অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। — ফাইল চিত্র।
ইস্তাহারে যে ১৫টি প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিজেপি, তার প্রত্যেকটি তুলে ধরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে পাল্টা বিঁধলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানালেন, গত ছ’মাস ধরে এসআইআরের নামে রাজ্যের মানুষকে কেন্দ্রীয় সরকার যে ভাবে হেনস্থা করেছে, তাতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ক্ষমা চাওয়া উচিত ছিল। কিন্তু, তিনি তা করেননি। এর পরে এসআইআর থেকে অনুপ্রবেশ, ভাতা থেকে কৃষকদের সহায়তা— একের পর এক বিষয় তুলে ধরে শাহকে কটাক্ষ করেন অভিষেক। তাঁর প্রশ্ন, দেশে বেশ কয়েকটি রাজ্যে ক্ষমতায় রয়েছে বিজেপি। সেখানে কেন নিঃশর্তে মহিলাদের ভাতা দিতে পারেন না। দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনের আগে সেখানকার মহিলাদের অ্যাকাউন্টে ৩০০০ টাকা করে পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দেন মোদী। কিন্তু এখনও পর্যন্ত তা দেননি বলে দাবি করেন অভিষেক।
শুক্রবার বিজেপির নির্বাচনী ইস্তাহার বা ‘সংকল্পপত্র’ প্রকাশ করেন শাহ। বিজেপির দাবি, পশ্চিমবঙ্গে তারা ক্ষমতায় এলে ১৫টি সঙ্কল্প পূরণ করবে। অভিষেক প্রত্যেকটি সঙ্কল্প নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর দাবি, বিজেপি বরাবরই ‘বাঙালি-বিরোধী’। যাঁরা বিগত দিনে বাঙালি বিরোধী কথা বলেছেন, তাঁদের পুরস্কৃত করা হয়েছে বিজেপি-তে।
মহিলাদের ভাতা
সংকল্পপত্রে বিজেপি জানিয়েছে, ক্ষমতায় এসে মহিলাদের প্রতি মাসে ৩০০০ টাকা করে দেবে। অভিষেক অতীতেও বার বার জানিয়েছেন, ক্ষমতায় এলে বিজেপি ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ বন্ধ করে দেবে। তা নিয়ে বিজেপি নেতার একটি বক্তব্যের ভিডিয়োও নিজের সভামঞ্চে দেখিয়েছেন অতীতে। এ বারও তিনি একটি ভিডিয়ো দেখান, যেখানে প্রধানমন্ত্রী মোদীকে ভাষণ দিতে শোনা যায়। সেখানে মোদী বলছেন, ৮ মার্চের মধ্যে মহিলাদের অ্যাকাউন্টে টাকা প্রবেশ করবে (ভিডিয়োটির সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম)। অভিষেক জানান, সেই ভিডিয়ো দিল্লি বিধানসভা ভোটের আগে মোদীর প্রচারের। এর পরেই তিনি বলেন, ‘‘মহিলাদের স্বাবলম্বী করতে মাসে ৩০০০ টাকা দেবে ওরা! নতুন জুমলা।’’ তিনি কটাক্ষ করে জানান, যে সব রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় রয়েছে, সেখানেই মহিলাদের ভাতা দিতে পারেনি। তিনি বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী ২০২৫ সালে দিল্লি ভোটের আগে এই কথা বলেছিলেন। বলেছিলেন, ২৫০০ টাকা করে যাবে মহিলাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে। আজও এক জন মহিলা টাকা পাননি। এ কথা কিন্তু আমি বলছি না।’’ সেই ভিডিয়োর কথা উল্লেখ করেন অভিষেক। তিনি বলেন, ‘‘মোদীর প্রতিশ্রুতি! যেখানে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, সেটা বাস্তবায়িত করুন। মহারাষ্ট্রে সমীক্ষা করার নামে ৯০ হাজার মহিলাকে সুবিধা থেকে বাদ দিয়েছেন। বাংলার সরকার পরিবারের সকল মহিলাকে টাকা দেন। কোনও প্রশ্ন, শর্ত ছাড়া টাকা দেয়। বিজেপি একটা রাজ্যে করে দেখাক। দিল্লিতে পরিশুদ্ধ বায়ুই দিতে পারে না। তারা দেবে ৩০০০ টাকা?’’ আরও সুর চড়িয়ে অভিষেক বলেন, ‘‘বিজেপির প্রতিশ্রুতি হচ্ছে চিটফান্ডের মতো। এদের প্রতিশ্রুতির দাম নেই।’’ অভিষেক এ-ও জানিয়েছেন, এই ভাতা দিয়ে মহিলাদের ‘কিনতে’ চাইছে বিজেপি। তাঁর কথায়, ‘‘এজেন্সি দিয়ে হয়নি, এখন অর্থের বিনিময়ে বাংলার মায়েদের সম্ভ্রম কিনতে এসেছেন? তাদের মর্যাদা, সম্মান কী মনে করেন, ৩০০০ টাকায় বিক্রি করবে?’’ তৃণমূল সাংসদ জানান, কেন্দ্র বরং সরাসরি বাংলার মহিলাদের সুবিধা দিন। তাতে কেউ বারণ করছে না। যেমন ইডি, সিবিআই অভিযানের ক্ষেত্রে রাজ্যকে না জানিয়েই করা হয়, তেমন এ ক্ষেত্রেও করা হোক।
অনুপ্রবেশ
বিজেপি বার বার দাবি করেছে, রাজ্যে বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রবেশ হচ্ছে। এই নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের দিকে আঙুল তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী থেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ। ইস্তাহারে বলা হয়েছে, রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় এলে অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই প্রসঙ্গে অভিষেকের প্রশ্ন, কেন্দ্রীয় সরকারের যদি এমনই নীতি হয়, তবে শেখ হাসিনা কী ভাবে দিল্লিতে দেড় বছর ধরে রয়েছেন? তাঁর কথায়, ‘‘শেখ হাসিনার স্টেটাস কী? অনুপ্রবেশকারী নাকি শরণার্থী? অমিত শাহ জবাব দিতে পারবেন?’’ অভিষেক এখানেই থামেননি। তিনি আরও বলেন, ‘‘দেড় বছর ধরে শেখ হাসিনাকে দিল্লিতে কেন আশ্রয় দিয়েছে নরেন্দ্র মোদীর সরকার? কোন শিল্পপতিকে বাঁচানোর জন্য?’’ অভিষেক এর পরে প্রশ্ন তুলেছেন, কাশ্মীরের নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে শাহের মন্ত্রক, তবে সেখানে কী ভাবে জঙ্গিরা প্রবেশ করে ২৬ জনকে খুন করল। তাঁর কথায়, ‘‘কাশ্মীরে নিরাপত্তার দায়িত্বে কে ছিল? সেখানে অনুপ্রবেশ আটকাতে ব্যর্থ হল কেন? দিল্লি পুলিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনে। সেখানে ১০ জন বিস্ফোরণে মারা যাচ্ছেন। কাশ্মীরে ঢুকে ২৬ জনকে মেরে দিচ্ছে।’’
‘শ্বেতপত্র’
শাহ জানিয়েছেন, রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় এলে তৃণমূল সরকারের দুর্নীতির খতিয়ান তুলে ধরা হবে। সেই নিয়ে ‘শ্বেতপত্র’ প্রকাশ করা হবে। অভিষেক সাংবাদিক বৈঠক করে পাল্টা দাবি করেন, এখনও পর্যন্ত তিনি বার বার কেন্দ্রীয় সরকারকে চ্যালেঞ্জ জানালেও নিজেরা কোনও ‘শ্বেতপত্র’ প্রকাশ করেননি। এই প্রসঙ্গে লোকসভা নির্বাচনের আগে তাঁর করা একটি টুইটের উল্লেখ করেন অভিষেক। তিনি বলেন, ‘‘৭৫৭ দিন আগে টুইট করেছিলাম। ১৪ মার্চ ২০২৪ সালে করেছি। লিখেছিলাম, গত ৫ বছরে কত টাকা দিয়েছেন আবাস যোজনায়? শ্বেতপত্র প্রকাশ করুন। আজও প্রকাশ করেনি। তারা আবার প্রশ্ন তোলে।’’ এর পরে তৃণমূলত্যাগী শুভেন্দু অধিকারীর দিকেও আঙুল তোলেন তিনি। কটাক্ষ করেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মাকেও। তাঁর কথায়, ‘‘সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত, যাঁদের বিরুদ্ধে ভূরি ভূরি অভিযোগ, যাঁদের ইডি, সিবিআই জেরা করেছে, পরের দিন বিজেপিতে গিয়েছে, তখন সব ধোওয়া তুলসীপাতা। হিমন্ত শর্মা, শুভেন্দু অধিকারী, অজিত পওয়ার। অজিত আজ বেঁচে নেই। তবে তিনিও গিয়েছিলেন বিজেপি-তে।’’
‘কাটমানি সংস্কৃতি’
ইস্তাহারে বিজেপি জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় এলে ‘কাটমানি’ সংস্কৃতি নির্মূল করবে তারা। এই নিয়েও বিজেপি-কে একহাত নিয়েছেন অভিষেক। তিনি সুর চড়িয়ে শাহের উদ্দেশে বলেন, ‘‘সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত আপনার পাশে বসে রয়েছেন। কারও বিরুদ্ধে ৫-৬টি করে মামলা। যাঁদের বিরুদ্ধে জনসমক্ষে প্রমাণ রয়েছে, তাঁদের নিয়ে লড়াই করবেন?’’ তিনি এখানেই থামেননি। আরও বলেন, ‘‘শুভেন্দু, প্রেমা খাণ্ডু, হিমন্ত, নারায়ণ রানেকে নিয়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই? লোক হাসানো!’’ এর পরে একটি ছবি দেখিয়ে তিনি বলেন, ‘‘সবচেয়ে বড় কয়লামাফিয়া শাহকে ফুল দিচ্ছেন। জয়দেব খাঁ। ক’বার তাঁকে ইডি, সিবিআই ডেকেছে? শাহকে বিমান থেকে নামার পরে স্বাগত জানাচ্ছেন কে? জয়দেব খাঁ। বাংলার মানুষকে যাঁরা বোকা বানাতে এসেছেন, তাঁরা তৈরি থাকুন!’’
সপ্তম বেতন কমিশন
বিজেপির প্রতিশ্রুতি রাজ্যে ক্ষমতায় এলে সপ্তম বেতন কমিশন কার্যকর করা হবে। তা নিয়ে অভিষেকের কটাক্ষ, মমতার সরকার যে অন্তর্বর্তী বাজেট পেশ করেছে এ বছর, তা পড়েই দেখেনি বিজেপি। তাঁর কথায়, ‘‘বাংলার বাজেট পড়েননি? ১৯৬৯ সালে পে কমিশন বাস্তবায়িত হয়। তখন নাম ছিল পে কমিটি। বাংলায় সপ্তম পে কমিশনের কথা বাজেটে ঘোষণা করে দিয়েছে আমাদের সরকার।’’
কর্মসংস্থান এবং ভাতা
বিজেপির প্রতিশ্রুতি, রাজ্যে আগামী পাঁচ বছরে এক কোটি মানুষকে চাকরি দেওয়া হবে। কর্মসংস্থান না-হওয়া পর্যন্ত প্রতি মাসে তাঁদের ৩০০০ টাকা করে দেওয়া হবে। এই নিয়ে কটাক্ষ করে অভিষেক বলেন, ‘‘মোদী ক্ষমতায় আসার আগে বলেছিলেন, বছরে ২ কোটি বেকারের চাকরি হবে। ১২ বছর তিনি কেন্দ্রে ক্ষমতায় রয়েছেন। দেশে ২৪ কোটি জনের চাকরি হওয়ার কথা। গড়ে প্রতি বিধানসভায় ৫৮ হাজার জনের নতুন চাকরি হওয়া উচিত।’’ তার পরেই অভিষেক বলেন, ‘‘বাংলা জুড়ে শাহ ৫০০০ জনকে দেখান, যাঁদের মোদী সরকার চাকরি দিয়েছে গত ১২ বছরে।’’ তৃণমূল সাংসদ জানান, অন্য যে সব রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় রয়েছে, সেখানে অন্তত করে দেখান। তাঁর কথায়, ‘‘একই জিনিস দিল্লিতেও বলে। অসমে ওরা সরকারে রয়েছে। ত্রিপুরা, বিহারে রয়েছে। সেখানে সুবিধা দিন। একাধিক রাজ্যে এনডিএ সরকার। করে দেখান!’’
