WBCHSE HS result 2026

পরমাণু বিজ্ঞানী হতে চান সবঙের শুভঙ্কর! যুদ্ধ নয়, আলোর দিশা খোঁজেন উচ্চ মাধ্যমিকের নবম

শুভঙ্করের বাবা নবকুশ সামন্ত সামান্য চাষবাস করেন, নিজের জমি নেই। তারই পাশাপাশি সামান্য কিছু রোজগার করেন গৃহশিক্ষকতা করে। একমাত্র সন্তানের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ তাঁকেও করে তুলেছে জেদি, যে ভাবেই হোক, ছেলেকে বড় করতেই হবে।

Advertisement
সুপ্রিয় তরফদার
শেষ আপডেট: ১৫ মে ২০২৬ ১৫:২৪
উচ্চ মাধ্যমিকে নবম  শুভঙ্কর সামন্ত ।

উচ্চ মাধ্যমিকে নবম শুভঙ্কর সামন্ত । ছবি: সংগৃহীত।

সবঙের ছোট্ট ঘরে বাবা-মায়ের সঙ্গে বড় হওয়া। বছর পাঁচেক বয়স পর্যন্ত মাটির ঘরে ছিল না বিদ্যুৎ সংযোগ। আঁধার ঘরের মানিক শুভঙ্কর তাই চান সকলের ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিতে। পরমাণু বিজ্ঞানী হওয়ার স্বপ্ন উচ্চ মাধ্যমিকে নবম স্থানাধিকারীর।

Advertisement

পশ্চিম মেদিনীপুর সবঙের শুভঙ্কর সামন্ত অবশ্য উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছেন পূর্ব মেদিনীপুরের ময়না এলাকার পরমানন্দপুর জগন্নাথ ইনস্টিউশন থেকে। সেখানে মামার বাড়ি, মাধ্যমিকের পর মামার বাড়ি থেকেই পড়াশোনা করেছেন। ছোট থেকেই বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহ। মাটির ঘরের ছেলে আদর্শ গড়েছেন আইজ়্যাক নিউটনকে, প্রেরণা জোগান আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু। আর তাঁর স্বপ্নের নায়ক নিকোলা টেসলা। বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে চান শুভঙ্কর, যাতে সকলের কাছে বিনামূল্য বিদ্যুৎ পৌঁছে যায় ।

শুভঙ্করের বাবা নবকুশ সামন্ত সামান্য চাষবাস করেন, নিজের জমি নেই। তারই পাশাপাশি সামান্য কিছু রোজগার করেন গৃহশিক্ষকতা করে। একমাত্র সন্তানের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ তাঁকেও করে তুলেছে জেদি, যে ভাবেই হোক, ছেলেকে বড় করতেই হবে। পূরণ হবে তাঁর স্বপ্ন। আর এই প্রত্যয়ে তিনি পাশে পেয়েছেন যাঁদের, ছেলের সাফল্যের দিনে তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে ভোলেন না। নবকুশ বলেন, “আমার ছেলে মেধাবী। কিন্তু তা দিয়ে তো সব হয় না। স্কুলের শিক্ষকেরা ওকে সব রকম সাহায্য করেছেন। তারই পাশাপাশি কলকাতার এক বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাও পাশে দাঁড়িয়েছে। তাঁদের সকলের সাহায্য-আশীর্বাদ ছাড়া এই সাফল্য পেত না আমার ছেলে।”

বাবা ও মায়ের সঙ্গে শুভঙ্কর।

বাবা ও মায়ের সঙ্গে শুভঙ্কর।

ওই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সম্পাদক সৌরভ বিশ্বাস বলেন, “প্রথম থেকেই শুভঙ্করের অসীম সম্ভাবনার আঁচ পাওয়া যেত। ও ভাল ফল করেছে, সেটা শুধু ওর ইচ্ছা আর মেধা নয়। পরিবারের সকলেরও যথেষ্ট আগ্রহী ছিল।”

স্কুলের বরাবরই নজর কেড়েছেন শুভঙ্কর। মাধ্যমিকের আগে থেকেই বিজ্ঞানে আগ্রহ। গণিতের সমাধান নানা ভাবে করে তাক লাগিয়ে দিতেন স্কুলশিক্ষকদের। নবম শ্রেণি থেকে পদার্থবিদ্যা আকর্ষণ করতে শুরু করে তাঁকে। ১৪ বছরের ছেলের বিশ্লেষণী ক্ষমতায় অবাক হয়েছিলেন সবং শ্যামসুন্দরপুর রামকৃষ্ণ বিদ্যাপীঠের শিক্ষকেরা।

এ রাজ্যের মেধাবীরা যখন মূল ধারার বিজ্ঞান শিক্ষায় আগ্রহ হারাচ্ছেন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞেরা, তখনই শুভঙ্করের মতো প্রথম সারির পড়ুয়ার স্বপ্নে পদার্থবিদ্যা, সেখানেই আশার আলো। এ বার উচ্চ মাধ্যমিকে শুভঙ্কর পেয়েছেন মোট ৪৮৮। ইংরেজিতে ৯৯, গণিত ও রসায়নে ৯৮, পদার্থবিদ্যায় ৯৭ ও বাংলায় ৯৬ এবং জীববিদ্যায় ৯০।

Advertisement
আরও পড়ুন