ছবি: এআই সহায়তায় তৈরি।
রাজ্য জয়েন্টে নবম স্থানাধিকারী দেবজিৎ পালের ইচ্ছে ম্যাথেম্যাটিক্স অ্যান্ড কম্পিউটিং নিয়ে ভবিষ্যতে পড়াশোনা করার। আইআইটি খড়্গপুর থেকে ওই বিষয়ে স্নাতকে ভর্তিও হয়েছেন ওই কৃতী। কী পড়ানো হয় ওই বিষয়ে, কোথায় মিলতে পারে সুযোগ? রইল বিস্তারিত।
ম্যাথেম্যাটিক্স অ্যান্ড কম্পিউটিং বিষয়ে গণিতের জটিল সূত্রের সমাধানের সঙ্গে কম্পিউটার সায়েন্স-এর খুঁটিনাটির চর্চা চলে। মাল্টিডিসিপ্লিনারি বিভাগের এই বিষয় থেকেই কোডিং, মেশিন লার্নিং, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, গ্রাফ থিয়োরি, ক্রিপ্টোগ্রাফি, সায়েন্টিফিক কম্পিউটিং শিখে নিতে পারবেন পড়ুয়ারা।
মাল্টিডিসিপ্লিনারি বিষয় নিয়ে চর্চার মূল লক্ষ্য হল, একটি সমস্যার অনেক সমাধানের পথ খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করা। ম্যাথেম্যাটিক্স অ্যান্ড কম্পিউটিং তেমনই একটি বিষয়। এই বিষয়ের সাহায্যে অতীতের তথ্য বিশ্লেষণ করে বর্তমান পরিস্থিতির সাপেক্ষে ভবিষ্যতের সম্ভাবনা সম্পর্কে একটি ধারণা তৈরি করা যেতে পারে।
দ্বাদশের পর কী ভাবে শুরু?
উচ্চ মাধ্যমিক কিংবা সমতুল পরীক্ষায় পাশ করার পর ম্যাথেম্যাটিক্স অ্যান্ড কম্পিউটিং নিয়ে পড়াশোনার সুযোগ পাওয়া যায়। এ ক্ষেত্রে ব্যাচেলর অফ টেকনোলজি (বিটেক) কিংবা ব্যাচেলর অফ সায়েন্স (বিএসসি) ডিগ্রি কোর্সের অধীনে পড়াশোনা করতে হবে।
স্নাতকে ভর্তি হওয়ার জন্য দ্বাদশে পদার্থবিদ্যা, রসায়ন এবং গণিত থাকা প্রয়োজন। পাশাপাশি, সর্বভারতীয় কিংবা রাজ্য স্তরের জয়েন্ট এন্ট্রান্স এগ্জ়ামিনেশনে পাশ করতে হবে আগ্রহীদের। তবেই স্নাতকে টেকনোলজি কিংবা বিজ্ঞান শাখার অধীনে উল্লিখিত বিষয় নিয়ে ভর্তি হতে পারবেন।
তবে, ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউট, ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স, বিড়লা ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি অ্যান্ড সায়েন্স-এর মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তরফে নিজস্ব প্রবেশিকা নেওয়া হয়ে থাকে। তাতে উত্তীর্ণ হতে পারলে ম্যাথেম্যাটিক্স অ্যান্ড কম্পিউটিং নিয়ে স্নাতকে ভর্তি হওয়ার সুযোগ মিলবে।
কোথায় ভর্তি হতে হবে?
স্নাতকে ম্যাথেম্যাটিক্স অ্যান্ড কম্পিউটিং নিয়ে বিজ্ঞান শাখার অধীনে পড়তে আগ্রহীরা দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়, ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউট, ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স, আইআইআইটি হায়দরাবাদে ভর্তি হতে পারবেন।
যাঁরা টেকনোলজি শাখার অধীনে ওই বিষয় নিয়ে পড়তে চান, তাঁরা ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (আইআইটি) প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাবেন। এ দেশে আইআইটি দিল্লি, আইআইটি বোম্বে, আইআইটি খড়্গপুরে ওই বিষয়টি পড়ানো হয়ে থাকে। উল্লিখিত প্রতিষ্ঠান থেকেই স্নাতকোত্তর কিংবা পিএইচডি করার সুযোগও থাকছে।
কাজের সুযোগ কেমন?
বহুমুখী বিষয়ে একই সঙ্গে বিভিন্ন ক্ষেত্রে জ্ঞান অর্জনের পর বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজের সুযোগ মিলতে পারে। এ ক্ষেত্রে তথ্যপ্রযুক্তি তো বটেই, সাইবার সুরক্ষা বিভাগ, ব্যাঙ্কেও চাকরি পেতে পারেন। যে সব পদে ম্যাথেম্যাটিক্স অ্যান্ড কম্পিউটিং-এ উচ্চশিক্ষিতদের নিয়োগ করা হয়ে থাকে, সেগুলি হল— সফট্অয়্যার ইঞ্জিনিয়ার, ডেটা সায়েন্টিস্ট, মেশিন লার্নিং ইঞ্জিনিয়ার, কোয়ান্টিটেটিভ অ্যানালিস্ট, রিসার্চ সায়েন্টিস্ট।
এ ছাড়াও উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পর এই বিষয় বিশেষজ্ঞেরা বিমার ঝুঁকি নির্ণয় সংক্রান্ত কাজেও যোগদান করতে পারবেন। তবে, এ ক্ষেত্রে তাঁদের অ্যাকচুরিয়াল কমন এন্ট্রান্স টেস্ট দিতে হবে। তাতে উত্তীর্ণ হওয়ার পর এই ক্ষেত্রে কাজের সুযোগ মিলতে পারে।
গণনার কাজ দ্রুত সম্পূর্ণ করতে কম্পিউটারের আবিষ্কার হয়েছিল। বর্তমানে সেই কম্পিউটার সায়েন্স-এর সাহায্যে গাণিতিক সমাধান এবং তার তথ্য বিশ্লেষণের করে থাকেন বিশেষজ্ঞরা। যাঁরা গণিত, কোডিং নিয়ে মাধ্যমিকের পর থেকেই চর্চায় আগ্রহী, তাঁরা এই বিষয়টি উচ্চশিক্ষার জন্য বেছে নিতে পারেন।