ছবি : সংগৃহীত।
ল্যাপটপ বা স্মার্টফোনের স্ক্রিন থেকে নির্গত 'ব্লু লাইট' শুধু চোখের ক্ষতি করে না, এটি ঘুমের হরমোন 'মেলাটোনিন'-এর ক্ষরণওকমিয়ে দেয়। ফলে দীর্ঘক্ষণ কাজের পর চোখে জ্বালা, মাথা ব্যথা এবং অনিদ্রা দেখা দেয়। এর পাশাপাশি, ত্বকের ইলাস্টেন এবং কোলাজেনও ভেঙে ত্বকে দ্রুত বার্ধক্যের ছাপ ফেলে ব্লু লাইট। কিন্তু এই সমস্যা থেকে মুক্তির উপায় কী? কাজের প্রয়োজনে ল্যাপটপের সামনে দিনের অনেকটা সময়ই কেটে যায় অধিকাংশের। ত্বক এবং চোখের উপর ব্লু লাইটের অত্যাচারের মোকাবিলা করতে তাঁরা কী করবেন। ৫টি উপায় কাজে দিতে পারে—
১. ২০ মিনিটের জন্য সম্পূর্ণ অন্ধকারে থাকা এবং পামিং: কাজ শেষ করার পর একটা অন্ধকার ঘরে শান্ত হয়ে বসুন। দু’হাতের তালু ঘষে গরম করে চোখের ওপর আলতো করে চাপা দিন। ব্লু লাইট চোখের রেটিনাকে উত্তেজিত করে; সম্পূর্ণ অন্ধকার ঘর এবং হাতের উষ্ণতা স্নায়ুকে শান্ত করতে পারবে।
২. অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট সমৃদ্ধ পানীয়: ব্লু লাইট শরীরে ‘অক্সিডেটিভ স্ট্রেস’ তৈরি করে। কাজ শেষে এক কাপ গ্রিন টি বা লেমন টি খান। এতে থাকা অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট চোখের কোষের ক্লান্তি দূর করতে সাহায্য করবে। তবে কফি বা কড়া চা খাবেন না।
৩. ওয়ার্ম ওয়াটার কম্প্রেস: ল্যাপটপ বন্ধ করার পর হালকা গরম জলে একটি পরিষ্কার তোয়ালে ভিজিয়ে নিন। সেটি চোখের ওপর ৫ মিনিট দিয়ে রাখুন। এটি চোখের গ্রন্থিগুলোকে সচল করে এবং দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকার ফলে যে শুষ্কতা তৈরি হয়, তা দূর করে।
৪. ‘অরেঞ্জ স্পেকট্রাম’ লাইটের ব্যবহার: ল্যাপটপ থেকে যে নীল আলো বেরোয়, তার ঠিক বিপরীত হল লাল বা কমলা আলো। কাজ শেষ করে ঘরের উজ্জ্বল সাদা আলো নিভিয়ে একটা হালকা কমলা বা ওয়ার্ম ইয়োলো ল্যাম্প জ্বালান। এটি আপনার মস্তিষ্ককে সংকেত দেবে যে কাজের সময় শেষ এবং এবার ঘুমের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় হয়েছে।
৫. ফিজিক্যাল আই-মুভমেন্ট বা রি-ফোকাসিং: ল্যাপটপের স্ক্রিন হলো একটি ‘টু-ডি’ সারফেস। দীর্ঘক্ষণ সেখানে নজর আটকে থাকলে চোখের ফোকাস করার ক্ষমতা কমে যায়। কাজ শেষ করে জানলার বাইরে দূরের কোনো গাছ বা আকাশের দিকে অন্তত ২ মিনিট তাকিয়ে থাকুন। থ্রি-ডি স্পেসে চোখকে ঘোরালে ব্লু লাইটের তৈরি করা জড়তা দ্রুত কেটে যায়।