‘দুর্গা সুরক্ষা স্কোয়াড’
বিজেপি প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, ক্ষমতায় এলে মহিলা পুলিশ ব্যাটালিয়ান গড়া হবে। নাম ‘দুর্গা সুরক্ষা স্কোয়াড’। অভিষেক বলেন, ‘‘মহিলাদের সুরক্ষার জন্য থাকবে দুর্গা সুরক্ষা স্কোয়াড! যাঁদের দলের নেতা, সাংসদেরা মা দুর্গার বংশপরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, দুর্গাপুজো কমিটিগুলিকে ইডি, সিবিআই তল্লাশি করায়, তাঁরা করবে এ সব?’’ অভিষেক আরও বলেন, ‘‘১২ বছর আগে মোদী কোচবিহারে এসে বলেছিলেন নারায়ণী স্কোয়াড হবে। হয়েছে?’’
ফসলের ন্যায্য মূল্য
বিজেপি জানিয়েছে, ধান, আলু, আম চাষে ফসলের ন্যায্য মূল্যের ব্যবস্থা করা হবে। অভিষেকের দাবি, বিজেপির সরকার ‘কৃষক-বিরোধী’। সে কারণে দেশে এত কৃষক আত্মহত্যা করেছেন। তাঁর কথায়, ‘‘২০২৩ সালে কৃষক বিরোধী নীতির কারণে ১০ হাজার কৃষক মারা গিয়েছেন গোটা দেশে। ৭০০ জন আত্মহত্যা করেছেন।’’ তার পরেই তিনি শাহের উদ্দেশে বলেন, ‘‘আলুচাষীদের বন্ধু বলেন! ভারতীয় রেলের উদ্যোগে বলেছিলেন মালগাড়ি চালানো হবে যাতে কৃষকেরা আলু পাঠাতে পারেন। বাংলায় হেরে গিয়েছেন, তার পরে ২০২১ সালের ৯ জুলাই থেকে মালগাড়ি বন্ধ।’’ তিনি জানান, সারের দাম বেড়েছে। বস্তার দাম বেড়েছে। এগুলি নিয়ন্ত্রণ করে কেন্দ্র। তাঁর প্রশ্ন, ‘‘সাহায্য করতে চাইলে এত দাম কেন? কেন এত আত্মহত্যা করেন কৃষকেরা? এমএসপি সুনিশ্চিত করেননি কেন?’’
