West Bengal Assembly Election 2026

কাশ্মীর থেকে ভবানীপুরে এল বুলেটনিরোধক গাড়ি! বড়সড় অশান্তি ঠেকাতে ব্যবহার করে কেন্দ্রীয় বাহিনী, টহলদারি শুরু

খাকি রঙের চারচাকা গাড়িগুলি আদ্যোপান্ত বুলেটনিরোধক। মূলত সীমান্তবর্তী এলাকায় আধা সামরিক বাহিনী বা সিআরপিএফ এই ধরনের গাড়ি ব্যবহার করে থাকে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ১৫ এপ্রিল ২০২৬ ১৮:১৬
জম্মু ও কাশ্মীর থেকে বিশেষ বুলেটনিরোধক গাড়ি টহল দিচ্ছে ভবানীপুরে। বুধবার বিকেলে।

জম্মু ও কাশ্মীর থেকে বিশেষ বুলেটনিরোধক গাড়ি টহল দিচ্ছে ভবানীপুরে। বুধবার বিকেলে। —নিজস্ব চিত্র।

পশ্চিমবঙ্গের ভোটে অশান্তি ঠেকাতে এ বার জম্মু ও কাশ্মীর থেকে বুলেটনিরোধক গাড়ি আনল নির্বাচন কমিশন। বুধবার ভবানীপুরের রুট মার্চেও এই গাড়ি দেখা গিয়েছে। কমিশন সূত্রে খবর, ভোটের সময় কোথাও গুলি চললে বা পাথর ছো়ড়া হলে এই গাড়ি ব্যবহার করা হবে। গুরুত্বপূর্ণ কোনও ব্যক্তি (ভিআইপি) অশান্তির মধ্যে বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে আটকে পড়লেও এই গাড়ি তাঁকে উদ্ধার করতে কাজে লাগানো হবে। ভবানীপুরে এই গাড়ির টহলদারি দেখতে রাস্তার পাশে রীতিমতো ভিড় জমে যায়। কৌতূহলীরা অনেকে ছবিও তুলেছেন। বাহিনীর বিশেষ এই গাড়ির টহলদারি ভবানীপুর থানা থেকে শুরু হয়েছিল। তা পদ্মপুকুর, চক্রবেড়িয়া, শরৎবোস রোড হয়ে হাজ়রায় গিয়ে শেষ হয়।

Advertisement
ভবানীপুর থানার সামনে সিআরপিএফ-এর গাড়ি।

ভবানীপুর থানার সামনে সিআরপিএফ-এর গাড়ি। —নিজস্ব চিত্র।

খাকি রঙের চারচাকা গাড়িটি আদ্যোপান্ত বুলেটনিরোধক। অর্থাৎ, তাতে গুলি লাগলেও কোনও ক্ষতি হবে না। মূলত সীমান্তবর্তী এলাকায় আধা সামরিক বাহিনী বা সিআরপিএফ এই ধরনের গাড়ি ব্যবহার করে থাকে। গাড়িটির ভিতরে আট জন কমান্ডো থাকতে পারেন। প্রত্যেকের কাছেই থাকে একে৪৭ রাইফেল। এ ছাড়া, ধোঁয়ার জন্য এই গাড়িতে পৃথক ব্যবস্থা রয়েছে। এই গাড়িগুলির নম্বরপ্লেটও জম্মু ও কাশ্মীরেরই। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, ভোটের সময় এই গাড়ি ব্যবহার করা হবে। কোথাও বোমা বিস্ফোরণ হলে বা গুলি চললে এই গাড়িতে কমান্ডোরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে যাবেন। কেউ বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে আটকে পড়লে তাঁদের উদ্ধার করতেও এই ধরনের গাড়ি পাঠানো হবে। কোনও এলাকায় জমায়েত বেশি হলে এই গাড়ি থেকে ধোঁয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

অনেক আগেই রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী পৌঁছে গিয়েছে। পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে তারা রুট মার্চ করছে। সঙ্গে রয়েছে পুলিশও। ভবানীপুরে বুধবার বিকেলে কেন্দ্রীয় বাহিনীর রুট মার্চ থেকে মাইকে প্রচার চালানো হয়। নির্ভয়ে সকলকে ভোট দিতে যাওয়ার আহ্বান জানায় বাহিনী। বলা হয়, ‘‘আপনারা সকলে সকাল সকাল ভোট দিন। নির্বাচন কমিশনের নিয়মাবলী মেনে চলুন। ভবানীপুর থানা, সিআরপিএফ এবং কমিশন সবসময় আপনাদের সঙ্গে আছে। যে কোনও সমস্যায় বা প্রয়োজনে থানায় ফোন করুন। আমরা কেবল একটি ফোনকলের দূরত্বে রয়েছি। আমরা সবরকম ভাবে সাহায্য করব।’’

কেন্দ্রীয় বাহিনীর টহলে সিআরপিএফ-এর বুলেটনিরোধক গাড়ি।

কেন্দ্রীয় বাহিনীর টহলে সিআরপিএফ-এর বুলেটনিরোধক গাড়ি। —নিজস্ব চিত্র।

আগামী ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল দুই দফায় পশ্চিমবঙ্গে ভোটগ্রহণ হবে। ভোটের ফল জানা যাবে আগামী ৪ মে। তার আগে জেলায় জেলায় প্রচুর পরিমাণে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। কমিশন আগেই জানিয়েছে, যে কোনও মূল্যে নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ এবং অবাধ ভোট নিশ্চিত করা হবে। কোনও অশান্তি বরদাস্ত করা হবে না। তার জন্য এর আগে একাধিক তৎপরতা চোখে পড়েছে। এ বার কাশ্মীর থেকে বুলেটনিরোধক গাড়িও পশ্চিমবঙ্গে নিয়ে আসা হল। খাস কলকাতায় সেই গাড়ি টহলদারি শুরু করে দিয়েছে। ভোটারদের আশ্বাস্ত করা হচ্ছে গাড়ি থেকে।

Advertisement
আরও পড়ুন