অমিত শাহ। — ফাইল চিত্র।
‘‘আমাদের প্রার্থীদের জয়ী করুন। পদ্ম প্রতীকে ভোট দিন। ভাইপোকে নিজের ঘরে পাঠাবেন তো?’’
‘‘শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি, এসএসসি দুর্নীতি, গরু পাচার দুর্নীতি, পিএম আবাস দুর্নীতি করেছে ওরা। ১০ হাজার কোটি টাকা দিদির গুন্ডারা খেয়েছে। এই টাকা ফেরত নেওয়া হবে। ৫ তারিখের পরে সুদ সমেত উসুল করা হবে। দিদির গুন্ডাদের ভয় পাবেন না। কেন্দ্রীয় সরকার বাহিনীর ব্যবস্থা করেছে। গুন্ডা এলে টিকবে না।’’
‘‘কংগ্রেস, তৃণমূল, কমিউনিস্ট আতঙ্কবাদকে প্ররোচনা দেয়। সন্ত্রাসবাদী এলে বিরিয়ানি খাওয়াত। উরিতে হামলা করেছিল, সার্জিক্যাল স্ট্রাইক করেন মোদী। পুলওয়ামায় হামলা করে। এয়ার স্ট্রাইক করেন মোদীজি। পহেলগাঁওয়ে হামলা করে, মোদীজি অপারেশন সিঁদুর চালান। পাকিস্তানের ঘরে ঢুকে মেরেছে। এই দেশ থেকে সন্ত্রাসবাদ, মাওবাদকে নির্মূল করেছে বিজেপি।’’
‘‘অযোধ্যায় রামমন্দির নির্মাণ উচিত ছিল কি না? ৫৫০ বছর ধরে মোগল, কংগ্রেস, দিদি রামলালার মন্দির নির্মাণ আটকে রেখেছিলেন। ২০১৯ সালে মোদীজিকে আপনারা দ্বিতীয় বার জয়ী করে এনেছেন, তিনি রামমন্দির নির্মাণ করান।’’
‘‘বাংলায় দিদি, হুমায়ুন কবীর, যে সঙ্গী ছিলেন, নাটক করে তাঁকে দল থেকে বার করেন। সেই কবীর বাংলায় বাবরি মসজিদ করতে চান। দিদি শুনুন, এই বাংলা ভারতের অংশ। এখানে বাবরি মসজিদ হতে দেব না।’’
‘‘বিজেপির সরকার এলেই অভিন্ন দেওয়ানি বিধি আনা হবে। লভ জিহাদ বন্ধ হবে। সরকারি কর্মীরা সপ্তম বেতন কমিশনের সুবিধা পাবেন। ডিএ পাবেন। সব মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ৩০০০ টাকা দেওয়া হবে প্রতি মাসে। বেকার যুবকেরাও ভাতা পাবেন। ৫ তারিখ থেকে মহিলাদের বাসে চাপলে টিকিট কাটতে হবে না।’’
‘‘ক্যানসার হাসপাতাল হবে উত্তরবঙ্গে। জনজাতি বিশ্ববিদ্য়ালয় হবে উত্তরবঙ্গের আর এক জেলায়। দার্জিলিঙে পর্যটন ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে। উত্তরবঙ্গে চারটি ইন্ডাস্ট্রিয়াল টাউন হবে। যুবসমাজের কর্মসংস্থান হবে। ’’
‘‘এখানে এমস হবে। এই কাজ বিজেপি সরকার করবে। ৫০০ শয্যার কেন্দ্রীয় সরকারি হাসপাতাল করব। উত্তরবঙ্গের যুবক-যুবতীদের জন্য আইআইটি হবে। আইআইএম তৈরি করবে বিজেপি সরকার। রাজবংশী ভাষাকে সংসদে বলার ভাষা করবে বিজেপি।’’
‘‘দিদি উত্তরবঙ্গের সঙ্গে বিমাতৃসুলভ আচরণ করেছেন। বাংলার বাজেট ৪ লক্ষ কোটি টাকা। তার থেকে মুসলমানদের দিয়েছে ৫,৭০০ কোটি টাকা। গোটা উত্তরবঙ্গের জন্য দিয়েছে ১২০০ কোটি টাকা। আপনারা চিন্তা করবেন না। এর বিকাশ হবে আমাদের প্রাথমিক লক্ষ্য। দার্জিলিং থেকে সুন্দরবন পর্যন্ত রাস্তা তৈরি করাবেন মোদী।’’
