— প্রতীকী চিত্র।
গত নভেম্বর থেকে শুরু হয়েছিল এসআইআর-এর কাজ। পরবর্তী ক্ষেত্রে বিধানসভা নির্বাচনের নানা কাজের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছিল স্কুলের শিক্ষকদের। এ বারে অভিযোগ, অন্নপূর্ণা ভান্ডারের ফর্ম পূরণে্র কাজেও যুক্ত করা হচ্ছে তাঁদের। এর বিরুদ্ধেই সরব হয়েছেন শিক্ষকেরা। যেখানে স্কুলে শিক্ষকের ঘাটতি রয়েছে, সেখানে সরকারি নানা কাজে শিক্ষকদের যুক্ত না করার দাবি জানিয়ে রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়ালকে বুধবার ই-মেল করল এক শিক্ষক সংগঠন। একমাত্র নির্বাচন ছাড়া শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত নয়, এ রকম কোনও কাজের সঙ্গে যেন বিএলও-দের যুক্ত না করা হয়, সেই মর্মে আবেদন করা হয়েছে।
আবেদনকারী শিক্ষক সংগঠন বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল জানান, সম্প্রতি রাজ্য সরকারের তরফে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে, অন্নপূর্ণা ভান্ডারের ফর্ম পূরণের কাজে বিএলও-দের যুক্ত করা হতে পারে। তার পরে উত্তরবঙ্গের একটি জেলার বিডিও এই ফর্মপূরণের জন্য সরাসরি বিএলও-দের যুক্ত করার বিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন। এর পরেই শিক্ষক মহলে গুঞ্জন শুরু হয়। শিক্ষার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত নয়, এ রকম কাজে কেন শিক্ষকদের যুক্ত করা হচ্ছে, এই নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।
শিক্ষকদের অভিযোগ, গত নভেম্বর থেকেই যে গোটা শিক্ষা ব্যবস্থার বাঁধন আলগা হচ্ছে, তা তাঁরা উপলব্ধি করতে পেরেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষকের বক্তব্য, নির্বাচনের কাজ তাঁরা করতে বাধ্য। প্রতি বছরেই শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের এক বড় অংশ নির্বাচনের কাজে সব থেকে বেশি যুক্ত থাকে। কিন্তু এ বার যে ভাবে এসআইআর এবং পরবর্তী সময়ে বিধানসভা নির্বাচনের কাজে যে ভাবে সব শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীকে যুক্ত করা হয়েছে, তার নজির নেই। তার উপরে এ বারে যদি সরকারি নানা প্রকল্পের সঙ্গে তাঁদের যুক্ত করা হয়, তা হলে সেটা একেবারেই কাঙ্ক্ষিত হবে না। এ ভাবে চলতে থাকলে শিক্ষা ব্যবস্থার আরও অবনতি হতে থাকবে।
১ জুন থেকেই গরমের ছুটির পরে স্কুল খুলে যাবে। গত মাসগুলিতেও সে ভাবে স্কুলমুখী হতে পারেননি শিক্ষকেরা। একের পর এক নির্বাচন সংক্রান্ত কাজ এবং প্রশিক্ষণের জন্য শিক্ষা বিপর্যস্ত হয়েছিল। এ বারে ফের কি অন্য কাজেও যুক্ত করা হবে শিক্ষকদের? শিক্ষক নেতা স্বপন বলেন, ‘‘শিক্ষকদের প্রধান কাজ শিক্ষকতা করা। তার পাশাপাশি নির্বাচনের কাজেও যুক্ত করা হয়। সেটা আমরা করে আসছি। কিন্তু এর পরে যদি ফের সরকারের নানা কাজের সঙ্গে .যুক্ত করা হয়, তা হলে আর শিক্ষকতা কখন হবে?’’ নিখিলবঙ্গ শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুজিত দাস বলেন, ‘‘আগের সরকার তো স্কুলগুলিকে পঞ্চায়েত অফিস আর বিডিও অফিস বানিয়ে ফেলেছিল। নানা কাজের সঙ্গে শিক্ষকদের যুক্ত করলে সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় পড়ুয়ারা। এর ফলে তো সেই আবার আগের অবস্থাই ফিরে আসছে। শিক্ষকদের শুধু শিক্ষকতাটাই ভাল ভাবে করতে দেওয়া হোক।’’