West Bengal Election 2026

‘পুলিশ দায়িত্ব পালন করতে না পারলে তাদের দোষ’! স্ট্রং রুমের বিতর্কে চার ঘণ্টা পর সাখাওয়াত স্কুল থেকে বেরিয়ে বললেন মমতা

তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পৌঁছে যান সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গণনাকেন্দ্রের স্ট্রংরুমে। গিয়েছিলেন বন্দর বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী ফিরহাদ (ববি) হাকিমও

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ০১ মে ২০২৬ ০০:৩৭
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: সংগৃহীত।

প্রায় চার ঘণ্টা পরে সাখাওয়াত স্কুল থেকে বেরোলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অসন্তোষ প্রকাশ করলেন পুলিশের ভূমিকায়। জানালেন, রাজ্য পুলিশ নিজেদের দায়িত্ব পালন করতে না পারলে সেটা তাঁদের দোষ। পুলিশ এখন আর তাঁর হাতে নেই। তার পরেই তিনি অভিযোগ করেন, পোস্টাল ব্যালট ‘এ দিক ও দিক’ করা হচ্ছে। স্ট্রংরুমের বাইরেও সিসি ক্যামেরা রাখার দাবি তুলেছেন তিনি। জানিয়েছেন, জনগণের ভোট লুটের চেষ্টা হলে জীবন দিয়ে লড়বেন তিনি।

Advertisement

চার ঘণ্টারও বেশি সময় পরে সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলের স্ট্রংরুম থেকে বেরিয়ে মমতা বলেন, ‘‘এখানে আমার কেন্দ্রের ইভিএম রয়েছে। নেতাজি ইন্ডোর-সহ অনেক জায়গায় ইভিএম কারচুপির ফুটেজ প্রকাশ্যে এসেছে। বাইরের লোক এসে পোস্টাল ব্যালট এদিক-ওদিক করছে। তাই এখানে এসেছি।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘অভিযোগ পেয়ে ছুটে এসেছি। তিন-চার ঘণ্টা থেকে গেলাম। এক জনকে বসিয়ে গিয়েছি।’’ তৃণমূল বার বার অভিযোগ করেছে ইভিএমে কারচুপি করা হচ্ছে। তার জবাবে মমতা স্পষ্ট বলেন, ‘‘হ্যাঁ সে জন্যই এসেছি। এক পাক্ষিক কাজ হচ্ছে।’’

অভিযোগ উঠেছে, রাজ্য পুলিশকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি স্ট্রং রুমে। এই নিয়ে মমতা আঙুল তোলেন রাজ্য পুলিশের দিকেই। তিনি বলেন, ‘‘রাজ্য পুলিশ নিজেদের দায়িত্ব নিজেরা পালন করতে না পারলে তাঁদের দোষ। তাদের ব্যর্থতা। এখন পুলিশ আমার হাতে নেই।’’ এর পরেই তিনি সুর চড়িয়ে বলেন, ‘‘কারসাজি হচ্ছে। পোস্টাল ব্যালট এ দিক ওদিক হচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে এসেছি।’’ তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘‘আমায় প্রথমে বাহিনী ঢুকতে দিচ্ছিল না। তার পরে নীতি মেনে এই কেন্দ্রের প্রার্থী হিসাবে ঢুকেছি। কমিশনের নিয়ম রয়েছে, সিলড রুমের বাইরে পর্যন্ত প্রার্থী এবং তাঁর এজেন্ট যেতে পারবেন। আমি তাই গিয়েছি। আরও অনুমতি নিয়ে বাহিনী আমাকে ঢুকতে দিল।’’

তার পরেই মমতা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘‘সাধারণ মানুষ ভোট দিয়েছে। সেই ভোটে কারচুপি হলে, ভোট লুটের চেষ্টা করলে জীবন দিয়ে লড়ব।’’ তাঁর কথায়, ‘‘আমার এজেন্টকে হেনস্থা করেছে। এক পাক্ষিক ভাবে ভোট হয়েছে। তার পরেও ইভিএম লুট করতে যদি এ ভাবে চেষ্টা করে, জীবন বাজি রেখে লড়ব।’’

