West Bengal Elections 2026

‘বিহার, উত্তরপ্রদেশ থেকে লোক ঢোকাচ্ছে, বস্তাভর্তি ফর্ম-৬ ঢুকছে কমিশনে’! সিইও দফতরে গিয়ে অভিযোগ অভিষেকের

সিইও দফতর থেকে বেরিয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করার চ্যালেঞ্জ করলেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ৩০ মার্চ ২০২৬ ২০:২১
সাংবাদিক বৈঠকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

সাংবাদিক বৈঠকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: সংগৃহীত।

মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) দফতরে ঢোকার আগে বলেছিলেন ‘চুরি ধরা পড়া গিয়েছে।’ বেরিয়ে নির্বাচন কমিশনকে তোপ দাগলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। চাঞ্চল্যকর অভিযোগ করে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বললেন তাঁর অফিসের সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করতে। তৃণমূল নেতার অভিযোগ, ফর্ম-৬ ভর্তি বস্তা নিয়ে সোমবার কমিশনে ঢুকেছিলেন বিজেপির লোকজন। উদ্দেশ্য, বিহার, উত্তরপ্রদেশের ভোটারদের পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকায় ঢোকানো।

Advertisement

সোমবার বিকেলে অভিষেকের আগেই স্ট্র্যান্ড রোডের শিপিং কর্পোরেশন ভবন চত্বরে পৌঁছে গিয়েছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, শশী পাঁজা থেকে বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদ শান্তনু সেন। অভিষেক সিইও দফতরে ঢোকার সময়ে জানিয়ে যান, বড় চুরি ধরা পড়েছে। বেশ কিছু ক্ষণ পর বেরিয়ে আসেন তিনি। তার পর সিইও দফতরের বাইরের সাংবাদিক বৈঠক করে কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগের পর অভিযোগ করেন। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের অভিযোগ, নিজেদের ভোট সুরক্ষিত করতে বাইরের ভোটারদের পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকায় ঠাঁই দেওয়ার চেষ্টা করছে বিজেপি। সে জন্যই সোমবার বস্তাভর্তি ফর্ম-৬ নিয়ে সিইও দফতরে জমা দিয়ে গিয়েছেন কয়েক জন। বিজেপি নেতা অমিত মালব্যের নির্দেশে ওই নামগুলো বেআইনি ভাবে রাজ্যের ভোটার তালিকায় ঢোকানো হচ্ছে। অভিষেকের কথায়, ‘‘৩০ হাজার ফর্ম-৬ জমা পড়েছে। কমিশনের নিয়ম মেনে ৩০ হাজার ফর্ম-৬ জমা পড়লে কমপক্ষে ৬০০ জনকে সশরীরে উপস্থিত হতে হয়। আমরা ২৪ ঘণ্টার সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ্যে আনতে বলেছি কমিশনকে। তাহলেই তো সব স্পষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু কমিশন সদুত্তর দিতে পারেনি।’’

ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার জন্য ব্যবহৃত হয় ফর্ম-৬। এই ফর্মটি প্রধানত দুই শ্রেণির আবেদনকারী ব্যবহার করেন। এক, যাঁরা প্রথম বারের মতো ভোটার হওয়ার জন্য আবেদন করছেন। দুই, যাঁরা এক সংসদীয় বা বিধানসভা কেন্দ্র থেকে অন্যটিতে বাসস্থান পরিবর্তন করছেন। বয়স এবং বাসস্থানের প্রমাণস্বরূপ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র-সহ এই ফর্মটি পূরণ করে জমা দেওয়া ভোটার হিসেবে নিবন্ধন করার জন্য একটি বাধ্যতামূলক পদক্ষেপ। অভিষেকের দাবি, সেই ফর্ম নিয়ে সরাসরি সিইও দফতরে গিয়েছিলেন বিজেপির কিছু লোক। সাংসদ অভিষেক কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে কটাক্ষ করে বলেন, ‘‘উনি পশ্চিমবঙ্গের ডেমোগ্রাফি (জনবিন্যাস) বদলে যাচ্ছে। বদলাচ্ছে এই ভাবে।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘বস্তা করে ফর্ম-৬ নিয়ে কমিশনে জমা দিয়েছে। ফর্ম-৮ ফর্ম পূরণ না করে সরাসরি কমিশনের দফতরে দিয়ে যাওয়া হয়েছে। এখানে ফর্ম-৬ পূরণ করে উত্তরপ্রদেশ, বিহার থেকে ভোটার যোগ করা হচ্ছে। কিছু ভোটার বাদ দিয়ে, কিছু যোগ করে ভোট করাই বিজেপির পন্থা। এ ভাবেই মহারাষ্ট্র, দিল্লিতে জিতেছে এরা। এ বার বাংলাতেও সেই চেষ্টা হচ্ছে।’’ অভিষেকের আরও অভিযোগ, ‘‘ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার দু’সপ্তাহের মধ্যে ৩৯৫ জন সরকারি আধিকারিককে বদল করেও যখন সুবিধা করা যাচ্ছে না, তখন এই পন্থা নেওয়া হয়েছে। প্রতিনিয়ত বাংলাকে হেনস্থা করা হচ্ছে। বাংলাকে যদি বাংলাদেশ হিসাবে কেউ দেখে থাকে, সেটা কেন্দ্রের বিজেপি সরকার।’’

অভিষেক জানিয়েছেন, ফর্ম-৬-কাণ্ড তাঁরা সুপ্রিম কোর্টেও তুলবেন। মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজকে কটাক্ষ করে অভিষেক বলেন, ‘‘উনি বলছেন, নিজের অফিসে কোথায় সিসিটিভি আছে, জানেন না। অথচ বাংলার ৮০ হাজার বুথে সিসিটিভি লাগাতে চান উনি!’’ যদিও অভিষেকের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে কমিশন। তাদের দাবি, সম্প্রতি অফিস বদলানোর ফলে পুরনো অফিস থেকে জিনিসপত্র আনা হচ্ছিল। অভিষেক যে অভিযোগ করছেন, তা ঠিক নয়। ওই সমস্ত ফাইল আগেই ছিল তাদের কাছে।

বিবেচনাধীন ভোটার নিয়েও তোপ দাগেন অভিষেক। উল্লেখ্য, এসআইআরের আগে রাজ্যে ভোটার সংখ্যা ছিল ৭ কোটি ৬৬ লক্ষ। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের খসড়া তালিকায় বাদ পড়ে ৫৮ লক্ষ নাম। তার পর গত ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত চূড়ান্ত তালিকায় ৭ কোটি ৮ লক্ষ ভোটারের নাম অন্তর্ভুক্ত হলেও প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের নাম বিবেচনাধীন তালিকায় ছিল। তাঁদের তথ্য নিষ্পত্তির জন্য সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে কাজ করছেন বিচারকেরা। সোমবার পর্যন্ত কমিশন চারটি সাপ্লিমেন্টারি বা অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ করেছে। কিন্তু ঠিক কত জনের আবেদনের নিষ্পত্তি হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। এই প্রেক্ষিতে সোমবার সিইও দফতরে যান অভিষেক।

Advertisement
আরও পড়ুন