‘‘আমার প্রার্থী রবীন্দ্রনাথ বসুর উপর হামলা করেছে তৃণমূলের গুন্ডা। ওদের বলছি। যে দিন ভোট, ঘর থেকে বেরোবে না। নয়তো ৫ তারিখ সকলকে জেলে ঢোকাব। আমাদের শত শত কার্যকর্তাকে হত্যা করেছে। আমাদের সরকার আনুন, ওই দোষীদের সাজা দেব।’’
‘‘তুফানগঞ্জের যেখানেই খোদাই হয়, মূর্তি উদ্ধার হয়। আমরা তা দিয়ে জাদুঘর তৈরি করব। এখানকার ১২০০ বছরের পুরনো সভ্যতাকেও এই জাদুঘরে স্থান দেওয়া হবে। এখানকার শিল্পী, ভাওয়াইয়া শিল্পীদের জন্য প্রতিষ্ঠান তৈরি করব। পাটশিল্প পুনরুজ্জীবিত করা হবে। রায়ডাক নদীর পার বাঁধানো হবে। নাটাবাড়িতে পানীয় জল পাঠানো হবে।’’
‘‘সিমেন্ট, বালি যা নেবেন সিন্ডিকেটকে টাকা দিতে হয়। ৫ মে আমরা সিন্ডিকেটের লোকজনকে উল্টো করে টাঙাব।’’
‘‘এখন কমিশন ভোটার তালিকা থেকে বার করেছে। এর পরে ভারতের ভূমি থেকে বার করব। ’’
‘‘ত্রিপুরায় বিজেপি সরকার। অসমে আবার হচ্ছে। বিহারে রয়েছে। বাংলায় বিজেপি সরকার গড়ে দিন, সীমান্ত সিল করে দেব। পাখিও পারাপার করতে পারবে না।’’
‘‘উত্তরবঙ্গের সব মানুষকে সংকল্প করতে হবে। দিদির জঙ্গলরাজ থেকে মুক্ত করতে হবে। ৬ একর ভূমি বিএসএফ-কে দেয় না। আমরা ঠিক করেছি, বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী হলেই ৪৫ দিনে ৬০০ একর জমি দিয়ে কাঁটাতার দেওয়ার কাজ শেষ করব। ’’
‘‘আজ পয়লা বৈশাখ। অনেক শুভকামনা। মদনমোদন দিদি আর ভাইপোর সন্ত্রাস থেকে মুক্ত করুক, তাই প্রার্থনা করছি।’’
‘‘কোচবিহারের শান্তি নষ্ট করেছে দিদিদের গুন্ডা। অনুপ্রবেশকারীদের অবাধ আচরণ। সুযোগ দিন। অনুপ্রবেশকারীদের বেছে বেছে বার করব।’’
‘‘বিজেপি রাজ্যে ক্ষমতায় এলে রাজবংশী ভাষাকে অষ্টম তফসিলের অন্তর্ভুক্ত করা হবে।’’
‘‘নারায়ণী সেনার নামে স্টেট রিজ়ার্ভ পুলিশে নারায়ণী ব্যাটালিয়ান হবে।’’
সভার শুরুতে প্রার্থীদের পরিচয় করালেন অমিত শাহ। তিনি জানালেন, সেখানকার রাজবংশের শাসনের সুনাম ছিল অতীতে।
ভোটের প্রচারে বুধবার ঠাসা কর্মসূচি রয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের। জেলায় জেলায় ঘুরে জনসভা করেছেন তিনি। তাঁর তিনটি জনসভা হয়েছে দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ারে। চতুর্থটি কোচবিহারে।
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় এলে ‘বঞ্চিত’ উত্তরবঙ্গের সার্বিক উন্নয়ন হবে, নির্বাচনী ইস্তাহারে বলেছে পদ্মশিবির। উত্তরবঙ্গে নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে ওই কথা বারংবার বলছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।