কলকাতা বন্দরে ফিরহাদ হাকিমের সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: সংগৃহীত।
ভূকৈলাশ ময়দানে দাঁড়িয়ে জানান, ওই এলাকা, ওই মন্দির তিনি ঘুরে বেড়িয়েছেন। তিনি বলেন, ‘‘শিলিগুড়িতে মহাকাল মন্দির তৈরি করছি। এখানে এসে সেটা মনে পড়ল। কারও গুজব, মিথ্যাচারে বিশ্বাস করবেন না। কুৎসা শুনে, গদ্দারি-বন্দুক নিয়ে নয়। আমরা শান্তিপ্রিয় মানুষ। আমরা শান্তি চাই। মনে রাখবেন বাংলায় তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়া বিজেপির জেতার কোনও ক্ষমতা নেই। বাংলার মানুষ ওদের চায় না। ওরা এসআইআর করে মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছে। আর মানুষ কালকে ৯৩ পার্সেন্ট ভোট দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। তোমাদের মুখে ঝামা ঘষে দিয়েছে।’’
‘‘কাল যেখানে যেখানে ভোট হয়েছে, সেখানে বিজেপি হেরেছে। পরের দফায় সকলে ভোট দেবেন। হিন্দু-মুসলমান সকলে মিলে ঢেলে ভোট দিন। বাড়িতে আগুন লাগলে হিন্দু-মুসলমানের ভাগাভাগি করে না।’’
মোদীর গঙ্গাবক্ষে সফর থেকে পহেলগাঁও কাণ্ড, ফিরহাদের প্রচারে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নিশানা মমতার। বলেন, ‘‘বিজেপিকে একটা ভোট নয়। এসআইআর করেছে। তার পর এনআরসি করবে। ওদের ভোট দেবেন না। বাংলায় এনআরসি, ডিটেনশন ক্যাম্প করতে দেব না।’’
ফিরহাদ হাকিমের প্রচারে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘আমার মায়ের অপারেশনের সময় তিন বোতল রক্তের দরকার ছিল। ববি বলেছিল, দিদি চিন্তা কোরো না। ববির সঙ্গে মায়ের রক্তের গ্রুপ ম্যাচ করেছিল। ও প্রাণ বাঁচিয়েছিল। রক্তের সম্পর্ক আর কী? আমার মা যখন মারা গেলেন, তখনও অনেক কিছু সামলেছে ববি। আমি প্রথম ফোন ওকেই করি। কী করে ভুলব।’’ তিনি এ-ও বলেন, ‘‘ও আমার মাকে রক্ত দিয়েছে। ও আমার পরিবারের সদস্য। ওর মা ব্রাহ্মণ, বাবা মুসলমান। এমন ক’টা দেখা যায়।’’ মুখ্যমন্ত্রী জানান, এটাই ভারতবর্ষ। তিনি বলেন, ‘‘ওর (ববির) রক্তে হিন্দু আর মুসলমান। মা মারা যাওয়ার সময় বলেছিলাম, আমাকে শ্মশানে যেতে হবে। দাহকার্য করতে হবে। কাকে আর বলব। প্রথমেই ববির নাম মনে পড়েছে। ওকে বলেছিলাম, তুই গিয়ে বন্দোবস্ত কর। আমার পরিবারেরও সকলে থাকবে। আমাদের ব্রাহ্মণদের বাড়িতে পৈতে হয়। আমাদের ঘরের একটি ছেলে, তার নাম আবেশ। ওর যখন পৈতে হয়, তখন মুখ দেখতে আর এক বাবা-মায়ের। তখন ববি আর রুবি আবেশের মুখ দেখেছিল। আফটার হি বিকেম দ্য ব্রাহ্মিণ! আমি কখনও এ সব কথা বলি না। আমি সকলের সঙ্গে থাকি। সকলকে নিয়ে চলতে ভালবাসি। গরিব হোক বা যে যে সম্প্রদায়ের হোন, সকলে আমার কাছে সমান। সংকীর্ণ রাজনীতি কখনও করিনি।’’
মমতা বলেন, ‘‘ববিকে ভোট দেবেন না কি দেবেন না? আপনারা যদি ববিকে না ভোট দেন, তা হলে ববি আমার জায়গায় কাজ করবে কেন?’’
গোপালনগর মোড় থেকে পরমহংসদেব রোড পর্যন্ত পদযাত্রা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার আগে হাওড়া মধ্য বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থীর সমর্থনে হাওড়া ময়দান মেট্রো চ্যানেলে জনসভা করেছেন তৃণমূলনেত্রী।
কলকাতা বন্দরের তৃণমূল প্রার্থী, বিদায়ী মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের সমর্থনে সভা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। সভাস্থল ভূকৈলাশ ময়দান। তার আগে হরিসভা স্ট্রিট ক্রসিং থেকে কার্ল মার্ক্স সরণি পর্যন্ত পদযাত্রা কর্মসূচি ছিল মমতার।
রাজ্যে পৃথক জনসভা থেকে মমতা সরকারকে উৎখাতের ডাক দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। পাল্টা তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিশানায় মোদী-শাহ তথা কেন্দ্রীয় সরকার। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বিরোধিতায় তাঁকে বিঁধে দীর্ঘ পোস্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী।