প্রতীকী চিত্র।
সরকারি ও সরকারপোষিত স্কুলের বাংলা মাধ্যমের শিক্ষকদের কাছে পৌঁছে গিয়েছে মাধ্যমিক স্তরের ইংরেজি মাধ্যমের পরীক্ষার্থীর খাতা। এতে নাকি সমস্যায় পড়েছেন শিক্ষকদের একাংশ। তাঁদের মত, ইংরেজি মাধ্যমে শিক্ষকদের কাছেই ইংরেজি মাধ্যমের খাতা দেখার দায়িত্ব দেওয়া উচিত ছিল। তা হলে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন আরও ভাল ভাবে হতে পারত।
বিজ্ঞান ও কলা বিভাগের নানা বিষয়ে ইংরেজির নানা শব্দবন্ধ বাংলার থেকে অনেকটাই আলাদা। সে ক্ষেত্রে শিক্ষকদের কিছুটা অসুবিধার মধ্যে পড়তে হচ্ছে। যদিও শিক্ষকদের এই অভিযোগের কতটা সারবত্তা রয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অন্য অংশের শিক্ষকেরা। এমনকি মধ্য শিক্ষা পর্ষদও স্পষ্ট জানিয়েছে, এ বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশিকা রয়েছে। ফলে অসুবিধা হওয়ার কোনও কারণই নেই।
শিক্ষামহলের অন্য অংশের মতে, শিক্ষকদের যদি ইংরেজি মাধ্যমের পরীক্ষার্থীর খাতার মূল্যায়ন করতে অসুবিধা হয়, তা হলে সেটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক। মধ্যশিক্ষা পর্ষদ সূত্রের খবর, দু’টি ভাষায় তাঁদের খাতা দেখতে হবে, এই শর্তে সম্মত হয়েই তাঁরা শিক্ষকতার চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন। শিক্ষকমহলের একাংশ দাবি করেছেন, বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকেরা নিজেরা যখন স্নাতক স্তরে পড়াশুনা করেছেন, তখনই অল্পবিস্তর বিজ্ঞানের ইংরেজি প্রতিশব্দের সঙ্গে পরিচিত হয়েছেন। ফলে পরীক্ষক হিসাবে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়।
যদিও অভিযোগকারী এক শিক্ষকের মতে, “পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন করানো উচিত সংশ্লিষ্ট বিষয়ের বিশেষজ্ঞকে দিয়ে। যাঁরা সারা বছর বাংলায় পড়াচ্ছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে ভাষা বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।” যুক্তি হিসাবে তিনি তুলে এনেছেন মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত বিজ্ঞান পড়ার কথা। তাঁর দাবি, “সব শিক্ষকই তো মাধ্যমিক পর্যন্ত সাধারণ বিজ্ঞান পড়েন। কিন্তু ইতিহাসের শিক্ষককে দিয়ে তো জীবনবিজ্ঞানের খাতার মূল্যায়ন করানো হয় না। এই বিষয়টি পর্ষদের ভেবে দেখা উচিত।”
মাধ্যমিক শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলা সম্পাদক অনিমেষ হালদার বলেন, “সম্প্রতি বাধ্যতামূলক ভাবে অনেক বাংলা মাধ্যমের শিক্ষককে ইংরাজি মাধ্যমের মাধ্যমিকের খাতা দেওয়া হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে মূল্যায়ন যথাযথ না হওয়ার আশঙ্কা খানিকটা থেকেই যায়। বিশেষত কলা বিভাগের বিষয়গুলির ব্যাখ্যামূলক উত্তরের ক্ষেত্রে অসুবিধা হতে পারে।” আর এ প্রসঙ্গে তিনি মনে করেন, রাজ্যের নীতিই খানিকটা হলেও দায়ী। তাঁর মতে, অনেক স্কুলেই ইংরেজি মাধ্যম চালু করে দেওয়া হয়েছে, কিন্তু পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ করা হয়নি।
অনিমেষ জানান, ইতিহাস ভূগোলের মত নানা বিষয়ে স্নাতক স্তর পর্যন্ত বাংলায় পড়াশোনা করে যাঁরা বহু বছর আগে চাকরি পেয়েছেন তাঁদের দিয়ে ইংরেজি মাধ্যমের পরীক্ষার্থীর খাতা মূল্যায়ন না করানোই ভাল।
নিখিলবঙ্গ শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুজিত দাস বলেন, “আমি মনে করি, দীর্ঘ ২০ বছর বাংলায় পড়াচ্ছেন যাঁরা, তাঁদের হঠাৎ ইংরেজি মাধ্যমের খাতার দেখতে হলে খানিকটা অসুবিধা তো হবেই। তাঁরা পারবেন না, তা নয়। কিন্তু মাধ্যমিকের মূল্যায়ন নিয়ে আরও ভাবনাচিন্তা প্রয়োজন রয়েছে বলে আমি মনে করি।”
পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি রাজ্য সভাপতি প্রীতম হালদার অবশ্য এ সব যুক্তি মানতে নারাজ। তাঁর দাবি, “সবাই সম্মানের সঙ্গে শিক্ষকতা করেন। তাঁদের কারও ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের খাতা দেখতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়।”
যদিও পর্ষদ জানিয়েছে, সাধারণত পরীক্ষাকেন্দ্রে নির্দেশ দেওয়া থাকে ইংরেজি ও বাংলা ভাষার খাতা আলাদা করার জন্য। তার পরও যদি কোথাও কোনও সমস্যা থাকে, তা হলে পরীক্ষাক সরাসরি প্রধান পরীক্ষকের কাছে তাঁদের অসুবিধার কথা জানাতে পারেন।