WB Assembly Elections 2026

‘ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে বাইকে বিধিনিষেধ নয়’! কমিশনের বিজ্ঞপ্তিকে মান্যতা দিল না হাই কোর্ট, করে দিল সংশোধনও

বিচারপতি রাও বৃহস্পতিবার শুনানিতে কমিশনের উদ্দেশে বলেছিলেন, “আপনারা নিজেদের ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন। নাগরিকদের এই ভাবে হেনস্থা করা হচ্ছে।”

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২৪ এপ্রিল ২০২৬ ২১:১৮

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

কড়া মন্তব্য করেছিলেন আগেই। এ বার ভোটের আগে বাইকে বিধিনিষেধ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের জারি করা বিধিনিষেধ সংশোধন করলেন কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি কৃষ্ণা রাও। শুক্রবার বিচারপতি রাও জানিয়েছেন, বাইক র‍্যালি নিষিদ্ধ থাকবে। ভোটের ১২ ঘণ্টা আগে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া যাত্রী নিয়ে যাওয়া নিষিদ্ধ। ভোটের দিন পরিবার নিয়ে বাইকে করে ভোট দিতে যাওয়া যাবে।

Advertisement

হাই কোর্টের পর্যবেক্ষণ, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩২৪ অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা আছে। কিন্তু সেই ক্ষমতা আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ব্যবহার করতে হবে। কোনও আইন বা সাধারণ কার্যবিধি (স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর)-তে বাইক চলাচল পুরোপুরি বন্ধ করার কথা নেই। তাই এই ধরনের পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞা যুক্তিযুক্ত নয়। অ্যাপ-নির্ভর বাইকের চালক, গিগ-কর্মী এবং অফিসগামী ব্যক্তিদের ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগেও বাইক নিয়ে চলাচলে ছাড় দিয়েছেন বিচারপতি রাও। তবে জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আইডি কার্ড দেখাতে হবে।

মঙ্গলবার কমিশনের তরফে একটি বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানানো হয়েছিল, ভোটের দু’দিন আগে থেকে কোনও বাইক মিছিল করা যাবে না। কমিশনের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ভোটের দু’দিন আগে সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বাইক চালানো যাবে। কিন্তু এই সময় বাইকের পিছনে কোনও যাত্রী বসতে পারবেন না। ভোটের দিন সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বাইক চালানো যাবে। তবে শর্ত হল, ভোট দেওয়ার উদ্দেশ্যে বা জরুরি কোনও কাজে বাইক নিয়ে বেরোলে তবেই এই ছাড় মিলবে।

তবে কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, জরুরি প্রয়োজনে (যেমন চিকিৎসা, পারিবারিক কাজ কিংবা স্কুলে শিশুদের নিয়ে যাওয়া-নিয়ে আসা) এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে না। সামাজিক অনুষ্ঠানে যাওয়ার জন্য যাঁরা বাইকে সওয়ার হবেন, তাঁদেরও ছাড় দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। কমিশন সূত্রে খবর, র‌্যাপিডো কিংবা অন্যান্য অ্যাপভিত্তিক পরিষেবার ক্ষেত্রে এই নিয়ম কার্যকর হবে না। এর বাইরে কেউ বিধিনিষেধ থেকে ছাড় পেতে চাইলে তাঁকে স্থানীয় থানার কাছ থেকে লিখিত অনুমতি নিতে হবে বলে জানায় কমিশন।

কমিশনের এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে বুধবার হাই কোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছিল। বিচারপতি রাও মামলা দায়ের করার অনুমতি দিয়েছিলেন। বিচারপতি রাও বৃহস্পতিবার সেই মামলারই শুনানিতে কমিশনের উদ্দেশে বলেছিলেন, “আপনারা নিজেদের ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন। নাগরিকদের এই ভাবে হেনস্থা করা হচ্ছে।” শুক্রবার মামলার শুনানিপর্বে ব্যক্তিগত বাইক ব্যবহারে নির্বাচন কমিশনের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। বলেন, ‘‘আইন এবং বাস্তবতার মধ্যে সামঞ্জস্য থাকা জরুরি। শুধুমাত্র সম্ভাব্য অপরাধের আশঙ্কায় সাধারণ নাগরিকের অধিকার খর্ব করা যায় না। নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হওয়া যেমন জরুরি, তেমনি নাগরিক স্বাধীনতা রক্ষা করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাই প্রশাসনের আসল চ্যালেঞ্জ।’’

Advertisement
আরও পড়ুন