MID DAY MEAL

মিড-ডে মিলের টাকায় স্কুল ক্রীড়া! জেলাশাসকদের দ্রুত তদন্ত শেষ করার নির্দেশ স্কুল শিক্ষা দফতরের

সোমবার রাজ্যের সব জেলাশাসক, শিলিগুড়ির মহকুমাশাসক, জিটিএ-র এগ্‌জ়িকিউটিভ ডিরেক্টর এবং কলকাতার প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের চেয়ারম্যানকে দ্রুত তদন্ত করে রিপোর্ট পেশের নির্দেশ দিয়েছে স্কুল শিক্ষা দফতর।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২৪ মার্চ ২০২৬ ১৬:২৮

— প্রতীকী চিত্র।

মিড-ডে মিলের বরাদ্দ ব্যবহার করা হয়েছে স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায়। এমনই অভিযোগ উঠেছিল গত ডিসেম্বরে। তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল স্কুল শিক্ষা দফতর। কিন্তু গত তিন মাসে সে তদন্ত এগোয়নি। এ বার নড়ে বসল দফতর। দ্রুত রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।

Advertisement

সূত্রের খবর, সোমবার রাজ্যের সব জেলাশাসক, শিলিগুড়ির মহকুমাশাসক, জিটিএ-র এগ্‌জ়িকিউটিভ ডিরেক্টর এবং কলকাতার প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের চেয়ারম্যানকে দ্রুত তদন্ত করে রিপোর্ট পেশের নির্দেশ দিয়েছে স্কুল শিক্ষা দফতর।

দফতরের এক কর্তা জানান, গত জানুয়ারিতে রাজ্যের শিশু অধিকার সুরক্ষা কমিশনের তরফে চিঠি দিয়ে অভিযোগের কথা জানানো হয়েছিল। সেখানে বলা হয়েছিল ডিসেম্বর, ২০২৬-এ রাজ্যের বিভিন্ন প্রাথমিক স্কুলে যে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা হয়েছিল সেখানে মিড-ডে মিলের বরাদ্দ অর্থ খরচ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে কমিশনে রিপোর্ট পাঠানোর কথা বলা হয়েছিল। এমনকি কোনও জেলা স্কুল পরিদর্শকের অফিসে থেকে মিড-ডে মিলের অর্থ স্পোর্টস কমিটিতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল কি না, তা-ও জানতে চেয়েছিল কমিশন। কিন্তু গত তিন মাসে ওই তদন্তে কোনও অগ্রগতি হয়নি বলেই খবর।

গত ১৬ মার্চ ফের চিঠি দিয়ে বিস্তারিত জানতে চেয়েছে কমিশন। তার ভিত্তিতেই সোমবার সব জেলাশাসকের কাছে এই বিষয়ে তদন্ত করে রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে বলে জানান দফতরের ওই কর্তা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক জানান, প্রতিদিন যে সব পড়ুয়া স্কুলে আসবে, তেমন নয়। কিন্তু মিড-ডে মিলে সকলের জন্যই বরাদ্দ থাকে। ধরা যাক, কোনও স্কুল মিড-ডে মিলের জন্য ২৫০ পড়ুয়ার নাম নথিভুক্ত করেছে। কিন্তু গড়ে উপস্থিত থাকে ১৫০ জন। সে ক্ষেত্রে বাকি ১০০ জনের বরাদ্দ অর্থ স্কুলের তহবিলে থাকার কথা। অভিযোগ, বহু স্কুলেই ১০০ শতাংশ উপস্থিতির হার দেখিয়ে মিড-ডে মিলের টাকা সরিয়ে ফেলা হয়। সেই টাকাই বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় ব্যয় হয়েছে বলে অভিযোগ।

কিন্তু সে ক্ষেত্রে প্রশ্ন, বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার জন্য বরাদ্দ অর্থ তা হলে কোথায় গেল?

নানা ভাবে অর্থ নয়ছয় হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডলের দাবি, এই প্রথম নয়। এর আগে সংখ্যালঘু উন্নয়ন, তফসিলি জাতি-উপজাতি উন্নয়ন, সুন্দরবন উন্নয়ন ও জঙ্গলমহল উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ প্রায় পাঁচশো কোটি টাকার অপব্যবহার হয়েছিল। তিনি বলেন, “সে বার স্কুলগুলি নীল-সাদা রং করার জন্য খরচ করা হয়েছিল অর্থনীতির কোনো নিয়ম না মেনেই। এ বার শোনা যাচ্ছে মিড-ডে মিলের টাকায় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা হয়েছে। শিশুদের মুখের গ্রাস কেড়ে ক্রীড়া প্রতিযোগিতার নামে শাসকদলের শিক্ষকেরা ফুর্তি করেছেন আসলে। বড় দুর্নীতি। পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে দোষীদের উপযুক্ত শাস্তির দাবি করছি।”

যদিও দফতর জানিয়েছে, পূর্ণাঙ্গ তদন্ত রিপোর্টে হাতে আসার আগে কোনও কিছুই করা সম্ভব নয়।

Advertisement
আরও পড়ুন