CBSE OSM Controversy

‘খুদে গোয়েন্দা’ সার্থক! ওএসএম বিতর্কে সিবিএসই-কে কাঠগড়ায় তোলা নাবালকও কি হতাশ?

কিশোর মনে জেগেছিল প্রশ্ন। উত্তর খুঁজতে গিয়েই হদিস মেলে অনিয়মের। নথিপত্র নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করতেই প্রকাশ্যে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৫ জুন ২০২৬ ১৭:২৮

ছবি: সংগৃহীত।

স্কুলজীবনের শেষ পরীক্ষা দিয়েছিল সে, দেশের লক্ষ লক্ষ পড়ুয়ার মতো। কিন্তু নম্বর মনের মতো হয়নি। খাতার প্রতিলিপি হাতে পেয়েই মন খারাপ হয়ে যায় তার। কোথাও একটা কিছু গরমিল রয়েছে, বুঝতে দেরি হয়নি রাঁচীর সার্থক সিদ্ধান্তের। সেখান থেকেই শুরু ‘গোয়েন্দাগিরি’।

Advertisement

কিশোর মনে জেগেছিল প্রশ্ন। উত্তর খুঁজতে গিয়েই হদিস মেলে অনিয়মের। নথিপত্র নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করতেই প্রকাশ্যে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। ১৭ বছরের সার্থক খুঁজে পায়, দ্বাদশ শ্রেণির চূড়ান্ত পরীক্ষার খাতা ডিজিটাল মূল্যায়নের জন্য সিবিএসই যে ভাবে এক বেসরকারি সংস্থাকে বরাত দিয়েছে, তাতে নিয়মভঙ্গ হয়েছে।

গত ১৩ মে সিবিএসই-র দ্বাদশ শ্রেণির ফলপ্রকাশ হয়। দেখা যায় রাঁচীর ছাত্র সার্থক আশানুরূপ নম্বর পায়নি। উত্তরপত্রের প্রতিলিপি হাতে পেয়ে সার্থক নিশ্চিত হয়, ভুল তার নয়। কোথাও কোনও গোলমাল তো রয়েছেই। এ বিষয়ে সমাজমাধ্যমেও লেখালেখি শুরু করে সে। আলাদা করে চালু করে ব্লগ পোস্টও।

সার্থক খুঁজতে শুরু করে ওএসএম পোর্টালটি কবে কী ভাবে চালু করা হয়েছে, কারা ওই পোর্টাল মারফত মূল্যায়নে তদারকি করছে। এরপরই সে পাবলিক প্রোকিয়োরমেন্ট পোর্টাল থেকে সিবিএসই-র বিভিন্ন দরপত্র সংগ্রহ করে পড়তে শুরু করে। সেখান থেকেই কিশোর জানতে পারে, কী ভাবে দরপত্রের চুক্তিতে যাবতীয় নিয়মের রদবদল হয়েছে। এ সব তথ্যই সার্থক সমাজমাধ্যম এবং ব্লগ পোস্টের মাধ্যমে সকলকে জানাতে শুরু করে।

এরপরই তাকে কেন্দ্রের শিক্ষা, নারী, শিশু, যুব এবং ক্রীড়া বিষয়ক লোকসভার স্ট্যান্ডিং কমিটির বৈঠকে ডেকে পাঠানো হয়। বৈঠকে সার্থক তার অনুসন্ধান থেকে প্রাপ্ত যাবতীয় তথ্যের বিশদ ব্যাখ্যা দেয়। সার্থকের অনুসন্ধিৎসা এবং অধ্যাবসায়ের প্রশংসা করেন কংগ্রেস সাংসদ দিগ্বিজয় সিংহ এবং কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী।

দুঁদে গোয়েন্দার মতো সার্থক সমস্যার গভীরে যেতে চেয়েছিল। কিন্তু বদলে যে তথ্য সে পেয়েছে, তাতে কার্যত হতাশ হয়ে পড়েছে। সংবাদমাধ্যমকে সার্থক জানিয়েছে, “শিক্ষা দফতর, বোর্ডের মধ্যে কেউ-ই পড়ুয়াদের কথা চিন্তা করছে না। মাঝে মাঝে মনে হচ্ছে, যেন সর্বস্ব লুট হয়ে গেল। কোনও আশার আলো দেখছি না।”

Advertisement
আরও পড়ুন