SIR in West Bengal and Deletion of Names

এসআইআরে বাদ-পড়া ৯১ লক্ষ নামের মধ্যে ৬৩ শতাংশই হিন্দু! মুসলিম কত? হিসাব কষেছে তৃণমূল, কী বলছে বিজেপি?

তৃণমূলের মুখপাত্রের বক্তব্য, ‘‘অনুপ্রবেশকারী এবং রোহিঙ্গা খুঁজতে গিয়ে বিজেপি সকলকে লাইনে দাঁড় করিয়েছে। সেই হয়রানি থেকে বাদ যাননি গরিব হিন্দুরাও। পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে, ৫৭ লক্ষেরও বেশি হিন্দু নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ে গিয়েছে।’’

Advertisement
শোভন চক্রবর্তী
শেষ আপডেট: ০৯ এপ্রিল ২০২৬ ১৭:০১
63% of deleted voters of West Bengal are Hindus: claims TMC

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

এসআইআর প্রক্রিয়ার শেষে পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৯১ লক্ষ নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে। কিন্তু সেই সংখ্যার মধ্যে কত হিন্দু এবং কত মুসলিম নাম রয়েছে, সেই তথ্য নির্বাচন কমিশন প্রকাশ্যে আনেনি। ঘটনাচক্রে, গত মঙ্গলবার ওই তালিকা প্রকাশের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সাংগঠনিক স্তরে হিসাব কষে তৃণমূল দাবি করল, যত নাম বাদ পড়েছে, তার ৬৩ শতাংশই হিন্দু! যা বিজেপির পক্ষে ‘অস্বস্তিকর’।

Advertisement

তৃণমূল যে পরিসংখ্যান তুলে ধরেছে, তার ‘সত্যতা’ নিয়ে প্রশ্ন তোলেনি বিজেপি। উল্টে তাদের প্রশ্ন, তৃণমূল এই পরিসংখ্যান হাতে পেল কী করে?

তৃণমূলের বক্তব্য, এসআইআরের একদম প্রথম পর্বে যে ৫৮ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়েছিল, তার মধ্যে ৪৪ লক্ষই ছিল হিন্দু নাম। সেই পর্বে মুসলিম নাম বাদ পড়েছিল প্রায় সাড়ে ১৩ লক্ষ। আবার দ্বিতীয় পর্বে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়েছিল প্রায় সাড়ে ৫ লক্ষ। এর মধ্যে ৫ লক্ষ ২৮ হাজারই হিন্দু! মুসলিম নাম বাদ পড়েছিল ১৩ হাজারের মতো। তৃতীয় অর্থাৎ সর্বশেষ পর্বে বিবেচনাধীন তালিকা থেকে প্রায় ২৭ লক্ষ নাম বাদ পড়েছে। তবে এই পর্বে হিন্দুদের তুলনায় মুসলিম নামের সংখ্যা অনেকটাই বেশি। বিবেচনাধীন তালিকা থেকে মুসলিম নাম বাদ পড়েছে সাড়ে ১৭ লক্ষেরও বেশি। পক্ষান্তরে, হিন্দু নামের সংখ্যা প্রায় ৮ লক্ষ ৩৫ হাজার।

63% of deleted voters of West Bengal are Hindus: claims TMC

শতাংশের হিসাব কষলে দেখা যাচ্ছে, প্রথম পর্বে যে নাম বাদ পড়েছিল, তার মধ্যে প্রায় ৭৫ শতাংশ হিন্দু এবং মুসলিম প্রায় ২৩ শতাংশ। অন্য ধর্মাবলম্বীদের নাম বাদ পড়েছিল প্রায় ২ শতাংশ। দ্বিতীয় পর্বে যে নাম বাদ পড়েছিল তাতে হিন্দু নাম আরও অনেক বেশি। প্রায় ৯৭ শতাংশ। মুসলিম আড়াই শতাংশ । অন্যান্য ১ শতাংশেরও কম। তৃতীয় পর্বে, অর্থাৎ বিবেচনাধীন তালিকা থেকে বাদ পড়ার হিসাব বলছে, হিন্দু নাম বাদ পড়েছে ৩১ শতাংশ। মুসলিম নাম তার দ্বিগুণেরও বেশি। ৬৫ শতাংশ, অন্যান্য ৪ শতাংশের কিছু বেশি।

অর্থাৎ, সব মিলিয়ে শতাংশের হিসাবে হিন্দু নাম বাদ পড়েছে প্রায় ৬৩ শতাংশ। মুসলিম ৩৫ শতাংশ। আনুপাতিক হিসাবে হিন্দু-মুসলিম নাম বাদ পড়ার হার ২:১।

বৃহস্পতিবার তৃণমূলের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী বলেন, ‘‘অনুপ্রবেশকারী এবং রোহিঙ্গা খুঁজতে গিয়ে বিজেপি সকলকে লাইনে দাঁড় করিয়েছে। সেই হয়রানি থেকে বাদ যাননি গরিব হিন্দুরাও। পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে, ৫৭ লক্ষেরও বেশি হিন্দু নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ে গিয়েছে।’’

63% of deleted voters of West Bengal are Hindus: claims TMC

তৃণমূল হিসাব কষে যে পরিসংখ্যানের দাবি করছে, তার ‘সত্যতা’ নিয়ে প্রশ্ন তোলেননি বিজেপি মুখপাত্র রাজর্ষি লাহিড়ী। বরং তাঁর বক্তব্য, ‘‘নির্বাচন কমিশন তো এই তথ্য প্রকাশ্যে আনেনি। তৃণমূল তা হলে পেল কোথা থেকে? যে বিএলও-রা তৃণমূলের ঝান্ডা নিয়ে আন্দোলন করছিলেন, তাঁরাই কি তা হলে তৃণমূলের হাতে এই তথ্য তুলে দিয়েছেন?’’

প্রত্যাশিত ভাবেই সূত্রের ব্যাপারে স্পষ্ট করে কিছু বলেনি তৃণমূল। অরূপ শুধু বলেছেন, ‘‘একাধিক সংস্থা এসআইআর তালিকাকে ‘ডিজিটাইজ়’ করেছে। প্রথম দু’দফায় যে নাম বাদ গিয়েছিল, তার বুথভিত্তিক হিসাব আমাদের সাংগঠনিক স্তরেও রয়েছে। এই পরিসংখ্যান পাওয়ার জন্য মহাকাশ গবেষণার দরকার হয় না।’’

প্রসঙ্গত, অনেকেই এসআইআরে নাম বাদ পড়ার মোট সংখ্যাকে সার্বিক ভাবে ‘ধর্মীয়’ ভিত্তিতে না-দেখে ‘গুণগত’ দিক থেকে দেখতে চাইছেন। তাঁদের ব্যাখ্যা, প্রথম দফায় যে প্রায় ৫৮ লক্ষ নাম বাদ পড়েছিল, যার মধ্যে ৭৫ শতাংশই হিন্দু, তা স্থানান্তরিত এবং একজনের একাধিক জায়গায় থাকা নাম। আর তৃতীয় পর্বে যে নাম বাদ পড়েছে, যাতে সংখ্যালঘুরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ। যাঁরা ভোটদানে ‘সক্রিয়’। তবে তৃণমূল আনুষ্ঠানিক ভাবে না-বললেও একান্ত আলোচনায় বলছে, গণহারে হিন্দুদের নাম বাদ মতুয়া অধ্যুষিত এলাকায় প্রভাব তৈরি করবে। যে অংশে গত তিনটি বড় ভোটে বিজেপি নিরঙ্কুশ আধিপত্য তৈরি করেছিল।

Advertisement
আরও পড়ুন