— প্রতীকী চিত্র।
মিড-ডে মিল থেকে পঠনপাঠন— কেমন চলছে স্কুলগুলি, পরিদর্শনের মাধ্যমে এ বার নজরদারি চালানো হতে পারে। সূত্রের খবর, স্কুল পরিদর্শকদের মাধ্যমেই স্কুলের উপর নজর রাখতে চাইছে রাজ্য সরকার।
জানা গিয়েছে, সম্প্রতি জেলা স্কুল পরিদর্শকদের সঙ্গে স্কুলশিক্ষা দফতরের এক বৈঠকে তাঁদের এই বার্তা দেওয়া হয়েছে। স্কুলের সার্বিক উন্নয়নে স্কুল পরিদর্শনের পাশাপাশি দেশাত্মবোধ জাগ্রত করতে বন্দেমাতরম গান পুরোটাই প্রার্থনার সময় গাইতে হবে বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্কুলশিক্ষা দফতর সূত্রের খবর, ২৮ ও ২৯ মে জেলাস্কুল পরিদর্শকদের সঙ্গে বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের জন্য পৃথক দু’দিন অনলাইন বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু ২৮ মে ছুটি হওয়ায় ২৬ এবং ২৭ মে ওই বৈঠক হয়। সেখানে জানানো হয়েছে, ১ জুন থেকে স্কুল খোলার দিন থেকেই প্রার্থনার সময়ে প্রথমে বন্দেমারতম গান এবং পরে জাতীয় সঙ্গীত গাইতে হবে।
এরই পাশাপাশি স্কুল পরিদর্শনেও জোর দেওয়া হচ্ছে। সূত্রের খবর, খাতায়কলমে নিয়ম থাকলেও বহু ক্ষেত্রে স্কুল পরিদর্শনের ঘাটতি চোখে পড়ছিল। নানা কাজের চাপে পরিদর্শন সন্তোষজনক হচ্ছিল না বলেই খবর। তাই মিড-ডে মিল, স্কুলের সার্বিক পরিকাঠামো শিশুদের পড়ার ক্ষমতা, শিক্ষক ও পড়ুয়াদের উপস্থিতি— সব বিষয়েই পর্যালোচনা করতে হবে বলে জানান দফতরের এক কর্তা।
এ ছাড়া রাজ্যের যে সব স্কুলে পড়ুয়ার সংখ্যা শূন্য, তার বিস্তারিত তালিকা জেলাশাসকদের থেকে চেয়ে পাঠানো হয়েছে বলে খবর। তবে ওই সব স্কুলের ক্ষেত্রে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়ে কোনও আলোচনা হয়নি বলেই খবর। পাশাপাশি একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির বহু পড়ুয়া ভাষা ও সাহিত্যের বই পায়নি। আলোচনা হয়েছে সে সব নিয়েও।
অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের পেনশন নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে খবর। দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, জেলা স্কুল পরিদর্শকের অফিস থেকে এ সংক্রান্ত কোনও কাজে অহেতুক দেরি করা যাবে না। দ্রুততার সঙ্গে পেনশনের সব কাজ সেরে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ওই বৈঠকে উপস্থিত এক সদস্যের কথায়, ‘‘রাজ্য সরকার চাইছে স্কুল শিক্ষাব্যবস্থার মরচে সরিয়ে এগিয়ে নিয়ে যেতে। স্কুল পরিদর্শনের মাধ্যমে নজরদারি এবং দ্রুত সমাধানে জোর দিতে চাইছে সরকার।’’