Darjeeling

সীমান্তে কড়া প্রহরা, ভোটের দার্জিলিঙে নামল ৫০ কোম্পানি আধাসেনা, ‘দুর্গম কেন্দ্রে’ দু’দিন আগে যাবেন ভোটকর্মীরা

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দার্জিলিং জেলা সংলগ্ন ইন্দো-নেপাল, ইন্দো-বাংলাদেশের মতো আন্তর্জাতিক সীমান্ত, পশ্চিমবঙ্গ-বিহার, পশ্চিমবঙ্গ-সিকিম সীমান্তে ইতিমধ্যে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ১৮ মার্চ ২০২৬ ১৬:৪০
পাহাড়ে আধাসেনার টহল।

পাহাড়ে আধাসেনার টহল। —ফাইল ছবি।

বিধানসভা ভোটকে সামনে রেখে দার্জিলিঙের সীমান্ত জুড়ে নিরাপত্তার কড়াকড়ি হচ্ছে। ভোটের জন্য চূড়ান্ত পর্যায়ের প্রস্তুতি নিয়েছে নির্বাচন কমিশন এবং জেলা প্রশাসন। জেলার ‘স্পর্শকাতর’, ‘শ্যাডো জ়োন’, ‘ক্রিটিক‍্যাল বুথ’ নিয়ে বিশেষ প্রস্তুতি শুরু নিয়েছে প্রশাসন।

Advertisement

গত বিধানসভা ভোটের মতো এ বারেও জেলায় মহিলা পরিচালিত ভোটগ্রহণ কেন্দ্র বা ‘পিঙ্ক বুথ’ থাকছে। যে বিষয়টিতে কমিশন সবচেয়ে বেশি নজর দিচ্ছে, সেটা হল আইনশৃঙ্খলা এবং সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন পরিচালনা করা। সে জন্য সেনা, আধাসেনা, আয়কর বিভাগ, বন দফতর, দমকল-সহ বিভিন্ন দফতরের সঙ্গে বৈঠক সেরেছেন জেলা নির্বাচনী আধিকারিকেরা। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দার্জিলিং জেলা সংলগ্ন ইন্দো-নেপাল, ইন্দো-বাংলাদেশের মতো আন্তর্জাতিক সীমান্ত, পশ্চিমবঙ্গ-বিহার, পশ্চিমবঙ্গ-সিকিম সীমান্তে ইতিমধ্যে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বুধবার বিকেলেই জেলায় পৌঁছে যাচ্ছেন পুলিশ অবজ়ার্ভার এবং ‘এক্সপেন্ডিচার অবজ়ার্ভার’। বৃহস্পতিবার জেলা পুলিশ ও প্রশাসনের সঙ্গে তাঁদের বৈঠক রয়েছে বলে খবর।

এ বার দার্জিলিং জেলায় মোট ভোটারের সংখ্যা ১১ লক্ষ ৪৮ হাজার ২০৯ জন। তার জন্য ১৪৬৫টি বুথ এবং ৫২টি সহায়ক ভোটগ্রহণ কেন্দ্র রাখা হয়েছে। কালিম্পং জেলায় ভোটার সংখ্যা ২ লক্ষ ১ হাজার ৯৩১ জন। ওই জেলায় মোট ভোটগ্রহণ কেন্দ্র ২৯৩টি। দার্জিলিং জেলায় ভোট পরিচালনার জন্য ৫০ কোম্পানি আধাসেনা নামানো হবে। ইতিমধ্যে তা পৌঁছেও গিয়েছে। আরও সাত থেকে আট কোম্পানি আধাসেনা আসার কথা। কালিম্পঙেও সাত কোম্পানি আধাসেনা পৌঁছে গিয়েছে। আরও তিন কোম্পানি সেনা সেখানে দেওয়া হবে।

ভৌগলিক দিক থেকেও পাহাড়ে ভোট পরিচালনা কমিশনের কাছে চ্যালেঞ্জের মতো। কালিম্পঙে এ বার দুর্গম কোনও স্থানে বুথ নেই। তবে দার্জিলিঙে এমন একটি বুথ রয়েছে। সেটি শ্রীখোলায়। শুধু ওই বুথের জন্য ভোটগ্রহণের দু’দিন আগে রওনা দেবেন ভোটকর্মীরা। পাহাড়ে ভোট পরিস্থিতির উপর নজরদারির জন্য পাঁচ জন পুলিশ অবজ়ার্ভার এবং চার জন ‘এক্সপেন্ডিচার অবজ়ার্ভার’ নিয়োগ করা হয়েছে। দার্জিলিঙে ১৯৩টি ‘ক্রিটিক‍্যাল বুথ’ রয়েছে। সেগুলিতে গত বিধানসভা নির্বাচনে মোট ভোটারের ১৫ শতাংশ কম ভোট পড়েছিল। ওই সব ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে ভোটারদের আকর্ষিত করতে প্রচারে জোর দিয়েছে কমিশন। এ ছাড়াও পাহাড়ে অনেক জায়গায় মোবাইল নেটওয়ার্কের সমস্যা রয়েছে। ফলে সেই সব কেন্দ্রে ইন্টারনেটের সংযোগ না থাকায় ওয়েবকাস্টিংয়ের সমস্যা দেখা দিতে। ওই বুথগুলোর জন্য ভিডিয়ো রেকর্ডিং, স্যাটেলাইট ফোন এবং আরটি সেট ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনের আগে যাতে মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেটের সমস্যা মেটানো যায়, সে জন্য নেটওয়ার্ক অপারেটরের সঙ্গে আলোচনা করছে জেলা নির্বাচনী আধিকারিক। গত বিধানসভা নির্বাচনে দার্জিলিং জেলায় মহিলা পরিচালিত বুথ বা ‘পিঙ্ক বুথ’-এর সংখ্যা ছিল ৩৬টি এবং কালিম্পঙে চারটি। এ বার সেটা অপরিবর্তিত রাখা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। জেলায় মোট ৩৪টি জায়গায় নাকাতল্লাশি চালানো হচ্ছে। এ ছাড়াও কুইক রেসপন্স টিম, মোবাইল টহলদারি রাখা হয়েছে।

জেলার বিভিন্ন জায়গায় সরকারি প্রকল্পের ব্যানার, পোস্টার সরানোর কাজ বুধবারের মধ্যে শেষ করা হবে। বুধবার দার্জিলিঙের জেলাশাসক সুনীল আগরওয়াল বলেন, ‘‘কেউ ৫০ হাজার টাকার বেশি নগদ কোথাও নিয়ে যেতে পারবেন না। ৫০ কোম্পানি সেনা জেলায় এসেছে। আরও কিছু আধাসেনা আসার কথা রয়েছে। মোবাইলের নেটওয়ার্ক না থাকায় বেশ কয়েক জায়গায় ‘শ্যাডো জ়োন’ রয়েছে। সেগুলোর জন্য অপারেটরদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।’’

কালিম্পংঙের জেলাশাসক কুহুক ভূষণও বলেন, ‘‘জেলায় নির্বাচন সংক্রান্ত কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে। প্রত্যেক ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে চার জন করে ভোটকর্মী থাকবেন। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে প্রত্যেক কেন্দ্রে ওয়েবকাস্টিং ও সেনা মোতায়েন থাকবে।’’

Advertisement
আরও পড়ুন