে হয়েছে চামড়ার বেল্ট। হয়েছে দেহ তল্লাশি। তার পরও বিভিন্ন জেলায় পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে মোবাইল।
সূত্রের খবর, অনেক কেন্দ্রেই প্রার্থীরা পরিচিত কাউকে দিয়ে আগে থেকে শৌচাগার বা অন্য কোনও পূর্ব নির্দিষ্ট জায়গায় মোবাইল রেখে এসেছিলেন। ব্লু-টুথ সংযোগ করা ছিল। কিন্তু পরীক্ষা শুরু হওয়ার পরই সেই মোবাইল বা সংযোগকারী যন্ত্র ব্যবহার করতে গিয়ে ধরা পড়েছেন বহু প্রার্থী। অনেকের কানেই পাওয়া গিয়েছে ইয়ার বার্ডস। ব্লু-টুথ সংযোগের মাধ্যমে অন্যত্র মোবাইল অন্যত্র রেখে সাহায্য নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন তাঁরা।
সম্প্রতি রাজ্যে শেষ হয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা। মাধ্যমিকে ৪৫ টি ও উচ্চমাধ্যমিকে ১২টি মোবাইল ধরা পড়েছে। এই তালিকায় নতুন সংযোজন এসএসসি নিয়োগ পরীক্ষা। এসএসসি সূত্রে খবর, প্রায় ৪০ থেকে ৫০টি মোবাইল উদ্ধার হয়েছে।
কমিশনের চেয়ারম্যান সিদ্ধার্থ মজুমদার বলেন, “আমাদের তরফ থেকে সব রকম নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। তার পরও মোবাইল উদ্ধার হয়েছে পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে। প্রত্যেকের পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। এদের গ্রুপ ডি পরীক্ষায়ও বসতে দেওয়া হবে না।”
সব থেকে বেশি মোবাইল পাওয়া গেছে মালদহ জেলা থেকে। এ ছাড়াও এসএসসি জানাচ্ছে, বাঁকুড়া, উত্তর ২৪ পরগনা, জলপাইগুড়ি, বর্ধমান সহ বেশ কিছু জায়গায় প্রার্থীরা মোবাইল নিয়ে প্রবেশ করেছিল। রবিবার গ্রুপ সি পরীক্ষা হয়েছে সেখানে, ১ লক্ষ ৩৪ হাজার পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দেয়নি। পরীক্ষা দিয়ে মোট পরীক্ষার্থীর ৮৪ শতাংশ। মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৮ লক্ষ ৪ হাজারের বেশি। শূন্য পদের সংখ্যা ২৯৮৯। রাজ্যজুড়ে ১৬৯৩ টি কেন্দ্রে পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়েছিল।