West Bengal Elections 2026

দিনভর বুথে-বুথে ঘুরে টক্কর নির্যাতিতার মায়ের

একাধিক ভোট কেন্দ্রের ১০০ মিটারের মধ্যে জটলা দেখে গাড়ি থেকে প্রতিবাদ করলেন। পাল্টা বিক্ষোভ দেখে বললেন, ‘‘এদের গ্রেফতার না করিয়ে এখান থেকে যাব না।’’

শান্তনু ঘোষ
শেষ আপডেট: ৩০ এপ্রিল ২০২৬ ০৭:২৬
পানিহাটির বিজেপি প্রার্থীর শাড়ির পাড়ে লেখা 'মেরুদণ্ড বিক্রি নেই'। হাতে পুরীর মন্দিরের ধ্বজার টুকরো।

পানিহাটির বিজেপি প্রার্থীর শাড়ির পাড়ে লেখা 'মেরুদণ্ড বিক্রি নেই'। হাতে পুরীর মন্দিরের ধ্বজার টুকরো। ছবি: দেবস্মিতা ভট্টাচার্য।

সাদা সুতির শাড়ির কালো পাড়ে লেখা, ‘মেরুদণ্ড বিক্রি নেই’। বাঁ হাতে জড়ানো পুরীর মন্দিরের ধ্বজা। টানা প্রচারের পরে চোখেমুখে ক্লান্তির ছাপ। তা সত্ত্বেও বুধবার ভোট-যুদ্ধের ময়দানে নেমে নিজেকে আদ্যোপান্ত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব প্রমাণের মরিয়া চেষ্টা চালালেন পানিহাটির বিজেপি প্রার্থী তথা আর জি করের নির্যাতিতার মা। একাধিক ভোট কেন্দ্রের ১০০ মিটারের মধ্যে জটলা দেখে গাড়ি থেকে প্রতিবাদ করলেন। পাল্টা বিক্ষোভ দেখে বললেন, ‘‘এদের গ্রেফতার না করিয়ে এখান থেকে যাব না।’’

ডাক্তারি পড়ুয়া মেয়ে রাজনীতি পছন্দ করতেন না। ডিউটি না থাকলে বাবা-মায়ের সঙ্গে ভোট দিতে যেতেন। এ দিন সকালে মেয়ের ছবি ও প্রিয় জিনিসে সাজানো ঘরে ঢোকেন মা। তারপর বাড়ি থেকে বেরিয়ে স্বামীর সঙ্গে নাটাগড় সঙ্ঘে গিয়ে ভোট দেন। ভোটদান শেষে স্বামী এবং মুখ্য নির্বাচনী এজেন্ট জয় সাহাকে গাড়িতে নিয়ে ছুটে বেড়ান বিভিন্ন বুথে। কেন বুথের বাইরে তৃণমূলের লোকজন নিয়ে ভিড় করে আছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। কয়েকটি বুথে বিজেপির এজেন্ট বসতে না দেওয়া নিয়েও অভিযোগ জানান।

এ দিন ঊষুমপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে রাস্তায় স্থানীয় পুরপ্রতিনিধি-সহ কয়েক জনকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে প্রতিবাদ করেন নির্যাতিতার মা। শাসকদলের লোকজনের প্রশ্ন, নির্যাতিতার মা কেন ‘বহিরাগতদের’ নিয়ে ঘুরছেন। ধাক্কাধাক্কি শুরু হলে দু’দলের মাঝখানে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের শুধু প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেন নির্যাতিতার বাবা। তবে শাসকদলের কর্মীদের একসময় হাত জোড় করে বিজেপির নির্বাচনী এজেন্টকে বলতে শোনা যায়, ‘প্লিজ চলে যান। আবার তো আগামিকাল দেখা হবে, নিজেদের মধ্যে ঝগড়া করে কী হবে?’’ কিন্তু নির্যাতিতার মাকে বলতে শোনা গেল, ‘‘না, আগে ওদের গ্রেফতার করতে হবে।’’

ঘোলা আদর্শ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে পুরপ্রতিনিধি অরিন্দম বিশ্বাসকে দেখতে পেয়ে নির্যাতিতার মা গাড়ি থেকে নামতেই বিক্ষোভ শুরু করেন তৃণমূল কর্মী-সমর্থকেরা। কেন্দ্রীয় বাহিনী অবশ্য লাঠি উঁচিয়ে অরিন্দমকে তাড়া করে, ভিড় হটিয়ে দেয়। আবার আগরপাড়া পাঠাগারে ইভিএমে বিজেপির বোতামে কালি দেওয়া রয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন নির্যাতিতার মা। বিভিন্ন ভোট কেন্দ্রে ঘোরার ফাঁকে বললেন, ‘‘মানুষ আমার সঙ্গে আছেন।’’

তৃণমূল প্রার্থী তীর্থঙ্কর ঘোষ বলেন, ‘‘যে দুটি জায়গায় বিজেপি প্রার্থীকে দেখে বিক্ষোভ হয়েছে সেখানে বুথের সংখ্যা বেশি। তাই ৮-১০ জন ভোটার একসঙ্গে ভোট দিয়ে বেরোচ্ছিলেন। বহিরাগতদের নিয়ে ঝামেলা করায় সাধারণ মানুষই প্রতিবাদ করেছেন।’’ আবার বিজেপি প্রার্থী লাইনে দাঁড়ানো ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ সিপিএমের। অবশ্য এ দিন তেমন অভিযোগ ছাড়াই বুথে ঘুরেছেন সিপিএম প্রার্থী কলতান দাশগুপ্ত।

অন্য দিকে, বরাহনগর, কামারহাটি, খড়দহ সর্বত্রই সব দলের প্রার্থীরা ঘুরলেন প্রায় সারা দিনই। কেউই তেমন বড় কোনও অভিযোগ তোলেননি।

আরও পড়ুন