মমতা যখন সাখাওয়াত স্কুলের ভিতরে ছিলেন, তখন স্কুলের বাইরে তৃণমূল এবং বিজেপি স্লোগান-পাল্টা স্লোগান দিচ্ছিল। আর তাতেই উত্তপ্ত হয় পরিস্থিত। স্কুল ঘিরে ফেলেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরা। এই নিয়ে মমতা বলেন, ‘‘স্লোগান দিলে বলব গুজরাত থেকে এনেছে। ওঁরা স্থানীয় গুজরাতি নয়। এটা আমার এলাকা। বললে এখনই ১০ হাজার লোক দাঁড় করিয়ে দেব। বাইরে থেকে আনার দরকার পড়ে না।’’ তার পরেই তিনি জানান, রাজ্য পুলিশের উপরে চাপ তৈরি করা হচ্ছে। তাঁর কথায়, ‘‘রাজ্য পুলিশ এখন কমিশনের অধীনে। সুপার পাওয়ার ওদের চাপ দিচ্ছে। চমকাচ্ছে। বলছে, মামলা করে দেব। সাসপেন্ড করাব।’’ তার পরেই হুঁশিয়ারি দিয়ে মমতা বলেন, ‘‘পর্যবেক্ষকের কোনও রোল নেই। দু’দিন পরে চলে যাবেন। যাঁরা করছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে তো কেস চলবে।’’

তার পরেই মমতা আরও এক বার কারচুপি নিয়ে অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, ‘‘ইভিএম কারচুপি না হলে কি আসতাম? যন্ত্র সিল করেছে, কিন্তু ব্যান্ডেজ যে কোনও সময় খুলে যাবে।’’ তৃণমূলের অভিযোগ, ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের স্ট্রংরুমের ভিতরে ‘সন্দেহজনক গতিবিধি’ লক্ষ্য করা গিয়েছে। তাদের আরও অভিযোগ, সেখানে নিয়ম না-মেনে পোস্টাল ব্যালট সংক্রান্ত কাজ করা হয়েছে। তা-ই নিয়েই উত্তর কলকাতার জেলা নির্বাচনী আধিকারিক (ডিইও) স্মিতা পাণ্ডে জানান, ‘অ্যাসিস্ট্যান্ট রিটার্নিং অফিসারেরা করিডরের মধ্যে বসেই পৃথকীকরণের কাজ করছিলেন। টর্চ লাইট নিয়ে এখনও সেই কাজ চলছে। (বৃহস্পতিবার) সকাল ১০টায় সব রাজনৈতিক দলকে ইমেইল করে জানানো হয়েছে, বিকেল ৪টে থেকে ওই কাজ শুরু হবে। রিটার্নিং অফিসারদের আমরা বলেছিলাম প্রার্থী এবং তাঁদের এজেন্টকে এই বিষয়টি জানাতে। তাই জানানো হয়নি এই অভিযোগ মিথ্যা।’’ এই প্রসঙ্গে মমতা বলেন, ‘‘পৃথকীকরণ করতে হলে সেই আসনের এজেন্টকে ডাকতে হবে।’’

এর পরে বুথ ফেরত সমীক্ষা নিয়ে মমতা বলেন, ‘‘বুধবার দুপুর ১টায় সব সংবাদমাধ্যমকে (বিজেপি) বলেছে, ওদের নিয়মে সমীক্ষা করতে হবে। ২০১৬ সালে সমীক্ষার ফলে ওরা মন্ত্রক গড়ে দিয়েছিল! ২০২১ সালে তৃণমূলকে ১১৫ আসন দিয়েছিল!’’

বৃহস্পতিবার তৃণমূল নেত্রী মমতা পৌঁছে যান সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গণনাকেন্দ্রের স্ট্রংরুমে। সেখানে গিয়েছিলেন বন্দর বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী ফিরহাদ হাকিমও। স্ট্রংরুম পর্যবেক্ষণের পরে মমতা তৃণমূল প্রার্থীদের রাত জেগে পাহারা দেওয়ার বার্তা দেন। সূত্রের খবর, উত্তর কলকাতার এক তৃণমূল প্রার্থীকে মমতা সর্ব ক্ষণ নজরদারি করার নির্দেশ দেন। শৌচকর্মের জন্য বাইরে গেলে তাঁদের বদলে যেন অন্য লোক মোতায়েন থাকেন, তাও বলেন। জল ও খাবারের ব্যবস্থা করে রাখতেও বলেছেন তিনি। সাখাওয়াত স্কুল থেকে বেরিয়ে মমতা বলেন, স্ট্রংরুমের বাইরেও রাখা হোক একটা সিসি ক্যামেরা, পর্দা, যাতে সাংবাদিকেরা বাইরে বসে সব দেখতে পারেন। তা ছাড়া স্কুলের বাইরে সাংবাদিকদের বসার ব্যবস্থা করার কথাও বলেছেন। তাঁর দলের যে কর্মীরা পাহারা দেবেন, তাঁদের জন্য শৌচালয় রাখার ব্যবস্থাও করতে বলেন তিনি।

Advertisement
আরও পড়ুন