মৎস্য রফতানিকারক কেন্দ্র
বিজেপির এই প্রতিশ্রুতি নিয়েও কটাক্ষ করেছেন অভিষেক। তিনি বলেন, ‘‘মৎস্যজীবীদের সাহায্যের কথা বলেছেন! মাছ খাওয়া নিয়ে ব্যঙ্গ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, মাছ খেলে মুঘল! খাদ্যাভাস নিয়ে বিদ্রুপ করেন! তাঁরা মৎস্যজীবীদের সাহায্য করবেন? রাজ্য সরকার সমুদ্রসাথী করে সাহায্য করেছে। এরা বাংলার রাজনীতি দেখে না। দেখে শুধু ইডি, সিবিআই, ইসিআই।’’
অভিন্ন দেওয়ানি বিধি
এর আগে বিজেপির প্রতিষ্ঠা দিবসে প্রধানমন্ত্রী কর্মীদের বার্তা দিয়েছিলেন যে, অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিজেপির নজরে রয়েছে। ইস্তাহার প্রকাশ করেও সেই প্রতিশ্রুতিই দিয়েছেন শাহ। সেই নিয়ে অভিষেক বলেন, ‘‘অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে তফসিলি জনজাতি (এসটি)। জোর করে চাপিয়ে দিয়ে পরিবর্তন আনতে চায়। বিজেপি ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে চায় না। যদি চাইত, ২ লক্ষ কোটি টাকা পাওনা থাকত না।’’
দার্জিলিং চা
বিজেপির প্রতিশ্রুতি, দার্জিলিঙের চায়ের বিশ্বজনীন ব্র্যান্ডিং হবে। অভিষেক বলেন, ‘‘ওরা চা-বাগান নিয়ে বলছে! অসমে এক দশক ধরে ক্ষমতায়। ক’টা চা-বাগান খুলেছে সেখানে। ২০২১ সালের ভোটের আগে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন বলেছিলেন, ১০০০ কোটি টাকার প্যাকেজ দেওয়া বাংলার চা-বাগানের জন্য। এক পয়সা দিয়েছেন?’’ তার পরেই তিনি বলেন, ‘‘২০১১ সালে চা-শ্রমিকের দৈনিক মজুরি ছিল ৬৭ টাকা। আজ বেড়ে ২৫০ টাকা হয়েছে। চা সুন্দরী প্রকল্পে শ্রমিকদের শিশুদের ক্রেসে রাখা, ঘর তৈরির ব্যবস্থা করেছে। কেন্দ্র চা শ্রমিকদের পিএফের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।’’ তিনি এ-ও জানান, দার্জিলিং চা ইতিমধ্যেই বিশ্বজনীন। শাহ কোন চা পান করেন জিজ্ঞেস করলে এর নামই নেবেন।
কুড়মালি ও রাজবংশী ভাষা
বিজেপির এই সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি নিয়ে অভিষেক বলেন, ‘‘ওরা বলেছে, ভারতীয় সংবিধানের অষ্টম তফসিলে কুড়মালি, রাজবংশী ভাষাকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। কত জাল! এখানে রাজ্য সরকারের ভূমিকা নেই। ১৯ ফেব্রুয়ারি রাজ্যের তরফে তৎকালীন মুখ্যসচিব কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিবকে চিঠি দিয়েছিলেন। তিনি কুড়মালি এবং রাজবংশী ভাষাকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দিয়ে চিঠি দেন। বিজেপি এখনও করেনি। এখন এ সব বলছে। দ্বিচারিতা!’’
আয়ুষ্মান ভারত
মমতার সুরেই অভিষেক জানান, এ রাজ্যে ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্প কার্যকর করতে দেওয়া হয়নি সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে। তাঁর কথায়, ‘‘আমরা আয়ুষ্মান ভারত করতে দিইনি। করলে ১০ কোটি মানুষের বদলে ৮০ থেকে ৯০ লক্ষ মানুষ পাবেন। পাকা বাড়ি, দু’টাকা থাকলে এই সুবিধা পায় না। স্বাস্থ্যসাথীর কোনও শর্ত নেই। সকলে পান। বাড়িতে পাকা দেওয়াল থাকলে পরিষেবা পাবেন না।’’ কেন্দ্রের ওই প্রকল্পের দুর্নীতির কথাও তুলে ধরেন অভিষেক।
‘বন্দে মাতরম সংগ্রহশালা’ ও ধর্মাচরণ
বিজেপির এই প্রতিশ্রুতি নিয়ে অভিষেক বলেন, ‘‘বিশেষ বন্দে মাতরম সংগ্রহশালা হবে! এখানে মানুষ নিজের ধর্মাচরণ করতে পারেন না? না পারলে অমিত শাহ দুর্গাপুজো উদ্বোধন করতে আসেন কী ভাবে? উত্তর ভারতের সংস্কৃতি চাপাতে চাইছেন। বিজেপি ক্ষমতায় এলে দুর্গাপুজো বন্ধ করে ন’দিন ধরে রামনবমী পালন করবে। অস্ত্রের ঝনঝনানি। তিনি স্বীকার করেছেন, দিল্লি থেকে পরিচালিত হবে বাংলা। ১২ বছর আপনি ক্ষমতায়। নিজের শ্বেতপত্র তুলে ধরুন।’’