প্রতীকী চিত্র।
পথ কুকুরের কামড় থেকে বাঁচতে সচেতন করতে হবে স্কুল শিক্ষকদেরই। রাজ্যের সরকারি ও সরকার পোষিত স্কুলগুলির জন্য নতুন করে এক বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে ডাইরেকটরেট অফ স্কুল এডুকেশন।
গত নভেম্বরেই সারা দেশের রেলস্টেশন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল থেকে শুরু করে বাসস্ট্যান্ড, স্পোর্টস কমপ্লেক্স চত্বর থেকে পথকুকুরদের সরানোর নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। সেই নির্দেশকে মান্যতা দিয়ে এ বার পথ কুকুরদের উপদ্রব কমাতে উদ্যোগী হল স্কুল শিক্ষা দফতর।
ডাইরেকটরেট অফ স্কুল এডুকেশনের তরফ থেকে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে উল্লেখ করা হয়েছে, রাজ্যের প্রতিটি স্কুলে ক্যাম্পাসের ভিতরে পথকুকুরের উপদ্রব রুখতে পদক্ষেপ করতে হবে। যাতে পড়ুয়ারা নিশ্চিন্তে ও নির্ভয়ে যাতায়াত করতে পারে। এ জন্য মিড-ডে মিলের ধাঁচে নোডাল শিক্ষক নিয়োগ করতে হবে প্রতিটি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের স্কুলকে, জানান হয়েছে সে কথাও।
জানা গিয়েছে, নোডাল শিক্ষকেরাই নিরাপত্তার ও স্কুল চত্বরের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করবেন। বিশেষত, যেখানে মিড-ডে মিল রান্না হচ্ছে, সেখানে কুকুরের ঘোরাফেরা নিয়ে সতর্ক থাকতে হবে। পথকুকুরদের উপদ্রব কমাতে স্থানীয় পুরসভা বা পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখবেন নোডাল শিক্ষক।
এ ছাড়াও স্কুল শুরুর আগে, প্রার্থনার পরে পড়ুয়াদের সচেতন করার কথাও বলা হয়েছে শিক্ষকদের। পথকুকুরকে ঢিল ছোড়া বা বিরক্ত করার মতো বিষয় থেকে পড়ুয়াদের বিরত করার দায়িত্বও শিক্ষকদের। কী কী পদক্ষে করা হয়েছে স্কুলগুলিতে, তার রিপোর্টও জমা দিতে হবে আগামী ৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে।
এ দিকে শিক্ষকদের উপর এই অতিরিক্ত দায়িত্ব চাপিয়ে দেওয়া নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হচ্ছে। অল বেঙ্গল পোস্ট গ্র্যাজুয়েট টিচার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক চন্দন গড়াই বলেন, “একই স্কুলগুলিতে শিক্ষকের অভাব রয়েছে। অথচ, শিক্ষার বাইরে ২০টি প্রকল্পের সঙ্গে বিভিন্ন শিক্ষকরা যুক্ত রয়েছেন। এ বার কুকুরদের নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব শিক্ষকদের। কেন এত কাজ শিক্ষকদের করতে হবে?”
শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চে রসাধারণ সম্পাদক কিঙ্কর অধিকারী বলেন, “শিক্ষকদের এ বার কুকুর তাড়াতেও হবে! আমি মনে করি এটা শিক্ষকদের অবমাননা। তা ছাড়া, বহু স্কুলেই সীমানা প্রাচীর নেই। সেখানে কী হবে?”