WBCHSE

সেমেস্টার পদ্ধতিতে উচ্চ মাধ্যমিক, কমছে ক্লাস! অভিযোগ খতিয়ে দেখে বৈঠকে বসতে চলেছে সংসদ

পুজোর ছুটির পরে ক্লাস শুরু হতে না হতেই অন্য ক্লাসের পরীক্ষার জন্য ক্লাস বন্ধ থাকে। তারপরে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা থাকার জন্য কেউ আর স্কুলে আসতে চায় না। এ ভাবে পড়াশোনার ক্ষতি তো হচ্ছেই। পাশাপাশি বৃদ্ধি পাচ্ছে প্রাইভেট টিউশনের নির্ভরতা।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২৫ এপ্রিল ২০২৬ ১৭:২১

— প্রতীকী চিত্র।

সারা দেশের মধ্যে এ রাজ্যেই প্রথম সেমেস্টার পদ্ধতিতে চালু হয়েছে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা। ২০২৫-এ প্রথম বার পরীক্ষা হয়েছে এই পদ্ধতিতে। কিন্তু সেখানেই অভিযোগ উঠেছে, পড়ুয়ারা যথাযথ প্রস্তুতির সময় পাচ্ছে না। এ বার উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ উদ্যোগী হচ্ছে সেই সমস্যা সমাধানে।

Advertisement

সংসদ সূত্রের খবর, কী ভাবে এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পাওয়া যায় তা নিয়ে আলোচনায় বসতে চাইছে সংসদ। শুধু চূড়ান্ত সেমেস্টার নয়, উচ্চ মাধ্যমিকের প্রতিটি সেমেস্টারে পড়ুয়ারা যেন পর্যাপ্ত সময় পায়, যথাযথ ভাবে পাঠ্যক্রম শেষ করার সুযোগ পান শিক্ষকেরা, সে দিকে লক্ষ্য রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।

তবে জানা গিয়েছে, সেমেস্টার ব্যবস্থা নিয়ে শিক্ষকদের তরফেও কিছু অভিযোগ রয়েছে। ওই বৈঠকে তা নিয়েও আলোচনা হতে পারে বলে খবর। যদিও এ বিষয়ে সংসদের তরফে কোনও মন্তব্য করা হয়নি।

২০২৫ থেকেই একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিকে মোট ৪টি সেমেস্টারে ভাগ করে পরীক্ষা শুরু হয়। সেই অনুযায়ী প্রথম ও তৃতীয় সেমেস্টারে বহু বিকল্পমূলক বা ‘মাল্টিপল চয়েজ’ প্রশ্ন এবং দ্বিতীয় ও চতুর্থ সেমেস্টারে বর্ণনামূলক প্রশ্নের উত্তর দিতে হয় শিক্ষার্থীদের। সেপ্টেম্বর মাস নাগাদ প্রথম ও তৃতীয় সেমেস্টার এবং ফেব্রুয়ারি ও মার্চ নাগাদ হয় দ্বিতীয় ও চতুর্থ সেমেস্টারের পরীক্ষা। কিন্তু এই পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীদের সার্বিক মূল্যায়ন সম্ভব হচ্ছে না বলেই বার বার দাবি করেছেন শিক্ষকেরা। বিশেষত, দ্বিতীয় এবং চতুর্থ সেমেস্টারে পর্যাপ্ত সময় থাকে না বলেই অভিযোগ।

