CU semester Exam system

ক্লাস হচ্ছে না কলেজগুলিতে! ছুটি কাটার প্রস্তাবের মধ্যেই সেমেস্টারে জো়ড়-বিজোড় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে

তৃতীয় ও পঞ্চম সেমেস্টার এবং দ্বিতীয় ও চতুর্থ সেমেস্টার-এর পরীক্ষা একই দিনে নেওয়া হবে বলে প্রাথমিক ভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি কলেজের ছুটি কমানোর প্রস্তাবিত বিষয়ে আলোচনা করার জন্য সিন্ডিকেটের অনুমতি নিয়ে একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫:০২
প্রতীকী চিত্র।

প্রতীকী চিত্র।

সারা বছর কেবল পরীক্ষা! পঠনপাঠন শিকেয় তুলে পরীক্ষার প্রস্তুতিতে ব্যস্ত কলেজ শিক্ষকেরা। এ দিকে পড়ুয়ারা পাচ্ছেন না যথেষ্ট ক্লাসের সময়। এ সমস্যার সুরাহা করতেই কলেজে ছুটি কমানোর প্রস্তাব দিয়েছিল কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়। কিন্তু এখনই সে পথে হাঁটছেন না কর্তৃপক্ষ। বদলে জোড়-বিজোড় নীতিতে সেমেস্টারগুলিকে ভাগ করে পরীক্ষা নিতে চাইছেন তাঁরা। সিন্ডিকেটের বৈঠকে সে সিদ্ধান্ত মান্যতাও পেয়েছে বলে খবর।

Advertisement

সূত্রের খবর, তৃতীয় ও পঞ্চম সেমেস্টার এবং দ্বিতীয় ও চতুর্থ সেমেস্টার-এর পরীক্ষা একই দিনে নেওয়া হবে বলে প্রাথমিক ভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি কলেজের ছুটি কমানোর প্রস্তাবিত বিষয়ে আলোচনা করার জন্য সিন্ডিকেটের অনুমতি নিয়ে একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

হিসাব বলছে, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় অধীনস্থ কলেজগুলিতে অন্তত ৯০ দিন বা ১৩ সপ্তাহ ক্লাস হওয়ার কথা। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ও জাতীয় শিক্ষানীতি অনুযায়ী, প্রতিটি সেমেস্টারে ক্লাস হওয়া প্রয়োজন অন্তত ১২ থেকে ১৪ সপ্তাহ। কিন্তু আদতে মাত্র ৫০-৫৫ ক্লাস করানো হয় বলে অভিযোগ।

এ বিষয়ে ক্ষোভ রয়েছে শিক্ষকদের মধ্যেও। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কলেজ শিক্ষক জানাচ্ছেন, কাজের চাপ তাঁদের উপর আগের থেকে বেড়েছে। কিন্তু পড়ানোর সময় তাঁরা পাচ্ছেন না। ওই শিক্ষকের দাবি, “ক্লাস নেব কখন? একটা পরীক্ষা শেষ হতে না হতেই আর একটা পরীক্ষা এসে উপস্থিত। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কখনও প্রশ্ন তৈরি করার দায়িত্ব দিচ্ছে, কখনও খাতা দেখার। আবার পড়ুয়ারাও পরীক্ষার এক মাস আগে থেকেই ক্লাসে আসা বন্ধ করে দেন। তাঁদের নাকি যাতায়াতে সময় নষ্ট হয়। তাঁরা বাড়িতে বসে পড়াশোনা করতে চান।”

ক্লাস না হওয়ার অভিযোগ তোলেন পড়ুয়ারাও। যথেষ্ট ক্লাস না করিয়ে পরীক্ষা নেওয়া যাবে না— এই মর্মে ক্ষোভ বিক্ষোভ চলতে থাকা। অনেক সময়ই পিছিয়ে দিতে হয় পরীক্ষার নির্ধারিত সূচি।

গত অক্টোবরে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে যোগ দিয়ে এই পরিস্থিতির উন্নতি করতে চেয়েছিলেন আশুতোষ ঘোষ। কিন্তু এ জন্য তিনি কলেজগুলির নির্ধারিত ছুটি ছাঁটাই করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। বলা হয়েছিল, শীত-গ্রীষ্ম এবং পুজোর ছুটি কমিয়ে দেওয়া প্রয়োজন। কিন্তু অধ্যক্ষদের সঙ্গে বৈঠকে বিষয়টি সহজগম্য হয়নি। আপত্তি উঠেছিল অনেক কলেজের তরফেই। তাই আপাতত পরীক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তন করেই সমস্যা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছেন কর্তৃপক্ষ। তবে, ছুটি কমানোর পথ থেকে যে সরে এসেছে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, তা নয়। এই পরিবর্তনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের স্ট্যাটিউট-এ পরিবর্তন প্রয়োজন। জানা গিয়েছে, সে বিষয়ে ইতিমধ্যেই উচ্চশিক্ষা দফতরের মাধ্যমে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে আচার্যের কাছে।

এ প্রসঙ্গে আশুতোষ ঘোষ বলেন, “ক্লাসের সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য আমরা পরীক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনছি। একই দিনে তৃতীয় এবং পঞ্চম সেমেস্টারে পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে। এই ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে আমরা ক্লাসের সময় অনেকটাই বৃদ্ধি করতে পারব। তবে কলেজের ছুটিও খানিকটা কমানো প্রয়োজন। সে বিষয়ে অধ্যক্ষদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।”

জানা গিয়েছে, কী ভাবে ক্লাসের সংখ্যা বৃদ্ধি করা যায় সে বিষয়ে অধীনস্থ ১৫০টি কলেজে প্রস্তাব পাঠিয়েছে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়। সেখানেই কলেজগুলি জানিয়েছে, ছুটি না কমিয়ে পরীক্ষা একসঙ্গে নিয়ে ক্লাসের সংখ্যা ৯০ দিন করা সম্ভব।

ছুটি কমানো নিয়ে আপত্তি উঠেছে অধ্যক্ষ পরিষদের তরফেও। তাদের দাবি, ছুটি কমিয়ে দেওয়া হলে আখেরে বঞ্চিত হবেন শিক্ষক ও পড়ুয়ারা। কারণ রাজ্যের অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে সরকারি ছুটি কমানো হচ্ছে না। তাই বিকল্প ব্যবস্থার পক্ষেই মত পোষণ করছেন অধ্যক্ষেরা।

যেমন, নিউ আলিপুর কলেজের অধ্যক্ষ জয়দীপ ষড়ঙ্গী বলেন, “কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা ব্যবস্থায় অবশ্যই পরিবর্তন আনতে হবে। তবে ছুটি ছাটাই করে নয়। সেমেস্টার পরীক্ষা একসঙ্গে করেও ৪০-৪৫ দিনের মধ্যে পরীক্ষা শেষ করে ফেলতে হবে। আমরাও চাই পঠনপাঠন হোক ৯০ দিন।”

নিখিলবঙ্গ অধ্যক্ষ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মানস কবি বলেন, “বিকল্প যে প্রস্তাব উঠে এসেছে তাতে সমস্যার সমাধান হওয়ার কথা। তার পরও যদি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ছুটি কমাতে চান, তা হলে সব কলেজের সঙ্গে কথা বলতে হবে। অধ্যক্ষদের মতামত নিতে হবে।”

Advertisement
আরও পড়ুন