ডোনাল্ড ট্রাম্প। —ফাইল চিত্র।
কোনও সুনির্দিষ্ট রফাসূত্র ছাড়াই সুইৎজ়ারল্যান্ডের বার্গেনস্টক শৈলশহরে শেষ হয়েছে প্রথম দফার শান্তিবৈঠক। আর তার পর থেকেই ধারাবাহিক ভাবে ইরানের উপর চাপ বাড়াচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার তাঁর মন্তব্য, ‘‘আমরা পূর্ণ শক্তি নিয়ে মজবুত অবস্থান থেকে আলোচনা চালাচ্ছি।’’ সেই সঙ্গেই তাঁর দাবি, ‘‘তেহরান এখন ওয়াশিংটনের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছোতে আগ্রহী।’’
হোয়াইট হাউসে কৃষকদের সঙ্গে এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের পক্ষেও সাফাই দেন। তিনি বলেন, ‘‘এর (ইরানে হানাদারি) ফলে আলোচনার টেবিলে আমেরিকার দরকষাকষির ক্ষমতা আরও বেড়়েছে।’’ ইরানে সামরিক অভিযানে আমেরিকা সফল হয়েছে বলেন জানিয়ে ট্রাম্প বলেন, “আমরা ওদের পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দিয়েছি, আর এখন আমরা সম্পূর্ণ শক্ত অবস্থান থেকে আলোচনা করছি। ওরাও সেটা জানে।’’ সেই সঙ্গেই মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, “ইরান আমাদের সঙ্গে খুবই মরিয়া হয়ে একটি চুক্তি করতে চায়। সম্ভবত আমরা তা করব।”
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করেছিল পেন্টাগন। তেহরানের বিরুদ্ধে সেই সামরিক পদক্ষেপের পক্ষে ট্রাম্প বলেন, ‘‘ইরানের পারমাণু কর্মসূচি নিয়ে উদ্বেগের কারণে আমেরিকার আর কোনও বিকল্প ছিল না। ইরানের পারমাণু অস্ত্রের অধিকারী হওয়া মানে ছিল ইজ়রায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের (পশ্চিম এশিয়া) ধ্বংস এবং বিশ্বের জন্য বিপদ। তাই আমাদের ইরানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করতেই হয়েছে।” তবে গত ১৭ জুন যুদ্ধবিরতি সমঝোতা সংক্রান্ত ‘মউ’ সই হওয়ার পরে উত্তেজনার প্রশমন হয়েছে। হরমুজ় প্রণালী পুরোপুরি সচল রয়েছে দাবি করে বৃহস্পতিবার ট্রাম্পের মন্তব্য, “হরমুজ় প্রণালী খোলা রয়েছে এবং গতকাল এর মাধ্যমে ১ কোটি ৯০ লক্ষ ব্যারেল তেল পরিবাহিত হয়েছে। যা ইতিহাসে সর্বোচ্চ।”
ঘটনাচক্রে, ট্রাম্পের ওই মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টা পরেই হরমুজ় প্রণালীতে পণ্যবাহী জাহাজে ড্রোন হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে ইরান সেনার বিরুদ্ধে। ওমানের দাহিট বন্দর থেকে ৭.৫ নটিক্যাল মাইল দূরে সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী জাহাজ ‘এভার লাভলি’র উপর হামলা চালানো হয়। প্রসঙ্গত গত বুধবার রাষ্ট্রপুঞ্জ নিয়ন্ত্রিত আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-র সঙ্গে সমঝোতা নিয়ে আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্সের (ঘটনাচক্রে, যিনি সুইৎজ়ারল্যান্ডে শান্তিবৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন) দাবি তেহরান খারিজ করার পরেও তাদের একদফা হুমকি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তুলনায় বৃহস্পতিবার তার সুর ছিল কিছুটা নরম। এমনকি, ইরান মার্কিন কৃষিপণ্যের ক্রেতা হতে পারে বলেও দাবি করেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, “আমাদের আর একটি নতুন বাজার আসছে, আর সেটি সুন্দর দেশ ইরান।’’