কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ছবি: সংগৃহীত।
‘‘শুধু পদ্মের সরকার আনুন, আপনাদের সব পাওনা গন্ডায় শোধ করবে সরকার। কংগ্রেস, সিপিএম, তৃণমূল সব এক। মমতা বলেন, বাইরের লোক বিজেপি চালাবে এ রাজ্যে। মিথ্যা বলছেন। আমি বলছি, এ রাজ্যে বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হবেন বাংলার মাটির ছেলে। তবে বিশেষ কারও ভাইপো হবেন না।’’
‘‘মোদীজির জন্য আপনারা সবাই তাঁর ভাই-ভাইপো। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটাই ভাইপো। তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী করতে চান। মমতাদিদি, কান খুলে শুনে নিন, আপনার সময় সমাপ্ত। আজই বিহারে মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিয়েছেন বিজেপি নেতা। ওড়িশাতেও বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী। এ বার পশ্চিমবঙ্গ। ৫ তারিখের পর অঙ্গ, বঙ্গ এবং কলিঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হবে বিজেপির।’’
‘‘আপনারা জানেন তো কারা চারটে বিয়ে করেন? বিজেপিকে আসতে দিন, এ সব বন্ধ হয়ে যাবে। লাভ জিহাদ আর ল্যান্ড জিহাদ শেষ করব।’’
‘‘চা-বাগানে আধুনিক মডেল স্কুল হবে। শ্রমিকেরা মাসে তিন হাজার করে টাকা পাবেন। উত্তরবঙ্গে এমস বানাতে হবে তো? আমরা সরকার গড়লেই এমস গড়ার কাজ শুরু করব। ৫০০ বেডের ক্যানসার হাসপাতাল হবে। সেটাও উত্তরবঙ্গে। উত্তরবঙ্গের যুব সম্প্রদায়ের জন্য আইআইএম, আইটি গড়ার কাজ বিজেপি-ই করবে। আমাদের গোর্খা ভাইদের সমস্যা সমাধানের কাজ করব। উত্তরবঙ্গে চারটি নতুন শহর বানানোর কাজ করব। ৪৫ দিনের মধ্য়ে পুরো বাংলার সীমান্ত সুরক্ষা কাজ করব।’’
‘‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মহিলা হয়ে মহিলাদের বলেন, সন্ধ্যা ৭টার পর বাড়ির বাইরে যেতে নয়। আমি বলছি, ৫ মে-র পর সকল মহিলা রাত ১২টাতেও বাইরে সুরক্ষিত ভাবে চলাফেরা করতে পারবেন। কারণ, বিজেপি আসছে।’’
‘‘এই নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি গুন্ডাও আপনাদের কারও গায়ে হাত দিতে পারবে না। সেই গুন্ডারাও শুনে নিক, ৫ তারিখের পর বাংলায় সরকার গড়ছে বিজেপি। তাই ২৩ তারিখ (ভোটের দিন) তারা যেন বাড়িতে থাকে। না হলে উল্টো করে ঝুলিয়ে সোজা করব।’’
‘‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের চ্যালা হুমায়ুন কবীরকে নিজের পার্টি থেকে বার করে দিয়ে বাবরি মসজিদ বানাতে চায়। মমতাদিদি এবং তাঁর ভাইপো কান খুলে শুনে নিন, এখানকার মাটিতে বাবরি মসজিদ হবে না।’’
অমিত শাহ বলেন, ‘‘ভয় এবং দুর্নীতি থেকে বাংলাকে রক্ষা করতে এসেছি। এ সব কাজ কি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর ভাইপো করতে পারবেন? এ কাজ শুধু করতে পারে নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন আমাদের লোক।’’
মঞ্চে উঠে অমিত শাহ স্লোগান দিলেন, ‘ভারত মাতা কী জয়’। উপস্থিত জনতার উদ্দেশে প্রশ্ন ছুড়লেন, ‘‘মমতার সিন্ডিকেট সরকারকে সরাতে হবে তো? যদি হয় এত কম স্বরে বললে হবে না। বিজয়ের সংকল্প নিয়ে প্রচণ্ড জোরে বলুন, জয় শ্রীরাম।’’
রাজগঞ্জে সভা শেষ করে অমিত শাহ চলে যান আলিপুরদুয়ারের ফালাকাটায়।
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় এলে ‘বঞ্চিত’ উত্তরবঙ্গের সার্বিক উন্নয়ন হবে। নির্বাচনী ইস্তাহারে বলেছে পদ্মশিবির। উত্তরবঙ্গে নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে ওই কথা বারংবার বলছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তৃণমূলের বিরুদ্ধে দুর্নীতি থেকে বেকারত্ব ইস্যুতে নিশানা করছেন তিনি। এর মধ্যে একটি ভিডিয়ো বার্তায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অভিযোগ করেন, রাজ্য প্রশাসন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে হাজার হাজার গোর্খা যুবক-সহ সাধারণ মানুষের নামে মিথ্যা মামলা করেছে। তিনি বলেন, “পাহাড়ের গোর্খাদের ওপর যে হাজার হাজার মিথ্যা মামলা চাপিয়ে পুলিশি রাজ চালানো হচ্ছে, বিজেপি ক্ষমতায় এলেই তা বন্ধ হবে। আমরা সরকার গঠনের পর সমস্ত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করা হবে।”