শিক্ষকদের দাবি, নভেম্বর ও ডিসেম্বরে অন্য ক্লাসগুলির পরীক্ষা থাকে। সে সময় দ্বিতীয় ও চতুর্থ সেমেস্টারের ক্লাস সে ভাবে করানো সম্ভব হয় না। অথচ এই দু’টি সেমেস্টারেই বর্ণনামূলক প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়। ফলে প্রস্তুতিতে একটা খামতি থেকে যাচ্ছে, মানছেন শিক্ষকেরা। তার প্রতিফলন পরীক্ষার খাতায়ও পড়ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্কুল শিক্ষক বলেন, “পুজোর ছুটি পরে ক্লাস শুরু হতে না হতেই অন্য ক্লাসের পরীক্ষার শুরু হয়ে যায়। একাদশ-দ্বাদশ বন্ধ থাকে। ডিসেম্বরের শেষে শীতাবকাশ থাকে। আসন্ন উচ্চ মাধ্যমিকের জন্য চতুর্থ সেমেস্টারের পড়ুয়ারা আর স্কুলেও আসতে চায় না। এ ভাবে পড়াশোনার ক্ষতি হচ্ছে।” শুধু তা-ই নয়, এই পদ্ধতিতে বাড়িতে বসে পড়াশোনা করার প্রবণতা বাড়ছে। ফলে গৃহশিক্ষক নির্ভরতাও বাড়ছে। ওই শিক্ষকের দাবি, “এই প্রবণতায় রাশ না টানলে স্কুলগুলি কেবল শংসাপত্র পাওয়ার মাধ্যমে পরিণত হবে। তা সমাজের জন্য মোটেও ভাল হবে না।”

২০২৫ উচ্চ মাধ্যমিকের ক্ষেত্রে প্রস্তুতি যথাযথ হয়নি বলে বার বার অভিযোগ তুলেছিলেন অভিভাবকেরা। এমনিতেই বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর কারণে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা এগিয়ে আনতে হয়েছে। তার উপর গত বছর নভেম্বর থেকেই বহু শিক্ষক ব্যস্ত এসআইআর-এর কাজে।

বিভিন্ন জেলা থেকে শিক্ষকেরা দাবি তুলেছেন যে বছরে ২০০ দিনের বদলে ক্লাস হচ্ছে মাত্র ৯০ দিন। নিয়ম মাফিক ২ মে থেকে পাঠ্যবর্ষ শুরু হওয়ার কথা। কিন্তু প্রতি বছরই সে সময় গ্রীষ্মাবকাশ শুরু হয়। নষ্ট হয়ে যায় মাস দে়ড়েক সময়। তার পর নানা ছুটি, পালনীয় দিনের কারণে ক্লাস করানো সম্ভব হয় না। পড়ুয়ারা শুধু পরীক্ষা দিতে উপস্থিত হয়।

উত্তরবঙ্গের এক স্কুলশিক্ষক বলেন, ‘‘উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার যাচাইকরণ হয়ে গিয়েছে ২০২৬-এই। আশা করি সংসদ বুঝে গিয়েছে, কোন কোন ক্ষেত্রে অসুবিধা রয়েছে। আশা করা যায় যে স‌ংসদের বৈঠকে ইতিবাচক হবে।”

কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, সংসদের এই বৈঠকে কি আদৌ শিক্ষাদিবস বৃদ্ধি পাবে?

অল পোস্ট গ্র্যাজুয়েট টিচার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের রাজ্য সম্পাদক চন্দন গড়াই জানিয়েছেন, তাঁরা একটি বাৎসরিক পরিকল্পনা সংসদে জমা দিয়েছেন। সংসদ সূত্রের খবর, শুধু দ্বিতীয় বা চতুর্থ নয়, সব সেমেস্টারেই যেন পর্যাপ্ত ক্লাসের সময় পাওয়া যায়, তা নিয়েই আলোচনা হবে। আগামী ১৪ মে উচ্চ মাধ্যমিকের ফলঘোষণা করবে সংসদ। সেই সময় বা তার কিছু পরেই যেন শিক্ষাবর্ষ বা বাৎসরিক পরিকল্পনা প্রকাশ করা যায় সেই চেষ্টাও করা হচ্ছে বলে খবর। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে পঠনপাঠনের দিকে অধিক জোর দেওয়া হবে বলে আশা শিক্ষকদের।

Advertisement
আরও পড়ুন